Header Premium (728×90)

Categories: মতামত

ট্রাম্পের গাজা শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু

গাজা উপত্যকায় চলমান সংকট নিরসনের লক্ষ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে ১৫ দফা শান্তি প্রস্তাব দিয়েছিলেন, তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। নেতানিয়াহু স্পষ্ট করেছেন যে, হামাসকে পুরোপুরি নিরস্ত্র এবং ইসরাইলের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার করা সম্ভব নয়। তার মতে, ট্রাম্পের এই যুদ্ধবিরতি রোডম্যাপ এবং গাজার পুনর্গঠন পরিকল্পনা হামাসকে বাড়তি সুবিধা দিতে পারে, যা ইসরাইলের জন্য মেনে নেওয়া কঠিন। নেতানিয়াহুর এই অবস্থান ট্রাম্পের প্রস্তাবের ওপর কার্যত একটি আগাম ভেটো হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা ইসরাইলকে নিয়ন্ত্রণে রাখার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতার সীমাবদ্ধতাকে সামনে নিয়ে এসেছে।

ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের নীতি ছিল মিত্রদের ওপর নিজস্ব কূটনীতির শর্ত চাপিয়ে দেওয়া। ট্রাম্প চেয়েছিলেন তার প্রস্তাবিত রূপরেখা চাপিয়ে দিয়ে নিজেকে এক অপরিহার্য শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে। তবে নেতানিয়াহুর অনড় অবস্থান ওয়াশিংটনের সেই কৌশলকে দুর্বল করে দিয়েছে। ট্রাম্পের প্রস্তাব অনুযায়ী, হামাস অস্ত্র সমর্পণ করবে এবং একটি অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থার অধীনে আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রক্রিয়া ও ফিলিস্তিনি নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে উঠবে, যার সঙ্গে সঙ্গে ইসরাইলি বাহিনী গাজা থেকে পর্যায়ক্রমে সরে যাবে। কিন্তু নেতানিয়াহুর যুক্তি, হামাসকে সম্পূর্ণ নিরস্ত্র করার বিষয়টি কে নির্ধারণ বা যাচাই করবে তা স্পষ্ট নয়। তিনি মনে করেন, হামাসের হুমকি দূর হয়েছে কি না, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ কর্তৃত্ব ইসরাইলের হাতেই থাকা উচিত, যা কার্যত গাজায় ইসরাইলের অনির্দিষ্টকাল সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখার পথ তৈরি করে।

ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর এই মতপার্থক্য মূলত তাদের ভিন্ন ভিন্ন লক্ষ্যের প্রতিফলন। ট্রাম্প গাজা যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে একটি বড় কূটনৈতিক সাফল্যের সন্ধানে আছেন, যা তার মার্কিন শক্তির সক্ষমতার প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে। অন্যদিকে, নেতানিয়াহু যুদ্ধের প্রতিটি মুহূর্তকে ইসরাইলের বিজয়ের অংশ হিসেবে দেখেন। তার উগ্রপন্থি শরিকরা যে কোনো সমঝোতাকে পরাজয় হিসেবে বিবেচনা করে। নেতানিয়াহু জানেন, ইসরাইল যদি অনড় অবস্থান বজায় রাখে, তবে যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত পিছু হটতে বাধ্য হয়। অতীতেও ইসরাইল বিভিন্ন ক্ষেত্রে মার্কিন ‘রেড লাইন’ উপেক্ষা করে নিজের স্বার্থ রক্ষা করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প যদি এই স্থবিরতা ভাঙতে চান, তবে তাকে ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কাঠামোকে চ্যালেঞ্জ করতে হবে। শুধু কথার লড়াইয়ে কাজ হবে না; এর জন্য সামরিক সহায়তা কমিয়ে দেওয়া, অস্ত্র সরবরাহ ধীর করা বা শর্ত জুড়ে দেওয়ার মতো কঠোর পদক্ষেপের প্রয়োজন। যদি ট্রাম্প প্রশাসন ইসরাইলের ওপর অর্থবহ চাপ সৃষ্টি করতে ব্যর্থ হয়, তবে তা এটাই প্রমাণ করবে যে, মার্কিন নেতৃত্বের ক্ষমতা প্রয়োগের সদিচ্ছার অভাব রয়েছে এবং ইসরাইলি নেতারা বড় কোনো মাশুল ছাড়াই মার্কিন নীতিকে বাধাগ্রস্ত করতে পারেন। ক্ষমতা প্রয়োগের সদিচ্ছা ছাড়া মার্কিন নেতৃত্বের বুলি কেবল লোকদেখানো অভিনয়, যা গাজার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের ক্ষেত্রেও উন্মোচিত হচ্ছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

Recent Posts

রাশিয়ার গ্যাস কমপ্লেক্সে বিস্ফোরণ: নিহত ১ বাংলাদেশি

রাশিয়ার আমুর অঞ্চলে ‘আমুর গ্যাস কেমিক্যাল কমপ্লেক্সে’ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণে ১৫ জন নিহত হয়েছেন,…

4 minutes ago

কানাডায় বাংলাদেশি সিনেমায় জুটি বাঁধছেন জায়েদ খান ও অধরা

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের কাজের পরিধি বাড়ানোর ধারাবাহিকতায় এবার কানাডার মাটিতে বাংলাদেশি সিনেমায় জুটি বাঁধছেন চিত্রনায়ক…

18 minutes ago

২৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ হাজার মিয়ানমার নাগরিককে ফেরত পাঠাচ্ছে মালয়েশিয়া

মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত ৫ হাজার মিয়ানমার নাগরিককে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রথম ধাপের প্রক্রিয়া শুরু হতে…

24 minutes ago

ঢাকার মঞ্চ মাতাতে আসছেন সেই ভাইরাল গানের ওটিলিয়া

রোমানিয়ান পপ তারকা ওটিলিয়া আবারও ঢাকার মঞ্চ মাতাতে আসছেন। আগামী ২৭ নভেম্বর আয়োজিত এই কনসার্টের…

32 minutes ago

কলকাতা বইমেলার সুবর্ণজয়ন্তী: যুক্ত হচ্ছে ইজেডসিসি ও বুক ট্রাস্ট

কলকাতার ঐতিহ্যবাহী আন্তর্জাতিক বইমেলা এবার পা রাখছে সুবর্ণজয়ন্তীতে (৫০ বছর)। এই আয়োজনকে আরও জাঁকজমকপূর্ণ করতে…

35 minutes ago

প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ ও সাবেক সচিব ড. হারুনুর রশিদ আর নেই

বাংলাদেশ সরকারের সাবেক সচিব ও প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ ড. মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ ৮৮ বছর বয়সে মারা…

46 minutes ago

This website uses cookies.