সচরাচর আন্তর্জাতিক প্রচারমাধ্যমে ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের খবর বেশি গুরুত্ব পেলেও, সম্প্রতি পাকিস্তানের অধীনে থাকা আজাদ কাশ্মীরের পরিস্থিতি নতুন করে মনোযোগ কেড়েছে। প্রায় ৪০ লাখ মানুষের এই অঞ্চলে বর্তমানে নির্বাচন চলছে, তবে তা পরিচালিত হচ্ছে কারফিউতুল্য এক অস্থির পরিবেশে। নির্বাচন চলাকালে বিভিন্ন স্থানে গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে এবং জনজীবনে বাংলাদেশের হরতালের মতো স্থবিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সরকার ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখায় প্রথম দফার নির্বাচনে হতাহতের সঠিক তথ্য পাওয়া কঠিন হলেও, সব পক্ষই সহিংসতার বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছে।
আজাদ কাশ্মীরের শাসনব্যবস্থা কাগজে-কলমে স্বায়ত্তশাসিত হলেও এর কাঠামোয় বেশ কিছু জটিলতা রয়েছে। ৫৩ সদস্যের প্রতিনিধি পরিষদে স্থানীয়দের পাশাপাশি ‘আজাদ কাশ্মীর কাউন্সিল’ নামক একটি সংস্থার মাধ্যমে ইসলামাবাদ থেকে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা হয়, যার চেয়ারম্যান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। এই পরিষদের ১৪ সদস্যের মধ্যে ৫ জন চেয়ারম্যান কর্তৃক মনোনীত হন। এছাড়া, প্রতিনিধি পরিষদে ১২টি আসন ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর থেকে আসা শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত, যারা পাকিস্তানের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছেন। এর মাঝে ৮টি আসন নারীসহ কয়েক ক্যাটাগরির মানুষেদের জন্য সংরক্ষিত। এসব আসনের মধ্যে ৬টি রাখা হয়েছে কাশ্মীর থেকে আসাদের জন্য এবং বাকি ৬টি জম্মু থেকে আসাদের জন্য। বাস্তবে ৫৩ আসনের পরিষদে সরাসরি নির্বাচনের জন্য আসন থাকছে ৩৩। নথিপত্র অনুযায়ী কাশ্মীর থেকে আসা শরণার্থী ভোটার ৩০ হাজার এবং জম্মু থেকে আসা ভোটার ৪ লাখ ৩৪ হাজার। যেমন এই ১২ আসনের ৯টি পাঞ্জাবভিত্তিক। স্থানীয় ‘জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি’ এই কোটা ব্যবস্থার তীব্র বিরোধিতা করছে। তাদের মতে, এই আসনের মাধ্যমে মূলত কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা হয় এবং পাঞ্জাবভিত্তিক প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলগুলো এই সুযোগ নিয়ে সরকার গঠনে বাড়তি সুবিধা পায়। প্রতিনিধি পরিষদের এ শেষোক্ত কোটাব্যবস্থা নিয়েই এ মুহূর্তে সহিংসতা চলছে।
২০২৩ সালে গঠিত নাগরিক সমাজের মোর্চা ‘জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি’ এই আসন বিন্যাসকে একধরনের ঔপনিবেশিক কাঠামো হিসেবে দেখছে। তাদের ৩৮ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে বিদ্যুৎ ও খাদ্যশস্যের দাম কমানো এবং প্রশাসনিক সংস্কার। আন্দোলনের জেরে সরকার জুন মাসে অ্যাকশন কমিটিকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে এবং এর নেতা শওকত নাওয়াজ মিরকে আটক করে। এমনকি শওকত মিরকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য এক কোটি রুপি পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল, যা স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে দেয়।
চলমান এই আন্দোলনে গত জুন-জুলাই মাসেই প্রায় ৪০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। মুজাফফরাবাদে নিয়মিত রাস্তাঘাট বন্ধ থাকছে এবং পুঞ্চ বিভাগে কঠোর নিরাপত্তার মাঝে ভোট গ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের ‘আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার’ নিয়ে পাকিস্তানের রাজনৈতিক বয়ানের নৈতিক শক্তি এই পরিস্থিতির কারণে কমে গেছে। আসন্ন আগস্টে সেই দাবির ৭৮ বছর হচ্ছে। একই সঙ্গে, অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ সামলাতে ব্যস্ত পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর আজাদ কাশ্মীরের এই অস্থিতিশীলতা নতুন করে সামরিক চাপ তৈরি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের আইডাহো অঙ্গরাজ্যের টুইন ফলস শহরে একটি জনপ্রিয় ফাস্টফুড রেস্তোরাঁয় বন্দুকধারীর এলোপাতাড়ি গুলিতে বেশ কয়েকজন…
ভৈরবে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে স্থানীয় বিরোধ ও সংঘর্ষ এখন আর শুধু পাড়া-মহল্লায় সীমাবদ্ধ থাকছে না।…
পেরুর নাজকা লাইনস পরিদর্শনে যাওয়ার সময় একটি ছোট বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ১৩ জন নিহত হয়েছেন।…
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদকে ফোন করে…
মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের নতুন নিয়মে বাংলাদেশসহ ৫০টি দেশের নাগরিকদের জন্য ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত বন্ডের…
সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে খুলনা বিভাগের ৬০ জন সাংবাদিকের মাঝে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট, সেফটি হেলমেট…
This website uses cookies.