সখীপুরে অটোভ্যানসহ নিখোঁজ কিশোরের কঙ্কাল উদ্ধার
- আপডেট সময় : ০৪:৩০:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে

টাঙ্গাইলের সখীপুরে অটোভ্যানসহ নিখোঁজ ১৪ বছর বয়সী কিশোর মো. সবুজের কঙ্কাল উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিখোঁজের দীর্ঘ ২৪ দিন পর উপজেলার আন্দি এলাকার শালবন থেকে তার দেহাবশেষ ও পরনের পোশাক উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত সবুজ সখীপুর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কলেজ মোড় এলাকার সিরাজ মিয়ার ছেলে। গত ২৬ সেপ্টেম্বর সকালে অটোভ্যান নিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর সে আর ফেরেনি। অনেক খোঁজাখুঁজির পর ২৭ সেপ্টেম্বর তার বাবা সখীপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। একই দিন গোপালপুর উপজেলার কালীবাড়ী বাজার এলাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় অটোভ্যানটি উদ্ধার করে পুলিশ। তবে ভ্যান উদ্ধার হলেও সবুজের কোনো হদিস না পাওয়ায় তার পরিবার চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে। এ ঘটনায় তদন্তে গাফিলতির অভিযোগ তুলে গত ২৯ সেপ্টেম্বর সবুজের বাবা-মা সংবাদ সম্মেলনও করেছিলেন।
চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় সখীপুর ও গোপালপুর থানা-পুলিশের পাশাপাশি তদন্তে নামে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। গত ১৯ অক্টোবর দুপুরে টাঙ্গাইলের বাসাইল এলাকা থেকে হাবিবুর রহমান (৩৫) নামের এক ব্যক্তিকে এসআরবি গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃত হাবিবুর সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার মাটিয়ারগুন গ্রামের হানিফ উদ্দিনের ছেলে। হাবিবুরকে জিজ্ঞাসাবাদের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার সখীপুরের আন্দি এলাকার শালবনে অভিযান চালানো হয়। সেখানে ঝোঁপঝাঁড়ের ভেতর থেকে কিশোর সবুজের হাড়গোড় ও পোশাক উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত পোশাক ও জুতা সবুজের বলে তার বাবা সিরাজ মিয়া নিশ্চিত করেছেন।
সবুজের মা সখীপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে গোপালপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ তুলে বলেন, ভ্যানসহ দুজন আসামি গ্রেপ্তারের পর ভালোভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করলে অনেক আগেই লাশ পাওয়া যেত। তিনি অভিযোগ করেন, ওসি সাহেব তাদের ধমক দিয়েছেন, বকাবকি করেছেন। জবাবে গোপালপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, ২৭ সেপ্টেম্বর দুজন লোকের সহযোগিতায় তারা ভ্যান উদ্ধার করেন এবং দুজন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেন। গ্রেপ্তারকৃতদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও সবুজের বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তিনি সবুজের মা-বাবার সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ অস্বীকার করেন। সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুরাদ হোসেন জানান, অটোভ্যান ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে কিশোর সবুজকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করতে ও আইনি ব্যবস্থা নিতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।



























