আইনজীবী হওয়ার স্বপ্ন থমকে গেলেও ভ্যানে কাপড় বেচে স্বাবলম্বী ইমাম
- আপডেট সময় : ১২:৩৪:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে

প্রকাশ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২: ২৪
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের ২৩ বছর বয়সী তরুণ ইমাম হাসান। ছোটবেলা থেকেই তার স্বপ্ন ছিল পড়াশোনা শেষ করে একদিন আইনজীবী হবেন। বিদ্যালয়ে মেধাবী ছাত্র হিসেবে সুনামও ছিল তার। কিন্তু পরিবারের তীব্র অভাব-অনটনের কারণে ২০২২ সালে এসএসসি পরীক্ষার পর আর এগোয়নি তার শিক্ষাজীবন। তবে প্রতিকূল পরিস্থিতির কাছে হার না মেনে পরিবারের হাল ধরতে কঠোর পরিশ্রমের পথ বেছে নিয়েছেন তিনি। ধারদেনা করে মাত্র ৬০ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে ভ্যানগাড়িতে ভ্রাম্যমাণ পোশাকের ব্যবসা শুরু করেন ইমাম। আর নিজের অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে এখন প্রতিদিন দুই থেকে পাঁচ হাজার টাকার কাপড় বিক্রি করে মাসে লাখ টাকার বেশি আয় করছেন তিনি।
ইমাম হাসান চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের খিল মুরারী এলাকার মোহাম্মদ ইউনুস মিয়া ও রোকসানা আক্তার দম্পতির বড় ছেলে। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। তার বাবা পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি। বাবার সীমিত আয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হতো পরিবারটিকে। ছোটবেলা থেকেই বাবার এই হাড়ভাঙা খাটুনি ও কষ্ট দেখে বড় হয়েছেন ইমাম। প্রবল আগ্রহ এবং ভালো ফলাফল থাকা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত অর্থাভাবে বন্ধ হয়ে যায় তার পড়াশোনা।
শিক্ষাজীবন থমকে যাওয়ার পর পরিবারের পাশে দাঁড়াতে ইমাম প্রথমে একটি কাপড়ের দোকানে চাকরি নেন। সেখানে কাজ করার সুবাদে কাপড় কেনাবেচার কৌশল, ক্রেতাদের মনস্তত্ত্ব ও চাহিদা বোঝার দক্ষতা অর্জন করেন। কিন্তু দোকানের সামান্য বেতনে পরিবারের চাহিদা মেটানো কঠিন হয়ে পড়ছিল। তাই নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে ৬০ হাজার টাকা ধার নিয়ে শার্ট, প্যান্ট ও টি-শার্ট কিনে ভ্যানগাড়িতে বিক্রি শুরু করেন। প্রতিদিন বিকেলে তিনি ব্যস্ত বারইয়ারহাট পৌর বাজারে ভ্যান সাজিয়ে বসেন এবং রাত ১০টা পর্যন্ত বেচাকেনা করেন।
নিজের ব্যবসার অভিজ্ঞতা নিয়ে ইমাম হাসান বলেন, বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে দুই থেকে পাঁচ হাজার টাকার পোশাক বিক্রি হচ্ছে, যার মাধ্যমে মাসে লাখ টাকারও বেশি আয় হচ্ছে। দিনের বেলা তিনি বাবা-মাকে সংসারের কাজে সাহায্য করেন এবং বিকেলে ভ্যান নিয়ে বাজারে চলে যান। এভাবেই ব্যবসার পাশাপাশি তিনি পরিবারের হাল ধরেছেন।
অতীতের স্মৃতির কথা মনে করে ইমাম বলেন, ছোটবেলায় আইনজীবী হওয়ার স্বপ্ন দেখলেও অভাবের কারণে পড়াশোনা চালাতে পারেননি। তবে কাপড়ের দোকানে কাজ করার সময় অর্জিত ব্যবসাই আজ তার মূল পুঁজি। নিজের উপার্জনে পরিবারকে সহযোগিতা করতে পারাকেই একজন সন্তান হিসেবে সবচেয়ে বড় তৃপ্তি বলে মনে করেন তিনি। লোকলজ্জার তোয়াক্কা না করে মেধা ও শ্রমের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হওয়ার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এই তরুণ।
























