১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসেই দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল দিয়ে ভারত থেকে বিপুল পরিমাণ ইলিশ আমদানি করা হয়েছে। জুলাই ও আগস্ট মাসে মোট ৩ লাখ ৫২ হাজার ৭৮৬ কেজি ইলিশ দেশে এসেছে, যার কাস্টমস ঘোষিত মূল্য ৬ কোটি ৯২ লাখ ৯৪ হাজার ৫১০ টাকা। বেনাপোল বন্দরের ফিশারিজ কোয়ারেন্টাইন পরিদর্শক আশওয়াদুল আলম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মোট ২২টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এসব ইলিশ দেশে এনেছে।
বন্দর সূত্র জানায়, অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে মাত্র তিনটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ২৯ হাজার ৪৪০ কেজি ইলিশ আমদানি করা হয়েছিল, যার ঘোষিত মূল্য ছিল ৩৫ লাখ ৪৮ হাজার ৭৯৬ টাকা। তবে আগস্ট মাসে আমদানি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়। এ মাসে ১৯টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ৩ লাখ ২৩ হাজার ৩৪৬ কেজি ইলিশ আসে, যার কাস্টমস ঘোষিত মূল্য ৬ কোটি ৫৭ লাখ ৪৫ হাজার ৭১৪ টাকা। জুলাইয়ের তুলনায় আগস্টে ইলিশ আমদানি বেড়েছে প্রায় ১১ গুণ, যা দুই মাসের মোট আমদানির প্রায় ৯২ শতাংশ।
ভারত থেকে এই বিপুল পরিমাণ ইলিশ আসার পর বেনাপোল, শার্শা, বাগআঁচড়া, নাভারণ ও যশোর বড়বাজারসহ স্থানীয় বাজারগুলোতে ইলিশের সরবরাহ অনেক বেড়েছে। আমদানিকৃত এই ইলিশের আকার তুলনামূলক বড় এবং দাম দেশি ইলিশের চেয়ে বেশ কম হওয়ায় ক্রেতাদের একটি বড় অংশ এই মাছের দিকে ঝুঁকছেন। বর্তমানে বাজারে ১ কেজি ২০০ থেকে ৩০০ গ্রাম ওজনের দেশি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৩ হাজার ৩০০ থেকে ৩ হাজার ৪০০ টাকা দরে। বিপরীতে, সমপরিমাণ বা তার চেয়ে বড় আকারের আমদানিকৃত ইলিশ বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১ হাজার ৪০০ টাকা কেজি দরে।
তবে আমদানিকৃত এই ইলিশের প্রকৃত উৎস নিয়ে বাজারে এক ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। স্থানীয় আড়তদার ও খুচরা মাছ ব্যবসায়ীদের একাংশের দাবি, কম দামের এই ইলিশের একটি বড় অংশ মিয়ানমার থেকে ভারত হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। এ কারণে বাজারে অনেকে একে 'মিয়ানমারের ইলিশ' হিসেবে বিক্রি করছেন। তবে বেনাপোল ফিশারিজ কোয়ারেন্টাইন কর্মকর্তারা এই দাবি নাকচ করে দিয়েছেন। তাদের মতে, বেনাপোল দিয়ে আসা সব ইলিশই ভারতীয়। মিয়ানমারের ইলিশ সাধারণত চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানি করা হয়। এই দ্বিমুখী বক্তব্যের কারণে সাধারণ ক্রেতারা প্রকৃত উৎস নিয়ে ধোঁয়াশার মধ্যে রয়েছেন।
উৎস নিয়ে বিভ্রান্তির পাশাপাশি বাজারে প্রতারণার অভিযোগও উঠেছে। দেশি ও আমদানিকৃত ইলিশ দেখতে প্রায় একই হওয়ায় অনেক অসাধু ব্যবসায়ী বিদেশি ইলিশকে দেশি বলে বেশি দামে বিক্রি করছেন। ইলিশ কিনতে আসা ক্রেতা আব্দুল আলিম জানান, তিনি দেশি মনে করে একটি ইলিশ কিনেছিলেন। কিন্তু রান্নার পর স্বাদ ও গন্ধে পার্থক্য পেয়ে বুঝতে পারেন সেটি বিদেশি ছিল। দেখতে হুবহু এক হওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের পক্ষে আসল-নকল চেনা কঠিন হয়ে পড়েছে।
বৈধ আমদানির সমান্তরালে অবৈধ পথেও ইলিশ আসার ঘটনা ঘটেছে। গত ২২ জুলাই বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে সাদা মাছের ঘোষণা দিয়ে আনা একটি চালান থেকে প্রায় ৩৬০ কেজি (১২ কার্টন) ভারতীয় ইলিশ জব্দ করে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে সীমান্ত ও বন্দর এলাকায় নজরদারি আরও বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
মাছ ব্যবসায়ী সাইদুল ইসলাম বলেন, কম দামি ও বড় আকারের এই ইলিশগুলো মিয়ানমার থেকে ভারত হয়ে আসছে বলে তারা ধারণা করছেন। সস্তা হওয়ায় ক্রেতারা এগুলো বেশি কিনছেন, যার ফলে দেশি ইলিশের চাহিদা কমে যাচ্ছে এবং ব্যবসায়ীরা লোকসানের মুখে পড়ছেন। তবে মিয়ানমারের মাছ ভারত হয়ে বেনাপোলে প্রবেশের দাবির সপক্ষে সরকারি কোনো প্রমাণ মেলেনি।
যশোর ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সেলিমুজ্জামান জানিয়েছেন, ভারত থেকে আমদানি করা ইলিশ অবশ্যই সঠিক ঘোষণা ও পরিচয় দিয়ে বিক্রি করতে হবে। বিষয়টি তারা পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রয়োজনে বাজারে বিশেষ অভিযান চালানো হবে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।
গাজীপুর মহানগরের ধীরাশ্রম এলাকায় ট্রাক ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর…
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের ভাষণের সময় সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার…
মাগুরার শ্রীপুরে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি এবং মেয়াদোত্তীর্ণ বীজ ও কীটনাশক…
গণমাধ্যমে সরকারের পাশাপাশি বিরোধী দলের বক্তব্যও তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয়…
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন কিংবা স্বাভাবিক—কোনো শিশুকেই শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হবে না বলে জানিয়েছেন মহিলা…
খাগড়াছড়িতে ৭৭৮ জন শিক্ষার্থীকে ৯২ লাখ ৫ হাজার টাকার শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন…
This website uses cookies.