চট্টগ্রামে ১০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে এক চিকিৎসককে চেম্বারে গিয়ে গুলি করে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদ ও তাঁর সহযোগী মো. রায়হানের নাম ব্যবহার করে এই হুমকি দেওয়া হয়েছিল। গতকাল সোমবার রাতে চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাঁদের গ্রেপ্তার করে।
ভুক্তভোগী চিকিৎসকের নাম এম ওয়াই এফ পারভেজ। তিনি চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার চিকনদণ্ডী ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ১ নম্বর দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডের আমান বাজারের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়মিত রোগী দেখেন।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা সবাই বর্তমানে কারাগারে থাকা সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমনের সহযোগী। ডেভিড ইমন আবার বড় সাজ্জাদের অন্যতম সহযোগী হিসেবে পরিচিত। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—কামরুল হাসান ওরফে সাগর (২৫), মো. রিকু (২৫), মো. তরিকুল ইসলাম ওরফে রোহিত (২০), আহমদুল্লাহ ওরফে মাসুম মেম্বর (৪০), আহমদ রেজা শাকিল (২৫), মো. মানিক (৪০) ও নুরুল আলম। তাঁদের কাছ থেকে বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, গত ২ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ১০টা ৫৪ মিনিটে চিকিৎসকের সিরিয়াল নেওয়ার জন্য ব্যবহৃত মুঠোফোনে একটি বিদেশি নম্বর থেকে কল আসে। কলটি রিসিভ করেন চিকিৎসক পারভেজের সহকারী হ্যাপি বড়ুয়া। ওপাশ থেকে বড় সাজ্জাদ পরিচয় দিয়ে ওই চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলতে চাওয়া হয়। পরে ফোনটি পারভেজের কাছে দিলে তাঁকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১০ লাখ টাকা প্রস্তুত রাখতে বলা হয়। অন্যথায় চেম্বারে এসে মেরে ফেলবেন বলে হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ৩ সেপ্টেম্বর হাটহাজারী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন চিকিৎসক পারভেজ।
জিডির পর চিকিৎসক পারভেজকে হোয়াটসঅ্যাপে লিখিত ও অডিও বার্তা পাঠিয়ে হুমকি দিতে থাকেন বড় সাজ্জাদের সহযোগী পরিচয় দেওয়া রায়হান। এক বার্তায় বলা হয়, ‘টাকা না পাঠালে অনেক বড় বিপদ হবে। পেছনে লোক লাগানো আছে, গাড়ির নম্বরও আছে। ১০০ জন পুলিশ পাহারা দিলেও চেম্বারে রোগী সেজে গিয়ে গুলি করে মেরে ফেলা হবে।’ নির্ধারিত সময়ে চাঁদা না দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে চাঁদার পরিমাণ দ্বিগুণ করে ২০ লাখ টাকা দাবি করা হয় এবং বলা হয়, ‘১০ লাখের বদলে ২০ লাখ টাকা দিতে হবে।’
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা মূলত বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও ব্যক্তির কাছে সন্ত্রাসী রায়হান, বড় সাজ্জাদসহ অন্যান্যদের নাম ভাঙিয়ে চাঁদা দাবি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছিলেন। তাঁরা চিকিৎসক পারভেজকেও একইভাবে হুমকি দিয়েছেন।
চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা police সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) কাজী মোহাম্মদ তারেক আজিজ বলেন, গত ২৯ জুলাই যশোর সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালানোর সময় সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তিনি বর্তমানে কারাগারে থাকলেও তাঁর সহযোগীরা বাইরে থেকে মানুষের মনে ভয় দেখিয়ে চাঁদা তুলছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, এরা বড় সাজ্জাদ বা রায়হানের নির্দেশে কিংবা অনেক সময় তাঁদের অজান্তেই তাঁদের নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি করে আসছিল।
এদিকে গ্রেপ্তারের পর কিছুটা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন চিকিৎসক এম ওয়াই এফ পারভেজ। তিনি বলেন, ‘হুমকি পাওয়ার পর থেকে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছিলাম। কারণ আমাকে প্রতিদিন অনেক রোগী দেখতে হয় এবং বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করতে হয়। পুলিশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করায় স্বস্তি পাচ্ছি, তবে এই চক্রের মূল হোতাদের গ্রেপ্তার করতে হবে। একই সঙ্গে আটক ব্যক্তিরা যেন সহজে জামিনে বের হতে না পারে, তা নিশ্চিত করা জরুরি।’
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে কনজ্যুমারস এসোশিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। বিপিসির…
শিল্পের সত্য ও ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে হেগেল ও মার্কসের নন্দনতত্ত্বের ভিন্নধর্মী দৃষ্টিভঙ্গি ও তাদের দর্শনের তুলনামূলক…
আওয়ামী লীগের নির্দেশে যারা অগ্নিসংযোগ ও বোমাবাজির মাধ্যমে দেশ অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র করছে, তাদের কোনো…
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার ফলে পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধির পাশাপাশি সবজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়তে শুরু…
রাজধানীর বনশ্রীতে পথকুকুরকে খাবার দিতে গিয়ে স্থানীয়দের হামলার শিকার হয়েছেন এক তরুণী। গত মঙ্গলবার রাতে…
পাবনার ঈশ্বরদীতে ক্রেতার পরিচয়ে দোকানে ঢুকে সাড়ে ৪ লাখ টাকা মূল্যের দুই ভরি স্বর্ণের মালা…
This website uses cookies.