Header Premium (728×90)

Categories: জাতীয়

নাফিজ এসেছিল তবে লাশ হয়ে: জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের এক শহীদ

নাফিজ বলেছিল মা আসতেছি। কিন্তু নাফিজ এসেছে, তবে লাশ হয়ে। ২০২৪ সালের ৪ঠা আগস্ট দিনটি তার পরিবারের জন্য এক শোকগাঁথা। সেদিন সকাল সাড়ে ৬টায় ঘুম থেকে উঠে মাথায় টুপি দিয়ে পড়তে বসে নাফিজ। মা নাজমা আক্তার তাকে নামাজ পড়তে দেখে জিজ্ঞেস করলে নাফিজ হেসে উত্তর দেয়। রান্নার ফাঁকে নাফিজ বারবার মায়ের কাছে ছুটে গিয়ে রান্না নিয়ে প্রশ্ন করে। মা বেগুন ভাজা দিয়ে ডিম রান্নার কথা জানালে নাফিজ তা পছন্দ করে।

বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি পাস করা নাফিজ ঢাকা নৌবাহিনী কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছিল। মাত্র ১৭ বছর বয়সে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নেয়া এই বীর শহীদ ৪ঠা আগস্ট ফার্মগেটে গুলিবিদ্ধ হন। মানবজমিনে প্রকাশিত রিকশার পাদানিতে নাফিজের ছবি দেখে পরিবার তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়। বাবা গোলাম রহমান সন্তানের লাশ বহন করার ভারে এখনো স্তব্ধ হয়ে যান। নাজমা আক্তার জানান, সকাল সাড়ে আটটার দিকে নাফিজ তার কাপড় নিজে ধোয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে মাকে কষ্ট করতে নিষেধ করেছিল। সকাল ১০টার দিকে মা খেতে ডাকলে নাফিজ নিজেই খাবার খেয়ে মেসেঞ্জারে বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ করছিল।

বাবার বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি দেখে নাফিজ তার কাছে কিছু টাকা বায়না ধরে। বাবা তাকে ২০ টাকা দিলে সে আরও কিছু টাকা চায়। তখন আরও ১০ টাকা হাতে দিয়ে বাবা বলেন, “তুমি কিন্তু একা বাইরে যাবে না। আমি ফিরে এসে তোমাকে বাইরে নিয়ে যাবো।” বাবা বাইরে যাওয়ার সময় নাফিজও বের হয়ে আবার বাসায় ফিরে আসে।

এর মধ্যে নাফিজের ফোনে তিনবার কল আসে তার বন্ধুর। মা নিজেই ফোনটি নাফিজকে ধরিয়ে দেন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নাফিজ মায়ের বাধা উপেক্ষা করে বলে, “আমি একটু সামনে থেকে আসিতেছি আম্মু।” বেলা ৩টার দিকে বন্ধুর মোবাইল থেকে ফোন দিয়ে নাফিজ মাকে জানায় সে ‘এক দফা এক দাবির মিছিলে’ আছে। বাসায় ফেরার অনুরোধে সে ‘আসতেছি আম্মু’ বলে ফোন রাখে, যা ছিল তার শেষ কথা।

সন্ধ্যা ঘনিয়ে কারফিউ শুরুর আগে নাফিজের বড় ভাই ফেসবুক আইডিতে তার নিখোঁজ হওয়ার কথা জানায়। এরপর পরিবারের সদস্যরা তেজগাঁও, কলাবাগান ও শাহবাগ থানায় খোঁজ নিয়ে ঢাকা মেডিকেল ও পিজি হাসপাতালে যায়। কুর্মিটোলা হাসপাতালে যাওয়ার পথে মানবজমিন অফিসের নিচে নাফিজের ভাই রিকশার পাদানিতে তার ছবি দেখতে পায়। পরে ছোট মামার মাধ্যমে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নাফিজের মরদেহ পাওয়ার তথ্য নিশ্চিত হয়।

৫ই আগস্ট ভোরের আলোয় নাফিজকে গোসল করানোর পর তার দাদার বাড়ি দক্ষিণখানে নিয়ে যাওয়া হয়। মা নাজমা আক্তার তার সন্তানের কপালে ও গালে শেষ চুমু খেয়ে বিদায় জানান। জুলাইয়ের শেষ দিকে নাফিজ মাকে বলেছিল, “দেশ পরিবর্তন করতে হলে কাউকে না কাউকে জীবন দিতে হবে।” একজন শহীদের মা হিসেবে নাজমা আক্তারের এখন একটাই চাওয়া, তিনি যেন নাফিজ হত্যার বিচার দেখে যেতে পারেন এবং ভবিষ্যতে কোনো সরকার ক্ষমতার লোভে যেন আর ছাত্র হত্যা না করে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

Recent Posts

মাদারগঞ্জে অনিয়মের দায়ে দুই ফার্মেসিকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার বালিজুড়ী বাজারে অনিয়মের অভিযোগে দুই ফার্মেসিকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ…

23 minutes ago

নেত্রকোনা-১ আসনের সাবেক এমপি মোশতাক আহমেদ রুহী গ্রেপ্তার

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ইকবাল রোডের একটি বাসা থেকে নেত্রকোনা-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মোশতাক আহমেদ রুহীকে…

54 minutes ago

নিউ ইয়র্কে নামছে না নেতানিয়াহুর উড়োজাহাজ

যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে নিউ ইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করছেন না ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন…

1 hour ago

মূল্যস্ফীতির চাপে নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রাখল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

সার্বিক মূল্যস্ফীতি নিম্নমুখী প্রবণতায় থাকলেও তা চলতি অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রার বেশি হওয়ায় নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রেখেছে…

1 hour ago

টাকায় আন্তর্জাতিক লেনদেন সহজ করতে নতুন নির্দেশনা বাংলাদেশ ব্যাংকের

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সহজ করতে বিদেশি ট্রেডিং পার্টনার ব্যাংকের নামে প্রারম্ভিক জমা ছাড়াই টাকা ভস্ট্র অ্যাকাউন্ট…

1 hour ago

পাকিস্তান–চীন নতুন সীমান্ত চুক্তি নিয়ে ভারতের তীব্র প্রতিক্রিয়া

পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে স্বাক্ষরিত নতুন সীমান্ত চুক্তিকে আইনি ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত। বিতর্কিত…

1 hour ago

This website uses cookies.