Header Premium (728×90)

জেলা/স্থানীয়

জলঢাকার ১০ টি নদী দখল ও নাব্যতা হারিয়ে মরা খালে পরিনত।হারিয়ে যেতে বসেছে মানচিত্র থেকে

হাসানুজ্জামান সিদ্দিকী হাসান নীলফামারী প্রতিনিধিঃ
নদী মাতৃক বাংলাদেশের সব জায়গার মতো নীলফামারীর জলঢাকার বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে রয়েছে প্রায় ১০টি নদী। কিন্তু দখল, দূষণ ও নাব্যতা হারিয়ে এসব নদীগুলো মরা খালে পরিণত হয়ে মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে।

উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে থাকা নদীগুলো দিয়ে বড় নৌকা করে একসময় বিভিন্ন স্থান থেকে পন্য সামগ্রী আমদানি রফতানি করা হতো। বর্তমান সময়ে বর্ষা কালে কিছু শেলো মেশিন চালিত নৌকা চলাচল দেখা গেলেও এখন দেখা যাচ্ছে উল্টো চিত্র। বর্তমানে নদী সমুহের বুকে পানি শুন্য হয়ে ধু – ধু বালু চরে পরিনত হওয়ায় নেই আগের মতো জলরাশি।অপরদিকে নদীগুলোর নেই তার তর্জন গর্জন সহ পানি প্রবাহ। দখল দুষন, আর নাব্যতা হারিয়ে নদী সমুহ বিলিনের পথে ।

উপজেলার কৈমারী ইউনিয়নের বড়ঘাট, শৌলমারী, ডাউয়াবাড়ী, বালাগ্রাম, গোলমুন্ডা, শিমুলবাড়ী, খুটামারা, ধর্মপাল, ইউনিয়ন সহ বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে থাকা নদীগুলোপ্রভাবশালীদের দখল আর নদী সমুহ খননের অভাবে পরিনত হয়েছে মরা খাল সহ ধু ধু বালু চরে। ফলে কৃষি নির্ভর এলাকা হিসাবে বিপাকে পড়েছে কৃষক। বর্ষাকালে বন্যার পানি আটকে থাকায় দুর্বিষহ জীবন যাপন করেন নদী পারের মানুষজন। বর্তমান সময়ের সেচ মৌসুমে নদীতে পানি না থাকায় ভোগান্তিতে পড়তে হয় কৃষকদের।

কৈমারীর গাবরোল হাজীপাড়া গ্রামের কৃষক সু্বহান মিয়া জানান বুল্লাই নদী থেকে পানি দিয়ে আগে ফসল উৎপাদন করতাম।কিন্তু বর্তমানে নদী ভরাট ও দখল হয়ে যাওয়ায় সেই ব্যাবস্থা এখন আর নেই।
তিস্তার পার এলাকার শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ বলেন নদীগুলোকে বাঁচাতে হলে নদীর সীমানা নির্ধারণ করে খনন করা জরুরী।

এদিকে উপজেলার বুল্লাই, চারাল কাটা, যমুনেশ্বরী, ধামজাই, চিকলি, ইছামতী, বুড়ি তিস্তা, বড় তিস্তা সহ প্রায় ১০ টি নদী রয়েছে।
আর পানি শুন্য এই নদী সমুহের বুকে জেগে উঠা ধু ধু বালু চরে এখন কৃষকেরা দখল করে ধানের চারা, ভুট্টা রোপন সহ বিভিন্ন ফসল চাষাবাদ করছেন।

ফলে নদী সমুহ নাব্যতা হারিয়ে পরিনত হয়েছে ফসলের জমি। আর অনেকে এ নদী সমুহে ঘের দিয়ে পানি আটকে মাছ চাষ করছেন।
গত কিছু দিন ধরে সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা ও জানাযায় উপজেলার প্রায় সকল নদীর একই চিত্র। এতে একদিকে যেমন ফসলে সেচের অভাব দেখা দিয়েছে,অন্যদিকে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে দেশীয় মাছ।

কৈমারী ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পেয়ারী বেগম বলেন ভরাট হয়ে যাওয়া নদী গুলো খনন করা হলে এ এলাকার কৃষকেরা অনেক উপকৃত হতো। তাই নদী সমুহ পুনঃ খনন করার দাবী জানান। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জায়িদ ইমরুল মোজাক্কিন জানান উপজেলার নদী সমুহ খননের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।আশা করি নদী সমুহ খনন করা সম্ভব হবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডালিয়া বিভাগীয় প্রকৌশলী জানান,সারা দেশের মতো এ জেলার নদী সমুহ একসঙ্গে খননের প্রকল্প দেওয়া হয়েছে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে। তা অনুমোদিত হলে আমরা কাজ শুরু করব।

editor

Recent Posts

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফশিল স্থগিত ও ৭০ অনুচ্ছেদ চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ঘোষিত তফশিল স্থগিত চেয়ে দায়ের করা রিট আবেদন…

1 minute ago

বাংলাদেশ-ভারতের বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতা দূর করতে বাণিজ্যমন্ত্রীর আহ্বান

বাংলাদেশ ও ভারতের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতা দূর করা, ভিসা সহজ করা এবং…

3 minutes ago

১৭ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এলো ২৩ হাজার কোটি টাকা

আগস্ট মাসের প্রথম ১৭ দিনে দেশে ১৮৮ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা…

14 minutes ago

মুখস্থনির্ভরতা কমিয়ে খেলাধুলা ও আনন্দের মাধ্যমে শিক্ষার আহ্বান প্রতিমন্ত্রীর

প্রাথমিক শিক্ষায় মুখস্থনির্ভরতার পরিবর্তে খেলাধুলা ও আনন্দের মাধ্যমে শিশুদের শেখানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রাথমিক ও…

34 minutes ago

রাজবাড়ীতে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে অপর ট্রাকের ধাক্কা, চালক নিহত

রাজবাড়ীর কালুখালীতে রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে পেছন থেকে অপর একটি ট্রাকের ধাক্কায় মো.…

40 minutes ago

দেশে ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, নতুন রোগী ৭৫৩

সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতালে…

46 minutes ago

This website uses cookies.