বন্দরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: নিহত ২, গ্রেফতার ৩
মোঃ ইসমাইল হোসেন,স্টাফ রিপোর্টার
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে আধিপত্য বিস্তার, মাদক ব্যবসা ও ইজিবাইক স্ট্যান্ডে চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের দফায় দফায় সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। শনিবার (২১ জুন) দিনগত রাতে বন্দর উপজেলার রেললাইন, হাফেজীবাগ ও শাহী মসজিদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও র্যাবের যৌথ অভিযানে এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
নিহতরা হলেন—কুদ্দুস মিয়া (৬০), হাফেজীবাগ এলাকার মৃত সাদেক আলীর ছেলে এবং মেহেদী হাসান (৪২), শাহী মসজিদ এলাকার মৃত আব্দুল জলিল মুন্সির ছেলে। কুদ্দুস মিয়া পেশায় রাজমিস্ত্রি ও মেহেদী বন্দর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক ছিলেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বন্দরের ২১ নম্বর ওয়ার্ডে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার নিয়ে দুইটি পক্ষ—রনি-জাফর গ্রুপ ও মেহেদী-বাবু-শ্যামল গ্রুপ—বিরোধে লিপ্ত ছিল। কয়েকদিন আগে চুরি হওয়া টিন বিক্রি নিয়ে বাকবিতণ্ডা হয় দুই পক্ষের। এর ধারাবাহিকতায় শুক্রবার দু’পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত আটজন আহত হন।
শনিবার বিকেলে উভয় পক্ষ এলাকায় সশস্ত্র মহড়া দেয়। রাত ১০টার দিকে রেললাইন এলাকায় রনি ও জাফর গ্রুপের সদস্যরা কুদ্দুস মিয়াকে কুপিয়ে হত্যা করে। নিহত কুদ্দুসের ছেলে পারভেজ ওই গ্রুপের সক্রিয় সদস্য। পারভেজকে না পেয়ে প্রতিপক্ষরা কুদ্দুস মিয়াকে ডেকে নিয়ে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে বলে অভিযোগ।
নিহতের ছোট ভাই দুদু মিয়া জানান, “ভাই চায়ের দোকানে ছিলেন। তাকে ডেকে নিয়ে পারভেজের কথা জানতে চায়। পরে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মেরে ফেলে রেখে যায়। আমরা হাসপাতালে গিয়ে মরদেহ পেয়েছি।”
এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। রাত সাড়ে ১১টার দিকে রনি ও জাফর গ্রুপের সদস্যরা মেহেদী হাসানকে ধরে স্থানীয় একটি ক্লাবের সামনে নিয়ে গিয়ে বেধড়ক মারধর ও ছুরিকাঘাত করে। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
মেহেদীর দুলাভাই মাহফুজুল হক সৌরভ বলেন, “যখন প্রথম হত্যাকাণ্ড হয়, তখন মেহেদী বাড়িতেই ছিলেন। পরে প্রতিপক্ষের লোকজন পারভেজকে খুঁজতে গিয়ে রাস্তায় মেহেদীকে পেয়ে তাকে তুলে নিয়ে যায় এবং নির্মমভাবে হত্যা করে।”
এ ঘটনায় গ্রেফতার তিনজন হলেন—নান্নু মিয়ার ছেলে শান্ত (২৬), আলমচানের ছেলে রবিন (২৬) ও সেলিম চৌধুরীর ছেলে সোহেল চৌধুরী (২৮)।
বন্দর থানার একাধিক সূত্র জানায়, নিহতদের মধ্যে একজন বিএনপির স্থানীয় পর্যায়ের নেতা এবং অপরজন তার সমর্থক। দীর্ঘদিন ধরে দলীয় পরিচয়ের আড়ালে এলাকায় প্রভাব বিস্তার, মাদক ব্যবসা ও চাঁদাবাজির দখল নিয়ে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে এই দুটি পক্ষ।
এ বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ঘটনার অন্যতম পৃষ্ঠপোষক হিসেবে অভিযুক্ত সাবেক কাউন্সিলর ও মহানগর বিএনপির বহিষ্কৃত সদস্য হান্নান সরকারকে পাওয়া যায়নি।
নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী বলেন, “আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। ঘটনায় জড়িতদের ধরতে অভিযান চলছে।”
নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার বলেন, “এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। যারা জড়িত এবং যারা নেপথ্যে রয়েছে, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের ধরতে অভিযান চালাচ্ছে।”
২০১৬ সালে গুম ও নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দিয়েছেন ডা. আশিক উল…
শরীয়তপুরের জাজিরায় একের পর এক বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় জনমনে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। কখনো বসতবাড়ি,…
ডারউইন টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মাঠে নেমেই সাকিব আল হাসানকে ছাড়িয়ে সর্বোচ্চ সংখ্যক ক্রিকেটারের সঙ্গে আন্তর্জাতিক…
সালজবুর্গের রেড বুল অ্যারেনায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে অ্যাস্টন ভিলাকে ২-১ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো ইউরোপিয়ান সুপার…
সাউথ এশিয়ান জাস্টিস ক্যাম্পেইনের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ভারতে…
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নতুন কমিটিকে সাদরে গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বিদায়ের বার্তা দিয়েছেন সংগঠনটির বিদায়ী কেন্দ্রীয়…
This website uses cookies.