Header Premium (728×90)

মালয়েশিয়ায় অভিযানে ৬৫ হাজারের বেশি আটক, তীব্র আতঙ্কে বাংলাদেশিরা

মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসনবিরোধী অভিযানে ধারাবাহিক ধরপাকড়ে প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা তীব্র হয়ে উঠেছে। দেশটির কর্মক্ষেত্র, কারখানা, নির্মাণাধীন ভবন, রেস্তোরাঁ, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে আবাসিক এলাকাগুলোতে নিয়মিত তদারকি চালাচ্ছে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা ও অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। বৈধ কাগজপত্র না থাকা, ভিসার মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়া বা অনুমোদিত শর্ত লঙ্ঘনের দায়ে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের সঙ্গে গ্রেপ্তার হচ্ছেন বাংলাদেশি কর্মীরাও। ঋণ পরিশোধ ও পরিবারের ভরনপোষণের তাগিদে রেমিট্যান্স পাঠানো এসব শ্রমিকের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন চরম সংশয় দেখা দিয়েছে।

মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের হালনাগাদ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত সারা দেশে মোট ১১ হাজার ১১০টি সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসব অভিযানে ১ লাখ ৪৮ হাজার ১৫৩ জন বিদেশি নাগরিকের নথিপত্র যাচাই-বাছাই করে ৬৫ হাজার ৬৯৯ জন অবৈধ অভিবাসীকে আটক করা হয়েছে। একই সময়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও অবৈধ কর্মী নিয়োগের দায়ে ১ হাজার ৯৬৬ জন নিয়োগকর্তাকে আটক করা হয়। এ ছাড়া ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৪৫ হাজার ৫৯৭ জন বিদেশি নাগরিককে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। সামগ্রিক হিসাবে কতজন বাংলাদেশি আটক বা প্রত্যাবাসিত হয়েছেন, তার আলাদা তথ্য নেই।

চলতি অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহের পরিসংখ্যানেই অভিযানে তীব্রতার চিত্র পরিষ্কার হয়ে ওঠে। ১২ থেকে ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত মাত্র পাঁচ দিনে ২৫২টি অভিযান চালিয়ে ৪ হাজার ৯০৭ জনের কাগজপত্র পরীক্ষা করে ২ হাজার ১৫৬ জন বিদেশিকে আটক করা হয়েছে। এ সময়ে ৫১ জন নিয়োগকর্তার বিরুদ্ধেও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি পরিচালিত কয়েকটি বড় অভিযানের তথ্যে দেখা যায়, গত ১৩ সেপ্টেম্বর কুয়ালালামপুরের লেবুহ পুদু এলাকায় সমন্বিত অভিযানে প্রায় আড়াই হাজার বিদেশির তথ্য যাচাই করে ৪৭২ জনকে আটক করা হয়, যাদের মধ্যে ৩৬৪ জনই ছিলেন বাংলাদেশি। এ ছাড়া ৮ অক্টোবর সেলাঙ্গরের সেরি কেম্বাঙ্গান ও বান্দার বারু ক্লাং এলাকায় ৩০৭ জনের মধ্যে ১৭৪ জন বিদেশিকে আটক করা হয়, যার মধ্যে পাঁচজন বাংলাদেশি ও ছয়জন স্থানীয় নিয়োগকর্তা ছিলেন।

অভিবাসন আইনের প্রয়োগ নিয়ে মালয়েশীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, বৈধ ভ্রমণ নথি বা অবস্থানের অনুমতি না থাকা, ভিসার মেয়াদ পার হওয়া এবং অনুমোদিত খাতের বাইরে কাজ করাকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। এমনকি সোশ্যাল ভিজিট বা সামাজিক ভ্রমণ ভিসায় এসে কাজের অনুমতি ছাড়া কর্মসংস্থানে যুক্ত হওয়াও বেআইনি। ফলে শুধু অবৈধভাবে ঢোকা ব্যক্তিরাই নন, যারা বৈধ নথিপত্র নিয়ে প্রবেশের পর ভিসার শর্ত ভঙ্গ করেছেন তারাও গ্রেপ্তারের ঝুঁকিতে রয়েছেন।

অভিবাসন আইন অমান্যকারীদের পাশাপাশি অবৈধ নিয়োগকারীদের বিরুদ্ধেও আর্থিক ও প্রশাসনিক কঠোরতা বজায় রাখা হয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের দায়ে নিয়োগকর্তাদের কাছ থেকে ৪ কোটি ১২ লাখ ৫৭ হাজার ৭৫০ রিঙ্গিত জরিমানা আদায় করা হয়েছে। একই সময়ে বিদেশি অভিবাসীদের কাছ থেকে আদায় করা হয়েছে ৩ কোটি ৭১ লাখ ২৩ হাজার ৪২০ রিঙ্গিত। অন্য এক কর্মসূচির মাধ্যমে প্রবাসীদের স্বেচ্ছায় দেশে ফেরার সুযোগ দিতে পরিচালিত ‘মাইগ্র্যান্ট রিপ্যাট্রিয়েশন প্রোগ্রাম ২.০’-এর আওতায় ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৩ লাখ ১২ হাজার ১৪৬ জন কর্মী নিবন্ধন করেছেন। এ কর্মসূচির আওতায় আদায় হয়েছে ১৫ কোটি ৫৯ লাখ ৮৮ হাজার ১৪০ রিঙ্গিত। তবে নিবন্ধিত সবারই প্রত্যাবাসন সম্পন্ন হয়েছে কি না বা তাদের মধ্যে বাংলাদেশি কতজন, তা স্পষ্ট নয়।

বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রবাসে যাওয়ার আগে স্পষ্ট ধারণার অভাব, মধ্যস্থতাকারী ও দালালের প্রতারণা, প্রতিশ্রুত কাজ না পাওয়া এবং নিয়োগকর্তার গাফিলতিতে কাজের অনুমতি নবায়ন না হওয়ার কারণেই বহু কর্মী অবৈধ হয়ে পড়েন। আবার ভিসার মেয়াদ শেষে দেশে ফেরার আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় অনেকে বাধ্য হয়ে অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে থেকে যান। তবে আটক সবাইকে একইভাবে অবৈধ বলা সমীচীন নয়; কারণ অনেকের ক্ষেত্রে ভিসার মেয়াদী জটিলতা বা নথিপত্রের প্রযুক্তিগত ভুল থাকতে পারে। এ কারণে ব্যক্তিদের নথিপত্র আইনগত প্রক্রিয়ায় পৃথকভাবে যাচাই করা দরকার।

সমস্যার টেকসই সমাধানে অবৈধ নিয়োগে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া এবং নিয়োগকর্তাদের আইনগত দায়বদ্ধতা নিশ্চিতের তাগিদ দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশি কর্মীদের নিজেদের পাসপোর্ট, ভিসা ও কর্মানুমতির মেয়াদ নিয়মিত পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নথিপত্রে সমস্যা দেখা দিলে মধ্যস্থতাকারীদের নতুন করে টাকা না দিয়ে বাংলাদেশ হাই কমিশন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হয়েছে। বৈধ কর্মী হয়রানির শিকার হলে অভিযোগ জানানোর কার্যকর ব্যবস্থা এবং আটক ব্যক্তিদের জন্য কনস্যুলার সহায়তা নিশ্চিত করাও জরুরি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor

Recent Posts

মোহাম্মদপুরে ৭ মামলার আসামি গ্যাং নেতা ‘কেন্তা ফিরোজ’ গ্রেপ্তার

রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে হত্যা, চাঁদাবাজি ও মাদকসহ সাতটি মামলার আসামি গ্যাং নেতা ফিরোজ ওরফে…

2 minutes ago

মোদি সরকারের চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছেন বাম ছাত্রনেত্রী নেহা বোরা

ভারতের জেন-জি প্রজন্মের আন্দোলনের প্রধান প্রতীক হয়ে উঠেছেন ২৯ বছর বয়সী বামপন্থী ছাত্রনেত্রী নেহা বোরা।…

4 minutes ago

সৌদিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত শাহেদের মরদেহ দেশে হস্তান্তর, বগুড়ায় দাফন

সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দরে হুতি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত প্রবাসী শাহেদ আহমেদের মরদেহ দেশে এনে…

8 minutes ago

অবসর নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস করলেন নেইমার

পেশাদার ফুটবল থেকে অবসর নেওয়ার পর এক বছর সম্পূর্ণ অলস সময় কাটানোর পরিকল্পনা করছেন নেইমার।…

22 minutes ago

ইরানে হামলার ইঙ্গিত মার্কিন রাষ্ট্রদূতের, ট্রাম্পের দাবি কিছুই জানেন না

ইরানে নতুন করে সামরিক হামলার সম্ভাবনা নিয়ে মন্তব্য করেছেন তুরস্কে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত টম ব্যারাক।…

1 hour ago

আজ নাগরিক কবি শামসুর রাহমানের ৯৮তম জন্মবার্ষিকী

আজ বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি শামসুর রাহমানের ৯৮তম জন্মবার্ষিকী। তাঁর কবিতায় নাগরিক জীবনের সুখ-দুঃখ,…

1 hour ago

This website uses cookies.