ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিরোধী দলগুলোর বিক্ষোভ ও পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ‘ইন্ডিয়া’ জোটের পূর্বঘোষিত এই কর্মসূচিকে ঘিরে পুলিশের ব্যাপক ধরপাকড় ও বাধার মুখেও কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্রা কৌশলে আকাশবাণী ভবনের ভেতরে ঢুকে পড়েন। নির্বাচন কমিশন কার্যালয় থেকে মাত্র ৫০ মিটার দূরত্বে অবস্থিত এই ভবনে অবস্থান নিয়ে তাঁরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। সিইসির পদত্যাগের দাবিতে বিরোধীদের এই আন্দোলনের কারণে দিল্লির বিস্তীর্ণ অঞ্চলের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা স্তব্ধ হয়ে পড়ে।
মঙ্গলবার সকালে সংসদ ভবন থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ মিছিলটি নির্বাচন কমিশনের দিকে যাওয়ার সময় পুলিশি বাধার মুখে পড়ে। অধিকাংশ বিরোধী সংসদ সদস্যকে পুলিশ আটক করে সরিয়ে নিলেও রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে নীতি আয়োগের ঠিক উল্টো দিকে অবস্থিত আকাশবাণী ভবনের লোহার গেট পেরিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে একটি বিশাল বটগাছের বাঁধানো তলার ওপর বসে পড়েন তাঁরা। পরবর্তীতে তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন কে সি বেনুগোপাল, ভূপিন্দর সিং হুডা ও পবন খেরার মতো শীর্ষ কংগ্রেস নেতারা। পুলিশ তাঁদের ঘিরে রাখলেও তাঁরা সেখান থেকে সরেননি। বিকেল পৌনে তিনটার দিকে রাহুল গান্ধী লোহার ফটকের ভেতর থেকে গণমাধ্যমকে বলেন, ৩০০ বিরোধী সদস্য শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন কমিশনে যেতে চেয়েছিলেন, যা তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার। কিন্তু পুলিশ তাঁদের বাধা দিয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত ভোট চুরি করে ক্ষমতা ধরে রেখেছেন এবং সিইসি জ্ঞানেশ কুমার তাঁদের মদদ দিচ্ছেন।
এর আগে বেলা ১১টায় কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, সোনিয়া গান্ধী, পি চিদম্বরম, রাহুল, প্রিয়াঙ্কা এবং সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ যাদব, তৃণমূলের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, সৌগত রায়, মহুয়া মৈত্র, ডেরেক ও’ব্রায়ান, আরজেডির মনোজ ঝা ও এনসিপির সুপ্রিয়া সুলেসহ বিরোধী জোটের দেড় শতাধিক সংসদ সদস্য সংসদ ভবন থেকে মিছিল শুরু করেন। তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন কংগ্রেসের ছাত্রসংগঠন এনএসইউআইয়ের শত শত কর্মী। তাঁদের হাতে ছিল ‘ভোট চোর গদ্দি ছোড়’ এবং ‘জ্ঞানেশ, ইটস ডান ব্রো, টাইম টু রিজাইন’ লেখা পোস্টার ও প্ল্যাকার্ড। বিক্ষোভকারীদের রুখতে দিল্লি পুলিশ ৩১ কোম্পানি আধা সামরিক বাহিনীসহ প্রায় সাড়ে তিন হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করে তিন স্তরের ব্যারিকেড তৈরি করেছিল। একপর্যায়ে রাহুল গান্ধী রিজার্ভ ব্যাংক ও নীতি আয়োগ অফিসের সামনে ব্যারিকেডের ওপর উঠে জাতীয় পতাকা ওড়াতে থাকেন। পরে পুলিশ অখিলেশ যাদব ও ডেরেক ও’ব্রায়ানসহ অনেককে আটক করে বাসে তুলে নিয়ে যায়।
মিছিলের শুরুতে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে অভিযোগ করেন, এই সরকার মানুষের ভোটদানের অধিকার কেড়ে নিতে চায় এবং জ্ঞানেশ কুমার সরকারের হাতের পুতুল হিসেবে কাজ করছেন। সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদবও মিছিলে যোগ দিয়ে নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতিত্বের তীব্র সমালোচনা করেন। তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, পশ্চিমবঙ্গে ৯০ লাখের বেশি ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে এবং লাখ লাখ ভোটারের অধিকারের প্রশ্ন অমীমাংসিত রাখা হয়েছে। তবে এই বিক্ষোভকে কটাক্ষ করে বিজেপি নেতারা বলেছেন, এটি রাহুল গান্ধীকে নেতা হিসেবে তুলে ধরার জন্য বিরোধীদের আরও একটি ব্যর্থ প্রচেষ্টা মাত্র। উল্লেখ্য, গত ২ অক্টোবর গান্ধীজয়ন্তী থেকে ‘জ্ঞানেশ হটাও’ আন্দোলনের অংশ হিসেবে যন্তর মন্তরে নিয়মিত বিক্ষোভের পর আজ এই নির্বাচন কমিশন অভিযানের ডাক দেওয়া হয়েছিল। তবে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের এই কর্মসূচিতে ডিএমকে ও আম আদমি পার্টির (আপ) প্রতিনিধিরা অংশ নেননি।
জুলাই যোদ্ধাদের সুরক্ষা ও দায়মুক্তি সাংবিধানিকভাবে নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত বিশেষ…
পশ্চিমবঙ্গের নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে উপ-নির্বাচন চলাকালীন মারধর, ভয় দেখানো এবং কারচুপির অভিযোগে সরব বিরোধীরা। দুই…
সার্বিয়ার ভিসা দেওয়ার নাম করে কিছু ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে শত শত যুবকের কাছ থেকে ৮…
বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে বাংলাদেশে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা বিতরণে ধনী-গরিব বৈষম্য। ধনীরা বছরে…
তারল্যসংকটের কারণে ন্যাশনাল ব্যাংক পিএলসির বরিশাল সদর রোড শাখায় জমা রাখা বরিশাল জেলা পরিষদের প্রায়…
মালয়েশিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় সাইফুল ইসলাম নামে শেরপুর সদর উপজেলার এক বাংলাদেশি প্রবাসী নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার…
This website uses cookies.