Header Premium (728×90)

ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা: মিত্রদের ‘পক্ষ’ বেছে নেওয়ার হুঁশিয়ারি

ইরানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। যদিও মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে এই নিষেধাজ্ঞার বিস্তারিত বা এর আওতাভুক্ত বিষয়গুলো ঘোষণা করেনি, তবে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, যেসব দেশ বা পক্ষ ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখবে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে।

গত সপ্তাহে মার্কিন অর্থমন্ত্রী এক বক্তব্যে মিত্র দেশ এবং অন্যান্য পক্ষগুলোকে সতর্ক করে বলেন, ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক রাখার ক্ষেত্রে তাদের যেকোনো একটি অবস্থান বেছে নিতে হবে—হয় তারা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে থাকবে, নয়তো বিপক্ষে। তাঁর এই মন্তব্য থেকে পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে যে, ইরানের ওপর ওয়াশিংটনের আসন্ন নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা ও সাফল্য বহুলাংশে নির্ভর করছে তেহরানের সঙ্গে ব্যবসা করা দেশ ও প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টির ওপর।

এই অর্থনৈতিক চাপের পাশাপাশি সামরিক তৎপরতাও জোরদার করা হচ্ছে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ কঠোরভাবে কার্যকর করতে দেশটির সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।

মার্কিন ট্রেজারি মন্ত্রীর বক্তব্যের আরেকটি তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার পতন নিয়ে তাঁর মন্তব্য। তিনি উল্লেখ করেছেন, ইরানের বর্তমান সরকার পতনের দিকে ধাবিত হচ্ছে। এর মাধ্যমে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে, ইরানের ওপর সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের মূল লক্ষ্য কেবল দেশটির নীতি বা অবস্থান পরিবর্তন করা নয়, বরং সেখানে ‘রেজিম চেঞ্জ’ বা শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটানো। যদিও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মহলে এই চরমপন্থী অবস্থান প্রকাশ করার মতো ব্যক্তির সংখ্যা খুবই কম।

অতীতে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ বা যুদ্ধ শুরুর সময়ে মার্কিন প্রশাসন দাবি করেছিল যে, শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন তাদের মূল লক্ষ্যগুলোর মধ্যে ছিল না। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে এবং মার্কিন কর্মকর্তাদের সাম্প্রতিক বক্তব্যে এটি স্পষ্ট যে, তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপ বহুগুণ বাড়িয়ে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটানোর দিকেই হাঁটছে ওয়াশিংটন। নতুন নিষেধাজ্ঞার চূড়ান্ত রূপরেখা প্রকাশিত হওয়ার পর এর প্রকৃত পরিধি ও প্রয়োগের বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

Recent Posts

মক্কা জোটে নতুন দেশ যুক্ত হওয়ার পথ খোলা রয়েছে: পাকিস্তান

মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে (এমজেডিএ) নতুন কোনো দেশের অন্তর্ভুক্তির পথ উন্মুক্ত রয়েছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তান।…

12 seconds ago

পাহাড়ের ঢালে হামাগুড়ি দিয়ে প্রাণ বাঁচালেন তাঁরা

নেপালের ভয়াবহ বন্যায় পর্বত থেকে ধসে পড়া বরফ, পাথর ও মাটির সংমিশ্রণে সৃষ্ট প্রবল ঢল…

9 minutes ago

বাড়িতেই ১০-১২ হাজার বইয়ের সংগ্রহ গড়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা শাজাহান

একাত্তরে অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. শাজাহান এখন লড়ছেন অজ্ঞতার বিরুদ্ধে। ঢাকার নবাবগঞ্জের…

11 minutes ago

নেপালের অবকাঠামো ধ্বংস কেন বারবার বিপর্যয়ের মুখে পড়ছে?

নেপালের পাহাড়ি এলাকায় গড় হিসাবের ওপর ভিত্তি করে তৈরি অবকাঠামো কেন চরম আবহাওয়ার মুখে বারবার…

29 minutes ago

হিমবাহধসের পর এবার ভূমিকম্পে কাঁপল তিব্বত

তিব্বতে ভয়াবহ হিমবাহধস ও বন্যার রেশ কাটতে না কাটতেই ৫ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে।…

39 minutes ago

তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে সাউথ ব্লকের চাপ ও অস্বস্তি

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে দিল্লির সাউথ ব্লকের চাপ এবং তুরস্ক-সৌদি-পাকিস্তান প্রতিরক্ষা জোটকে…

42 minutes ago

This website uses cookies.