বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফর সম্পূর্ণ নিজস্ব একটি বিষয় হলেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারত সফরে নিতে দিল্লির সাউথ ব্লক রীতিমতো জোরজবরদস্তি শুরু করেছে। ভারতীয় কূটনীতিকরা কখনো হুমকি আবার কখনো প্রলোভন দেখিয়ে কথা বলছেন। বীণা সিক্রি ও রিভা গাঙ্গুলীসহ অনেকেই এ নিয়ে একই সুরে কথা বলছেন। সাবেক ভারতীয় কূটনীতিক বীণা সিক্রি তো সময় বেঁধে দিয়ে বলেছেন যে, তারেক রহমানের হাতে সময় খুবই কম। একজন স্বাধীন দেশের প্রধানমন্ত্রীকে এমন সময় বেঁধে দেওয়া চরম অকূটনৈতিক ভাষা ও শিষ্টাচারবহির্ভূত আচরণ। অথচ তিনি নিজেই আবার প্রত্যর্পণের শর্তকে অপ্রয়োজনীয় ও কূটনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত বলছেন।
দিল্লি থেকে প্রকাশিত ‘দ্য ট্রিবিউন’ পত্রিকার বাংলাদেশি সংস্করণে আরেক ভারতীয় কূটনীতিক বিদ্যা ভূষণ সোনিকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, তারেক রহমান ভারত না গেলে সব যোগাযোগ ও সুযোগ বন্ধ হয়ে যাবে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এসব সুযোগ-সুবিধা কার পক্ষে তা খতিয়ে দেখা দরকার। বিগত পলাতক সরকারের আমলে আদানির সাথে করা ২৫ বছর মেয়াদি অসম চুক্তির কারণে বাংলাদেশ চড়া মূল্যে বিদ্যুৎ নিতে বাধ্য হচ্ছে। বিদ্যুৎ না নিলেও ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হবে এবং চুক্তি বাতিল করলে বিশাল অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। একইভাবে ডিজেল আমদানির ক্ষেত্রেও সাউথ ব্লক বাংলাদেশকে একই ধরনের চুক্তিতে বাধ্য করেছে। ফলে স্পষ্টতই সুবিধাভোগী পক্ষটি বাংলাদেশ নয়, বরং ভারত নিজেই।
চব্বিশের জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী বাংলাদেশকে নিয়ে ভারতের মূল অস্বস্তি ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া কিছু পদক্ষেপের মধ্যে নিহিত। ২০২৬ সালের আগস্টে মক্কায় বসে তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তান একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে, যা মূলত ন্যাটোর মতো একটি ইসলামি জোটে রূপ নিয়েছে। এই চুক্তির আওতায় কোনো সদস্য দেশ আক্রান্ত হলে তা সবার ওপর হামলা হিসেবে গণ্য হবে। ড. ইউনূস বাংলাদেশকে এই জোটে অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছিলেন বলে মনে করে সাউথ ব্লক, যা তাদের তীব্র অস্বস্তির কারণ। এ কারণেই তারা তারেক রহমানকে ভারতে নিয়ে অভাবনীয় সম্মান ও সুবিধার লোভ দেখাচ্ছে এবং ড. ইউনূসের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে আছে।
তিন দেশের এই নতুন জোটকে খোদ যুক্তরাষ্ট্র স্বাগত জানানোয় ভারতের অস্বস্তি আরও বেড়েছে। একই সাথে তুরস্কের সহযোগিতায় বাংলাদেশের ড্রোন ও মনুষ্যবিহীন যুদ্ধাস্ত্র তৈরি, প্রযুক্তি বিনিময় এবং কৌশলগত সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা শিল্পে অংশীদারিত্বের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশের সেনাপ্রধানও তুরস্ক সফর করে এসেছেন। ভারত যেকোনো মূল্যে বাংলাদেশকে এই জোটে যুক্ত হওয়া থেকে বিরত রাখতে চায়। এখানে শেখ হাসিনা বা শহীদ শরীফ ওসমান হাদির খুনিদের আশ্রয় দেওয়ার বিষয়টি বিশ্ব রাজনীতির দাবার ঘুঁটি মাত্র, যা নিয়ে বাংলাদেশের কিছু বুদ্ধিজীবী ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক অতি-উৎসাহী।
এই জোটের সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তি অত্যন্ত সুসংহত। সৌদি আরবের অর্থ ও জ্বালানি, তুরস্কের আধুনিক যুদ্ধাস্ত্র ও ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সেনাবাহিনী এবং পাকিস্তানের পরমাণু শক্তি ও সামরিক জনবল একে একটি শক্তিশালী জোটে পরিণত করেছে। অন্যদিকে, রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা ও ডলারের জোগান দেওয়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বর্তমানে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে। বিশ্ব রাজনীতিতে কোণঠাসা হয়ে ভারত এখন সম্পূর্ণ চাণক্যনীতি ও ষড়যন্ত্রের ওপর নির্ভর করছে।
এই সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে তারেক রহমানের সরকার অত্যন্ত চতুর ও স্মার্ট কূটনীতি প্রয়োগ করেছে। খুনিদের প্রত্যর্পণের শর্ত জুড়ে দেওয়া একটি বড় কৌশলগত চাল, যা দিয়ে ভারতকে চাপে ফেলা হয়েছে। দিল্লির সাউথ ব্লক যদি তাদের বাড়াবাড়ি অব্যাহত রাখে, তবে বাংলাদেশের উচিত হবে আনুষ্ঠানিকভাবে এই তিন দেশের প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দেওয়া। ভারতকে বুঝতে হবে যে, বাংলাদেশকে আর আজ্ঞাবহ নয়, বরং সমমর্যাদা ও সমশক্তির চোখে দেখতে হবে।
নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য জরুরি সহায়তা দিতে ৩ কোটি…
ঋণের চাপে সপরিবারে আত্মগোপনে থাকা চাঁদপুরের স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু দাসকে চট্টগ্রামের পটিয়া এলাকা থেকে আটক…
যৌথ প্রতিরক্ষা ও সামরিক সহযোগিতা জোরদারে পাকিস্তান ও কুয়েতের মধ্যে একটি চুক্তি সই হয়েছে। বৃহস্পতিবার…
মালয়েশিয়ায় কলিং ভিসায় যেতে ইচ্ছুক বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বায়ো-মেডিকেল স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রক্রিয়ায় নতুন নির্দেশনা জারি…
যুদ্ধ ও ডলার-সংকটে থাকা মিয়ানমারে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানির মূল্য তৃতীয় কোনো দেশ থেকে পরিশোধের সুযোগ…
নেপাল-তিব্বত সীমান্ত এলাকায় আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে এখন পর্যন্ত ৪৬৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।…
This website uses cookies.