ভারতে বেসরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দ্রুত বিস্তারের ফলে তরুণদের জন্য উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়লেও, এর সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শিক্ষাঋণ, বেকারত্ব এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ। নয়াদিল্লির নিকটবর্তী গ্রেটার নয়ডার ‘নলেজ পার্ক’ এলাকাটি এর একটি বড় উদাহরণ, যেখানে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা হয়েছে অসংখ্য বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট এবং প্রযুক্তি ও গবেষণা কেন্দ্র। বর্তমানে এই এলাকায় প্রায় এক লাখ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন, যাদের অনেকেই পরিবারের সঞ্চয় ভেঙে কিংবা চড়া সুদে ব্যাংকঋণ নিয়ে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণ করতে ভর্তি হয়েছেন।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত এক দশকে ভারতে বেসরকারি কলেজের সংখ্যা প্রায় তিন গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালে দেশটির উচ্চশিক্ষায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ৫০ লাখ, যা গত দশ বছরে ৪১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি শিক্ষার্থী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত। তবে শিক্ষার্থীর এই বিশাল সংখ্যার বিপরীতে ভালো বেতনের চাকরির সুযোগ তৈরি হচ্ছে না। আজিম প্রেমজি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণা অনুযায়ী, ভারতের ২৫ বছরের কম বয়সী প্রায় ৪০ শতাংশ স্নাতক বেকার। এছাড়া বছরে ৫০০ ডলারের বেশি বেতনের নতুন চাকরি তৈরি হচ্ছে মাত্র আড়াই লাখের মতো।
দেশের শীর্ষ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির সুযোগ অত্যন্ত সীমিত এবং সেখানে পড়াশোনার খরচও তুলনামূলকভাবে কম, পাশাপাশি চাকরির সম্ভাবনাও বেশি। ফলে অধিকাংশ শিক্ষার্থীকে উচ্চ খরচে বেসরকারি কলেজে ভর্তি হতে হচ্ছে, যেখানে বিনিয়োগের বিপরীতে কাঙ্ক্ষিত আয় নিশ্চিত নয়। শিক্ষা খাতের উদ্যোক্তা অক্ষয় সাক্সেনার মতে, তরুণদের কাছে একটি ভুল ধারণা বিক্রি করা হয়েছে যে ডিগ্রি মানেই চাকরি। তার হিসাবে, প্রতি বছর প্রায় ৪ লাখ শিক্ষার্থী ২০ হাজার ডলারের বেশি খরচ করে বেসরকারি প্রকৌশল কলেজে ভর্তি হন, অথচ স্নাতকদের গড় বার্ষিক বেতন প্রায় ৩ হাজার ডলার।
প্রকৌশল ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের চিত্রও বদলে গেছে। একসময় ইনফোসিস ও টাটা কনসালট্যান্সি সার্ভিসেসের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো বিপুলসংখ্যক কর্মসংস্থান করলেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অগ্রগতির ফলে এসব চাকরির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। গ্রেটার নয়ডার অনেক শিক্ষার্থীই এখন ঋণের বোঝা ও পারিবারিক আর্থিক চাপে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। কেউ কেউ পড়াশোনার পাশাপাশি ফ্রিল্যান্স কাজ করে খরচ চালাচ্ছেন এবং তাদের প্রত্যাশা এখন বড় কোনো চাকরি নয়, বরং এমন একটি আয় যা দিয়ে শিক্ষাঋণ পরিশোধ করে পরিবারের ওপর চাপ কমানো যায়।
সামগ্রিক এই পরিস্থিতি ভারতের তরুণদের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। সাম্প্রতিক ছাত্রবিক্ষোভে পরীক্ষাব্যবস্থা সংস্কারের দাবির পাশাপাশি চাকরি ও ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর হতাশা প্রকাশ পেয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, শিক্ষার বিস্তার যদি কর্মসংস্থানের সুযোগের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হয়, তবে উচ্চশিক্ষা তরুণদের জন্য সামাজিক উন্নয়নের সিঁড়ির পরিবর্তে ঋণ ও হতাশার ফাঁদে পরিণত হতে পারে।
প্রকাশ : ১৯ আগস্ট ২০২৬, ১২: ৩৭আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০২৬, ১৩: ১৩
বৈদ্যুতিক গাড়ি ও আধুনিক প্রযুক্তির কাঁচামাল ‘বিরল মৃত্তিকা’ মিয়ানমারকে চীন ও ভারতের প্রভাব বিস্তারের নতুন…
রাজধানীর বাজারে সবজির দাম কিছুটা কমলেও চিনি, ভোজ্যতেল, আটা, ময়দা ও ডিমের বাড়তি দামে সাধারণ…
মৌলভীবাজারের বড়লেখা সীমান্তে বিজিবির সঙ্গে ভারতীয় চোরাকারবারিদের গোলাগুলির ঘটনায় বলাই দাস নামে এক ভারতীয় নাগরিককে…
প্রযুক্তির এই দ্রুত বিকাশের যুগে ইসলামের দাওয়াহ বা প্রচারের ক্ষেত্রে যেমন অসীম সম্ভাবনার দুয়ার খুলেছে,…
নেপাল-তিব্বত সীমান্ত অঞ্চলে ভয়াবহ আকস্মিক ঢলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৪৭২ হয়েছে। দুর্যোগের ৪৮ ঘণ্টার…
নেপালে আকস্মিক বন্যা ও ভয়াবহ ভূমিধসের পর চট্টগ্রামে বসে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন…
This website uses cookies.