যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের অবসান ঘটাতে আলোচনার কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় ইরান তার সামরিক কৌশল ‘পুরোপুরি আক্রমণাত্মক’ পর্যায়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। একই সময়ে ওয়াশিংটন জানিয়েছে, বর্তমান অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির মেয়াদ তারা আর বাড়াবে না। এই সিদ্ধান্তের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। রয়টার্সের সঙ্গে আলাপকালে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, যদি কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়, তবে হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ ভাঙতে ইরান সুনির্দিষ্ট ও সময়োপযোগী সামরিক পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত রয়েছে।
হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বর্তমানে তুঙ্গে। এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল পুনরায় শুরু করার উদ্যোগ থমকে গেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া এই সংঘাত যে আরও দীর্ঘায়িত হবে, তা এখন স্পষ্ট। গত ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল, যার লক্ষ্য ছিল ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত শান্তিচুক্তি নিশ্চিত করা। ওই সমঝোতায় সব পক্ষকে অবিলম্বে সামরিক অভিযান বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছিল। তবে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দেশের মতবিরোধের জেরে সেই সমঝোতা কার্যত ভেস্তে গেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন যে, জুনের অন্তর্বর্তী চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের নেই। ইরান অবশ্য সমঝোতা স্মারকের পঞ্চম ধারা অনুযায়ী হরমুজ প্রণালি পরিচালনার অধিকার নিজেদের বলে দাবি করছে, যা যুক্তরাষ্ট্র পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে। এই বিরোধের জেরে ইরান হরমুজ দিয়ে চলাচলকারী অনুমোদনহীন জাহাজে হামলা চালানো শুরু করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। গত ৭ জুলাই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা করেন যে, ওই সমঝোতা এখন শেষ হয়ে গেছে।
এরই মধ্যে পর্দার আড়ালে কিছু কূটনৈতিক যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সঙ্গে পরোক্ষ যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স ডিরেক্টর তুলসি গ্যাবার্ড ইরাকি কুর্দিস্তানের এক নেতার মাধ্যমে আইআরজিসি কমান্ডার জেনারেল আহমাদ ভাহিদির কাছে যুক্তরাষ্ট্রের বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন বলে জানা গেছে। ট্রাম্প নিজেও এই যোগাযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। জ্যারেড কুশনারও জানিয়েছেন যে, ইরান সরকারের বিভিন্ন স্তরের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যোগাযোগ এখন আগের চেয়ে বেশি সক্রিয়।
যুদ্ধের পাশাপাশি ইরানের অর্থনীতিও চরম সংকটের মুখে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, মুদ্রার অবমূল্যায়ন, জ্বালানি সংকট ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটির অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নাজুক হয়ে পড়েছে। কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, নতুন করে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলে তা সরকারের বৈধতার ওপর আঘাত হানতে পারে। অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালি পরিচালনার বিষয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে আলাদা আলোচনা চলছে। তবে এই উদ্যোগে বাধা দিলে ওমানকে ভয়াবহ বোমা হামলার হুমকি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
আসন্ন রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে এবং বাজার সিন্ডিকেটের কারসাজি রুখতে আগেভাগেই প্রস্তুতি…
অস্ট্রেলিয়ার ডারউইনে অনুষ্ঠিত টেস্ট ম্যাচে শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়াকে পরাজিত করায় বাংলাদেশ ক্রিকেট দল, কোচ ও সংশ্লিষ্ট…
রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোড এলাকায় বাটা সিগন্যালের কাছে একটি পরিত্যক্ত শপিং ব্যাগ থেকে ককটেল সদৃশ চারটি…
লিবিয়ার বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে বন্দি থাকা আরও ১৭৪ জন বাংলাদেশি নাগরিক দেশে ফিরেছেন। মঙ্গলবার ভোরে…
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তা আর নবায়ন না করার…
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে সাবেক ইউপি সদস্য মো. ইসমাইল হোসেনের বাড়িঘর…
This website uses cookies.