আগামী রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে এবং বাজার সিন্ডিকেটের কারসাজি রুখতে আগেভাগেই প্রস্তুতি শুরু করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। সাধারণত রমজান এলে ভোজ্যতেল, চিনি, ডাল, ছোলা ও খেজুরের মতো পণ্যের চাহিদা স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে অনেক বেড়ে যায়। এই সুযোগে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী যাতে কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারে, সেজন্য পর্যাপ্ত মজুত গড়ে তোলার পাশাপাশি বাজার তদারকি জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে (সম্ভavy ৭ বা ৮ ফেব্রুয়ারি) পবিত্র রমজান মাস শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
রমজান উপলক্ষে সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে ১২ হাজার ৫০০ টন ছোলা এবং ৩ হাজার ৩০০ টন খেজুর কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ বিষয়ে সম্প্রতি বাণিজ্য সচিবের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সল আজাদ। রমজানে নিম্ন আয়ের এক কোটি পরিবারের কাছে ভর্তুকি মূল্যে ভোজ্যতেল, চিনি, মসুর ডাল, ছোলা ও খেজুর বিক্রি করার পরিকল্পনা রয়েছে টিসিবির। বর্তমানে সংস্থাটির কার্ডধারী সক্রিয় পরিবারের সংখ্যা ৭২ লাখ ৮৪ হাজার ৬৪৮টি, যা রমজান নাগাদ ৮৫ লাখে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। কার্ডধারী সব পরিবার এক কেজি করে ছোলা এবং ১৩টি সিটি করপোরেশনের সম্ভাব্য ১৩ লাখ পরিবার এক কেজি করে খেজুর পাবেন। এছাড়া বাণিজ্যমন্ত্রীর নির্দেশনায় আরও ৪০ লাখ উপকারভোগীর মাঝে ট্রাক সেলের মাধ্যমে এক কেজি খোলা পণ্য ও আধা কেজি করে খেজুর বিক্রি করা হবে।
বাণিজ্য সচিব আতাউর রহমান খান এনডিসি বলেন, রমজানের পণ্য সরবরাহ যাতে স্বাভাবিক থাকে এবং মানুষ যাতে স্বস্তিতে রোজা পালন ও ঈদ উদযাপন করতে পারেন, সেজন্য আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এবার বাজারে কোনো সরবরাহ সংকট তৈরি হবে না। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে বছরে ভোজ্যতেলের চাহিদা প্রায় ২৫ লাখ টন, যার মধ্যে শুধু রমজানেই প্রয়োজন হয় তিন লাখ টন। মসুর ডালের বার্ষিক চাহিদা সাত লাখ টনের বিপরীতে রমজানে লাগে ৮০ হাজার টন। চিনির বার্ষিক চাহিদা ২০-২১ লাখ টন হলেও রমজানে চাহিদা থাকে তিন লাখ টন। এছাড়া বছরে সর্বোচ্চ দুই লাখ টন ছোলার চাহিদার সিংহভাগ এবং খেজুরের ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ ১০ হাজার টন বার্ষিক চাহিদার মধ্যে ৬০ থেকে ৮০ হাজার টনই রমজান মাসে প্রয়োজন হয়।
বাজার বিশ্লেষক ও ভোক্তাদের মতে, প্রতি বছর রমজানের আগে পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও অসাধু চক্র কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়িয়ে দেয়। পরে লোকদেখানো অভিযান চালানো হলেও দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ায় সিন্ডিকেটের তৎপরতা বন্ধ হয় না। এবার যাতে এই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেজন্য কার্যকর তদারকির দাবি জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, প্রতিবারের মতো এবারও সরকারের পক্ষ থেকে পণ্য সংকটের আশঙ্কা নেই বলে আশ্বস্ত করা হচ্ছে। কিন্তু তদারকি যদি সনাতন পদ্ধতিতেই হয়, তবে বড় করপোরেট গ্রুপ ও আমদানিকারকরা সাধারণ মানুষের পকেট কাটবে এবং প্রশাসন নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করবে। তিনি আমদানি, মজুত ও বিতরণ ব্যবস্থার সার্বক্ষণিক কঠোর তদারকি নিশ্চিত করার তাগিদ দেন।
‘এম.এস. ধোনি: দ্য আনটোল্ড স্টোরি’ দিয়ে বলিউডে পা রাখার এক দশক পূর্ণ করলেন দিশা পাটানি।…
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮ শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষায় কৃতিত্বের স্বীকৃতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদকের জন্য মনোনীত…
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে একটি স্টিল মিলে বয়লার বিস্ফোরণের ঘটনায় চারজন শ্রমিক দগ্ধ হয়েছেন। বুধবার রাতে তাদের…
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে চলমান বিক্ষোভের অংশ হিসেবে যন্তর মন্তরে…
২০২২ সালে হামাস নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ারের সতর্কবার্তা থেকে শুরু করে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলা,…
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় সরকারি গাছ কাটার অভিযোগে বাকশীমূল ইউনিয়নের ইউপি সদস্য আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে মামলা…
This website uses cookies.