Header Premium (728×90)

ভারতে আ.লীগ নেতাদের মধ্যে তীব্র অন্তর্দ্বন্দ্ব: প্রকাশ্যে ক্ষোভ

২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক পালাবদলের প্রেক্ষাপটে ভারতের মাটিতে আশ্রয় নেওয়া আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ও পলাতক মন্ত্রীদের মধ্যে গভীর ফাটল এখন আর গোপন নেই, বরং তা সর্বসমক্ষে উন্মোচিত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে কলকাতার দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকায় আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানকের একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হওয়ার পর দলের ভেতরের এই অন্তর্দ্বন্দ্ব ও ক্ষোভের আগুন তীব্র আকার ধারণ করেছে।

ভারতে অবস্থানরত স্বৈরাচার হাসিনা নির্দেশ ও কথিত প্রেস কনফারেন্স বা অডিও বার্তায় কথা শোনালেও তার প্রকাশ্য উপস্থিতি নেই। এই অনুপস্থিতির কারণে তৃণমূল থেকে শুরু করে প্রবীণ নেতাদের মধ্যে পুঞ্জীভূত ক্ষোভ বিস্ফোরিত হয়েছে। নানক ওই সাক্ষাৎকারে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী সুরে দাবি করেছেন যে, হাসিনার আগে তিনিই দেশে ফিরবেন এবং চরম প্রতিশোধ নেবেন। নানকের এই ফাঁকা আস্ফালন ও বুক ফুলিয়ে মিডিয়ায় বক্তব্য দেওয়ার ক্ষমতা ভারতে পালিয়ে থাকা দলের অন্য সিনিয়র ও কোণঠাসা নেতাদের মনে তীব্র ঈর্ষা, হতাশা এবং ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

আনন্দবাজারে নানকের সাক্ষাৎকার সামনে আসার পর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল নিজের ক্ষোভ ও হতাশা আর চেপে রাখতে পারেননি। কলকাতার নিউটাউনের একটি ফ্ল্যাটে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও লুকোচুরি পূর্ণ জীবনের মধ্যে দিন কাটানো কামাল কড়া ভাষায় মন্তব্য করে বলেন, “নানক বললেই কি ইচ্ছেমতো দেশে ফেরা যায়? নানক ফিরলে তিনি হয়তো ফিরবেন, কিন্তু আসাদুজ্জামান কামালের পক্ষে তো চাইলেই হুট করে দেশে ফিরে যাওয়া সম্ভব নয়৷ কারণ আমার গলায় ইতিমধ্যেই ঝুলছে ফাঁসির দড়ি।”

কামাল প্রশ্ন তোলেন, যদি এই ধরনের কঠোর আইনি নির্দেশ বা ফাঁসির সাজা নানকের ওপর থাকত, তবে কি তিনি এভাবে বুক ফুলিয়ে প্রকাশ্যে ভারতীয় গণমাধ্যমে ইন্টারভিউ দিতে পারতেন? নিজের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে কামাল জানান যে, তার ওপর ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কড়া রেস্ট্রিকশন বা নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তিনি চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন এই ভেবে যে, তার মুখ থেকে সামান্য কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য বের হলেই ভারত সরকার তাকে ধরে বাংলাদেশের সরকারের হাতে তুলে দেবে।

প্রবাসজীবনের মানসিক চাপ, দিনকে দিন খারাপ হতে থাকা শারীরিক অবস্থা এবং তীব্র অর্থকষ্টের মধ্যে কাটানো দিনগুলোতে দলের নেত্রী শেখ হাসিনা দিল্লিতে বসে থাকলেও তাদের খোঁজ পর্যন্ত নিচ্ছেন না বলে তিনি অভিযোগ করেন। ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসের দিন এই ক্ষোভ আরো তীব্র হয়ে ওঠে। একসময়ের দাপুটে মন্ত্রী কামালের সঙ্গে আজ দলের কেউ দেখা পর্যন্ত করেন না৷ আর ১৫ আগস্ট উপলক্ষে মুজিবকে নিয়ে কোনো ধরনের ছোট বা বড় শোকসভার আয়োজন করার ন্যূনতম পরিবেশ বা সাহসও তার ছিল না। কামালের এই মন্তব্য স্পষ্ট করে দেয় যে, শীর্ষ নেতাদের এই বিভাজিত ও স্বার্থপর আচরণে পুরনো নেতৃত্ব পুরোপুরি দিশাহারা।

শুধু আসাদুজ্জামান কামাল নন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং একসময়ের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী ওবায়দুল কাদেরও দল থেকে পুরোপুরি সাইডলাইন বা প্রান্তিক হয়ে পড়েছেন। ১৫ আগস্ট উপলক্ষে কলকাতায় বা অন্য কোথাও ওবায়দুল কাদেরের পক্ষ থেকেও মুজিব হত্যা স্মরণে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা শোকসভার আয়োজন করা হয়নি। তিনিও আজ দলের ভেতরে সম্পূর্ণ কোণঠাসা এবং নেত্রীর সুনজর থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনা দিল্লি থেকে দল পরিচালনার ক্ষেত্রে একালের শীর্ষ নেতাদের পুরোপুরি এড়িয়ে চলছেন এবং তাদের বিপদের দিনে ছাতার মতো পাশে দাঁড়াচ্ছেন না। কলকাতার মাটিতেও আজ ১৫ আগস্ট বা মুজিব হত্যা দিবসে আওয়ামী লীগের কোনো অংশের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে কোনো অনুষ্ঠান বা জমায়েত হতে দেখা যায়নি৷ যা থেকে দিবালোকের মতো পরিষ্কার হয়ে যায় যে পলাতক দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা ও তার অন্ধ অনুগত পুরনো শীর্ষ নেতাদের মধ্যকার সম্পর্কে এক গভীর অনাস্থা ও বিচ্ছিন্নতা তৈরি হয়েছে।

এই চরম অনৈক্য ও দূরত্বের আরো স্পষ্ট চিত্র ফুটে উঠেছে অন্যান্য হেভিওয়েট মন্ত্রীদের অবস্থানেও। সাবেক মন্ত্রী নেতারা ভারতে বা অন্য দেশে পালিয়ে যাওয়ার পর থেকে সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় এবং দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব থেকে বিচ্ছিন্ন জীবন কাটাচ্ছেন। দিল্লিতে বসে শেখ হাসিনা কিছু নির্দিষ্ট ও অনুগত ব্যক্তিকেন্দ্রিক যোগাযোগ রাখলেও সামগ্রিকভাবে প্রবীণ ও পরীক্ষিত নেতারা আজ চরমভাবে অবহেলিত ও উপেক্ষিত। পুরনো আওয়ামী লীগের মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা যারা একসময় দাপটের সঙ্গে দেশ চালাতেন, তারা আজ অর্থকষ্ট, পুলিশি গ্রেপ্তারের ভয় এবং বন্দিদশার মতো মানবেতর জীবন পার করছেন। আর ঠিক এই চরম দুর্দিনের মুহূর্তে স্বৈরাচার হাসিনা ও জাহাঙ্গীর কবির নানকদের মতো নেতাদের অবিবেচক ও আত্মপ্রচারের রাজনীতি দেখে পুরনো নেতারা নিজেদের প্রতারিত ও দলছুট বলে মনে করছেন। ফলে অনুগত নেতারা এখন প্রকাশ্যেই নানক ও হাসিনার একরোখা মনোভাবের বিরুদ্ধে নিজেদের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ও অসন্তোষ উগরে দিচ্ছেন, যা দলটিকে চিরতরে ভেঙে ফেলার মুখে দাঁড় করিয়েছে। এখন তাদের অবস্থা হয়ে গেছে, ছেড়ে দে মা, কেঁদে বাঁচি!

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

Recent Posts

ব্যবসায় প্রতারণা ও অসততায় যেভাবে হালাল উপার্জন হারামে রূপ নেয়

ইসলামে ব্যবসাকে হালাল করা হলেও অন্যায্য ও অসৎ উপায়ের কারণে তা হারামে রূপ নিতে পারে।…

9 minutes ago

আবারও মোশাররফ করিমের সঙ্গে পর্দায় নীলাঞ্জনা নীলা

জনপ্রিয় অভিনেতা মোশাররফ করিম ও অভিনেত্রী নীলাঞ্জনা নীলা আবারও জুটি বেঁধে অভিনয় করলেন ইউসুফ আলী…

41 minutes ago

আজ আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস: বাল্যবিয়ে রোধে বিশেষ গুরুত্ব

বিশ্বব্যাপী আজ ১১ অক্টোবর আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস পালিত হচ্ছে। দিবসটির লক্ষ্য কন্যাশিশুদের শিক্ষা, সুরক্ষা ও…

1 hour ago

২৫ কোটির বাজেটে ৩৩০ কোটি আয় করে রেকর্ড গড়ল ‘বেথলেহেম কুদুম্বা ইউনিট’

মাত্র ২৫ কোটি রুপি নির্মাণব্যয়ের মালয়ালম রোমান্টিক কমেডি সিনেমা ‘বেথলেহেম কুদুম্বা ইউনিট’ বিশ্বজুড়ে ৩৩০ কোটি…

2 hours ago

ওমান উপসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ অচল করার দাবি যুক্তরাষ্ট্রের

ওমান উপসাগরে মার্কিন নৌ অবরোধ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টার অভিযোগে একটি বাণিজ্যিক জাহাজ অচল করার দাবি…

2 hours ago

এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে নিজের বাল্যবিবাহ রুখে দিল তানিয়া

এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ সহ সব বিষয়ে এ-প্লাস পেয়ে নিজের বাল্যবিবাহ ঠেকিয়ে দিয়েছে সাতক্ষীরার মেধাবী শিক্ষার্থী…

2 hours ago

This website uses cookies.