জাতীয় পরীক্ষাগুলোতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট দেশব্যাপী অচলাবস্থা নিরসনে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনায় বসতে যাচ্ছেন আন্দোলনকারীরা। তবে টেবিলের আলোচনা চললেও রাজপথের প্রতিবাদ কর্মসূচি স্থগিত করা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন আন্দোলনের মুখপাত্র।
এদিকে টানা ২৬ দিন পর সামাজিক আন্দোলনকর্মী সোনাম ওয়াংচুক অনশন ভঙ্গ করায় সরকার ও আন্দোলনকারীদের মধ্যকার এই অচলাবস্থা নিরসন এবং সমঝোতার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারির দায়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দিল্লির রাজপথে বিক্ষোভ চালিয়ে আসছেন হাজারো তরুণ-তরুণী। তাদের পুরোভাগে রয়েছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজিপি, যা মূলত প্রধান বিচারপতির এক বক্তব্যের প্রতিবাদ জানাতে গঠিত হয়েছিল।
দলটির মুখপাত্র সৌরভ দাস জানিয়েছেন, শুক্রবার ‘একটি নিরপেক্ষ স্থানে’ সরকারি মন্ত্রীদের সঙ্গে তাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, “আমরা আশা করি সরকার খোলা মনে আলোচনায় আসবে এবং রাজপথে থাকা দেশের মানুষের কথা শুনবে। আমরা আমাদের দাবিগুলো তাদের কাছে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরব।” তবে আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়ে তিনি আরও বলেন, “আমরা পিছিয়ে আসছি না। কারণ, প্রকৃত জাগরণ শুরু হয় একদম তৃণমূল পর্যায় থেকে।”
বিশ্লেষকদের মতে, ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ক্ষমতায় আসার পর থেকে এটি তার সরকারের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা সবচেয়ে বড় যুব প্রতিবাদ। প্রধান বিরোধী দলগুলো এই দাবির প্রতি সমর্থন জানানোয় পার্লামেন্টের বর্ষাকালীন অধিবেশনের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। অনলাইনে ব্যঙ্গাত্মক প্রচারের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই আন্দোলন বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সুবাদে বিশাল রূপ নিয়েছে, যা মোদী সরকারকে অপ্রস্তুত অবস্থায় ফেলেছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে বৃহস্পতিবার রাতে এক ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িতদের কঠোর শাস্তির লক্ষ্যে আইন সংশোধনের খসড়া বিল শুক্রবার মন্ত্রিসভায় তোলার ঘোষণা দেন। তবে আন্দোলনকারীরা এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, কেবল আইন সংশোধন নয়, বরং পুরো পরীক্ষা ব্যবস্থার মৌলিক সংস্কার প্রয়োজন। এদিকে, বৃহস্পতিবার রাতে অনশন ভাঙার সময় উপস্থিত দুই মন্ত্রীর সঙ্গে সোনাম ওয়াংচুকের আলোচনার বিস্তারিত শুক্রবার ভিডিও বার্তায় জানা যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আন্দোলন দমাতে বৃহস্পতিবার মধ্য দিল্লিতে ১৬টি মেট্রো স্টেশন ও মোবাইল ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখা হয়েছিল। শুক্রবারও পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ১৭টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে দিল্লি মেট্রো রেল করপোরেশন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই আন্দোলনের বিপুল জনসমর্থনের পেছনে কেবল প্রশ্নফাঁস নয়, বরং কর্মসংস্থানের অভাবের মতো বিষয়গুলো নিয়ে তরুণদের জমে থাকা ক্ষোভও বড় ভূমিকা পালন করছে।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ার পর পরবর্তী রাষ্ট্রপ্রধান কে হচ্ছেন, তা নিয়ে…
ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে অনড় অবস্থান বজায় রেখেছে ককরোচ জনতা পার্টি। শনিবার দিল্লির…
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগ নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে থাইল্যান্ড সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরেছেন…
পশ্চিম তীরের তাল গ্রামে এক ইসরায়েলি নাগরিক নিহতের পর কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী…
জামায়াতে ইসলামী ফেরেশতাদের দল নয় দাবি করে দলটির আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, মানুষ হিসেবে…
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে সরকারি বনাঞ্চলের শাল-গজারি গাছ কেটে পাচারের সময় দেওহাটা কাঠের হাট থেকে প্রায় অর্ধশতাধিক…
This website uses cookies.