বাংলাদেশের পাটপণ্যের ওপর ভারতের আরোপিত কাউন্টারভেলিং ডিউটি বা ভর্তুকিবিরোধী শুল্কের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন (বিটিটিসি)। ভারতের কাস্টমস, এক্সাইজ অ্যান্ড সার্ভিস ট্যাক্স আপিল ট্রাইব্যুনালে (সিইএসটিএটি) আপিল করার এই সুযোগ রয়েছে বলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছে সংস্থাটি। ভারতের কাস্টমস ট্যারিফ আইন, ১৯৭৫-এর ৯সি(১) ও ৯সি(২) ধারার অধীনে ৯০ দিনের মধ্যে এই আপিল করা সম্ভব।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে বিষয়টি পর্যালোচনা করে কমিশন এই মতামত দেয়। ভারতের বাণিজ্য প্রতিকারবিষয়ক অধিদপ্তর (ডিজিটিআর) প্রকাশিত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণের জন্য বিষয়টি বাণিজ্য সচিবের কাছে পাঠানো হয়েছে। ভারতের বাজারে বাংলাদেশের পাটপণ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমে যাওয়ার আশঙ্কায় এই শুল্ক আরোপকে দেশের পাটশিল্পের জন্য নতুন বাণিজ্যিক চাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ভারতের ডিজিটিআর গত ২৮ সেপ্টেম্বর এই তদন্তের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করে। এর আগে ২০২৫ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর ভারতের জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশন এবং এপি মেস্তা টোয়াইন মিলস অ্যাসোসিয়েশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত শুরু হয়েছিল। তদন্তে ২০২৪ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত সময়কাল বিবেচনা করা হয়, যার আওতায় ছিল বাংলাদেশ ও নেপাল থেকে আমদানিকৃত পাটের সুতা, টুইন, স্যাকিং ব্যাগ, কাপড় এবং হেসিয়ান ব্যাগ ও কাপড়।
ভারতীয় কর্তৃপক্ষের দাবি, বাংলাদেশের পাটপণ্য রপ্তানিকারকরা নগদ প্রণোদনা এবং পাটশিল্পের জন্য বিশেষ আয়কর সুবিধার মাধ্যমে সুবিধা পেয়েছে। বিশেষ করে তদন্তকালীন প্রথম তিন মাসে বহুমুখী পাটপণ্য রপ্তানিতে ১৫ শতাংশ এবং পরবর্তীতে ১০ শতাংশ নগদ প্রণোদনাকে নিষিদ্ধ রপ্তানি ভর্তুকি হিসেবে বিবেচনা করেছে ভারত। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের পাঁচটি পাটপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য পাঁচ বছর মেয়াদি কাউন্টারভেলিং ডিউটি আরোপের সুপারিশ করা হয়েছে। প্রস্তাবিত এই শুল্কের পরিমাণ প্রতি টনে ১০১.৫৪ ডলার থেকে ১৪০.০৪ ডলার।
প্রতিষ্ঠানভেদে ভর্তুকির হারও ভিন্ন নির্ধারণ করা হয়েছে। হাসান জুট মিলস এবং হাসান জুট অ্যান্ড স্পিনিং মিলসের ক্ষেত্রে এই হার ১৫ থেকে ২৫ শতাংশ এবং জনতা জুট মিলস/সাদাত জুট ইন্ডাস্ট্রিজ এবং সাগর জুট স্পিনিং মিলস/ওরিয়েন্টাল জুট মিলসের ক্ষেত্রে ১০ থেকে ২০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ভারতে বাংলাদেশের পাটপণ্যের ওপর আগে থেকেই অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক কার্যকর রয়েছে। ডিজিটিআর সুপারিশ করেছে, নতুন শুল্কের ক্ষেত্রে দ্বৈত প্রভাব সীমিত রাখতে বিদ্যমান অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্কের পরিমাণ বাদ দিয়ে শুধু অতিরিক্ত অংশ আদায়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তবে আয়কর ছাড়-সংক্রান্ত ভর্তুকির অংশ পুরোপুরি আদায়ের কথা বলা হয়েছে।
ডিজিটিআরের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ভারতে তদন্তাধীন পণ্যগুলোর আমদানি ২০২১-২২ অর্থবছরে প্রায় ১ লাখ ১২ হাজার ৭০০ টন থেকে বেড়ে ১ লাখ ৬৬ হাজার ৪০০ টনে দাঁড়িয়েছে। এদিকে বাংলাদেশ বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) ভর্তুকি-সংক্রান্ত চুক্তির আওতায় স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে অবস্থান, দ্বৈত প্রতিকারের আশঙ্কা এবং প্রাথমিক তদন্তে নমুনা নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে আপত্তি জানালেও ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তা গ্রহণ করেনি। তদন্তে সহযোগিতা করা ২৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র তিনটিকে নমুনা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছিল। এখন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের ওপরই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নির্ভর করছে।
প্রকাশ : ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১১: ২৬আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১১: ৩৬
গাজীপুরের টঙ্গীর মুদাফা মাস্টারপাড়ায় রান্নার সময় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়েছেন একই পরিবারের তিনজন। তাদের…
ইলন মাস্ক তার দুই বৃহৎ প্রতিষ্ঠান টেসলা ও স্পেসএক্স একীভূত করার বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছেন। এই…
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় বিএআরসির সহকারী পরিচালক সোহাগ ফকিরকে…
ডনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে অবৈধ অভিবাসন বিরোধী কঠোর নীতির অংশ হিসেবে ৩ লাখেরও বেশি মার্কিন…
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারি বাসভবনের পাশে অবস্থিত ঐতিহাসিক রেসকোর্স মসজিদটি ৬ দিনের মধ্যে খালি…
সুদান ও দক্ষিণ সুদানের মধ্যকার বিতর্কিত সীমান্ত অঞ্চল আবেয়ির একটি বাজারে ভয়াবহ ড্রোন হামলায় অন্তত…
This website uses cookies.