বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্য জোট ‘আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব’ (আরসিইপি)-এ বাংলাদেশের সদস্য হওয়ার প্রক্রিয়া আরেক ধাপ এগিয়েছে। এই জোটে যোগ দিতে আগ্রহী বাংলাদেশসহ চারটি দেশকে নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা ও কারিগরি কাজ এগিয়ে নিতে একটি বিশেষ কার্যদল গঠনের সুপারিশ অনুমোদন করেছেন জোটভুক্ত দেশগুলোর বাণিজ্যমন্ত্রীরা। ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত আরসিইপির পঞ্চম মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। বাংলাদেশ ছাড়াও চিলি, শ্রীলঙ্কা ও হংকং এই জোটে যোগদানের জন্য আবেদন করেছে।
আরসিইপি মূলত চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়াসহ ১৫টি দেশের একটি জোট। জোটের তথ্য অনুযায়ী, এটি বিশ্বের প্রায় ৩০ শতাংশ মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ও জনসংখ্যার প্রতিনিধিত্ব করে। ২০২৪ সালে জোটভুক্ত দেশগুলোর পারস্পরিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ২ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সূত্রগুলো জানিয়েছে, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আরসিইপিভুক্ত দেশগুলো বাংলাদেশের মোট আমদানির ৫৩ দশমিক ৯০ শতাংশ এবং রপ্তানির ৭ দশমিক ৯২ শতাংশের সঙ্গে যুক্ত। ফলে এই জোটে সদস্যপদ পেলে আমদানি ও রপ্তানির বড় বাজারের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও প্রাতিষ্ঠানিক করার সুযোগ তৈরি হবে।
বাংলাদেশ ২০২২ সালে প্রথম আরসিইপিতে যোগদানের প্রাথমিক উদ্যোগ ও আলোচনা শুরু করে। অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার দুই মাসের মাথায়, ২০২৪ সালের অক্টোবরে একটি চিঠি পাঠিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আগ্রহের কথা জানানো হয়। জোটটি ২০২৫ সালে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া অনুমোদন করার পর বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েছে। সম্প্রতি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আরসিইপিতে যোগ দেওয়ার আগ্রহের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন এবং এ বিষয়ে মালয়েশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার সমর্থন কামনা করেন।
বাণিজ্যসচিব মো. আতাউর রহমান খান বলেন, আরসিইপির যৌথ কমিটির বৈঠকে বাংলাদেশসহ চার দেশের সদস্যপদ পাওয়ার ব্যাপারে ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পথে থাকা বাংলাদেশের জন্য এই জোটের সদস্য হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বিভিন্ন দেশে শুল্ক-সুবিধা হারানোর ঝুঁকি মোকাবিলায় আরসিইপির সদস্যপদ সহায়ক হবে। এর মাধ্যমে পণ্য বাণিজ্যের পাশাপাশি সেবা, বিনিয়োগ, মেধাস্বত্ব, ই-কমার্স ও ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ সুবিধা পাওয়া সম্ভব হবে।
তবে আরসিইপির সদস্য হতে হলে জোটের ১৫টি দেশের সম্মতি প্রয়োজন। পাশাপাশি বাংলাদেশকে চুক্তির নিয়মকানুন মেনে চলার সক্ষমতা দেখাতে হবে এবং সদস্যদেশগুলোর জন্য বাজারসুবিধার প্রস্তাব দিতে হবে। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান মনে করেন, এটি বাংলাদেশের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, সদস্যদেশগুলোর মধ্যে সবল ও দুর্বল অর্থনীতির দেশ রয়েছে, তাই বাণিজ্য সুবিধা নেওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশকে দক্ষতার সঙ্গে দর-কষাকষি করতে হবে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে সোহেলী তামান্নাকে হত্যা চেষ্টার অভিযোগে রাজধানীর ভাটারা থানায় দায়ের করা মামলায়…
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগীদের নিয়মিত ও সময়মতো ভাতার অর্থ পৌঁছানো নিশ্চিত করতে প্রতি মাসের…
মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী ডা. মাহাথির মোহাম্মদের স্ত্রী ডা. সিতি হাসমাহ মোহাম্মদ আলী ১০০ বছর বয়সে…
দুদকের প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার দাবির বৈধতা এবং মিডিয়া ট্রায়াল চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে…
বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করেছেন। সাক্ষাতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও…
লক্ষ্মীপুরে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল আমিনের ঘুষ দাবির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে…
This website uses cookies.