Header Premium (728×90)

ফ্ল্যাট কেনা নাকি বিনিয়োগ: আর্থিক সিদ্ধান্তের আগে যা জানা জরুরি

রাজধানীর বছিলায় বসবাসরত চাকরিজীবী এ কে এম আজহার নিজের ফ্ল্যাটের স্বপ্ন পূরণের জন্য একটি বেসরকারি ব্যাংক থেকে ২০ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছেন। পাঁচ বছর মেয়াদি এই ঋণের কিস্তি হিসেবে তাঁকে প্রতি মাসে ৪৫ হাজার ২৫০ টাকা পরিশোধ করতে হচ্ছে। সংসারে একমাত্র উপার্জনকারী আজহারের মাসিক আয়ের একটি বড় অংশ চলে যাচ্ছে এই কিস্তি মেটাতে, যার ওপর রয়েছে বাসাভাড়া ও সংসার খরচের চাপ। আজহারের মতো অনেকের কাছেই নিজের ফ্ল্যাট থাকা জীবনের বড় লক্ষ্য, তবে বিনিয়োগের দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি ভিন্নভাবে দেখার অবকাশ রয়েছে।

বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার হচ্ছে কি না, তা যাচাই করা জরুরি। অনেকে মনে করেন, মাসে ৪০ হাজার টাকা ভাড়া দেওয়ার চেয়ে ফ্ল্যাটের কিস্তি দেওয়া ভালো। কিন্তু অর্থনীতিতে একে বলা হয় 'অপরচুনিটি কস্ট'। অর্থাৎ, যে টাকা দিয়ে আপনি ফ্ল্যাট কিনছেন বা কিস্তি দিচ্ছেন, সেই অর্থ অন্য কোনো লাভজনক খাতে বিনিয়োগ করলে কত আয় হতে পারত, তা বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। ধরা যাক, আপনার কাছে ৫০ লাখ টাকা সঞ্চয় আছে এবং বাকি ৫০ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে ১ কোটি টাকার ফ্ল্যাট কিনছেন। ফ্ল্যাট কেনার ফলে আপনি ভাড়া সাশ্রয় করছেন ঠিকই, কিন্তু একই সঙ্গে ১ কোটি টাকা অন্য কোথাও বিনিয়োগ করলে যে সম্ভাব্য আয় হতো, তা হারাচ্ছেন। গড়ে ৮ শতাংশ মুনাফা পাওয়া গেলে ১ কোটি টাকা থেকে বছরে প্রায় ৮ লাখ টাকা বা মাসে ৬৬ হাজার ৬৬৭ টাকা আয় হতে পারত।

ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে ঋণের সুদ, কিস্তি, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়, নিবন্ধন খরচ ও করের মতো বিষয়গুলো মোট বিনিয়োগ ব্যয়ের অংশ। ফ্ল্যাটের দাম ভবিষ্যতে বাড়লে সম্পদের মূল্য বাড়বে ঠিকই, কিন্তু এর কোনো নিশ্চিত নিশ্চয়তা নেই। ফ্ল্যাটের দাম মূলত এলাকার অবস্থান, ভবনের বয়স, নির্মাণমান ও ভবিষ্যৎ চাহিদার ওপর নির্ভর করে। এছাড়া ফ্ল্যাটে বড় অঙ্কের মূলধন আটকে থাকে, যা জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত নগদায়ন করা সহজ নয়। অন্যদিকে ভাড়া বাসায় থাকলে মূলধন ব্যবহারযোগ্য থাকে এবং প্রয়োজনে বিনিয়োগের ধরনে পরিবর্তন আনা যায়।

অবশ্য সব হিসাব কেবল টাকার অঙ্কে করা যায় না। নিজের বাড়িতে থাকার নিরাপত্তা, পছন্দমতো পরিবেশ তৈরির স্বাধীনতা এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থায়ী ঠিকানার মতো বিষয়গুলোর গুরুত্ব অনেকের কাছেই বেশি। অবসরজীবনের আর্থিক নিরাপত্তার অংশ হিসেবেও অনেকে নিজের বাসা থাকাকে ইতিবাচক মনে করেন। তবে সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে আর্থিক রিটার্নের পাশাপাশি নিজের আয়, ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও ঝুঁকি নেওয়ার সামর্থ্য গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। বিশেষ করে, পুরো সঞ্চয় ফ্ল্যাটে ঢেলে দিয়ে ঋণ নেওয়া হলে পরিবারের আর্থিক ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। তাই ফ্ল্যাট কেনার পরও হাতে পর্যাপ্ত জরুরি সঞ্চয় রাখা একান্ত জরুরি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

Recent Posts

যুদ্ধ জিতলে লুটের মালে বিজয়ীরই অধিকার, জাতিসংঘে ঘোষণা ট্রাম্পের

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দাঁড়িয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে, যুদ্ধে জয়ী হলে পরাজিত…

4 minutes ago

বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের দুই প্রশাসনিক পদে সেনা কর্মকর্তাদের নিয়োগ

বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ও প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা পদে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দুই…

12 minutes ago

জাতিসংঘের বিকল্প কেবলই কল্পনাতীত: ড. খলিলুর রহমান

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, জাতিসংঘ নিখুঁত নয়, তবে এটি অপরিহার্য এবং…

20 minutes ago

পুলিশের দাবি উন্নতি, বাস্তবে জনমনে নিরাপত্তাহীনতা ও উৎকণ্ঠা

পুলিশ সদর দপ্তরের প্রতিবেদনে আইনশৃঙ্খলার দৃশ্যমান উন্নতির দাবি করা হলেও বাস্তবে চুরি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও…

26 minutes ago

পাকিস্তানে অনলাইনে যৌন নিপীড়নের ফাঁদে ১৫ লাখ শিশু

ইউনিসেফের তথ্যমতে, পাকিস্তানে গত এক বছরে আনুমানিক ১৫ লাখ শিশু অনলাইনে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে।…

36 minutes ago

গাজায় বিশ্ববাসীর নিষ্ক্রিয়তা লজ্জাজনক: জাতিসংঘে ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে গাজা নিয়ে বিশ্ববাসীর নিষ্ক্রিয়তাকে ‘লজ্জাজনক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল…

47 minutes ago

This website uses cookies.