রাজধানীজুড়ে গ্যাসের তীব্র সংকটে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকায় সিএনজিচালিত পরিবহণ খাত অচল হওয়ার উপক্রম হয়েছে এবং বাসাবাড়িতে রান্নার কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ২৬ জুলাই, রোববার পুরান ঢাকা, হাজারীবাগ, লালবাগ, ওয়ারী, মিরপুর, যাত্রাবাড়ী, উত্তরা, ডেমরা ও সবুজবাগসহ বিভিন্ন এলাকায় এই সংকটের ভয়াবহ চিত্র দেখা গেছে।
অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনে গ্যাসের চাপ না থাকায় সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। অনেক পাম্পে গ্যাস নেই জানিয়ে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে, ফলে সিএনজি, ট্রাক ও প্রাইভেটকার চালকরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও গ্যাস পাচ্ছেন না। উত্তরা এলাকার মেসার্স মাসুদ হাসান ফিলিং স্টেশনের ক্যাশিয়ার জানান, পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় বিক্রি বন্ধ রাখতে হয়েছে। জসীমউদ্দীন পর্যন্ত সিএনজির লাইন চলে গেছে। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের আরএসআর ফিলিং স্টেশনেও একই চিত্র দেখা গেছে। ডেমরা ও সারুলিয়া এলাকার চিত্রও একই, যেখানে গ্যাস না পেয়ে চালকরা তাদের প্রতিদিনের জমার টাকাও তুলতে পারছেন না। রেন্ট-এ-কারের চালকরাও একই সমস্যায় পড়েছেন এবং প্রাইভেটকারসহ অন্যান্য যানবাহন বন্ধ রাখতে হচ্ছে। গ্যাস বিক্রি কম হওয়ায় ফিলিং স্টেশন মালিকরাও লোকসান গুনছেন।
সবুজবাগের মালিবাগ হাজীপাড়ার সিটি ওভারসীজ সিএনজি লিমিটেড স্টেশনে দুপুর ১২টার পর থেকেই গ্যাস সরবরাহ বন্ধ ছিল। সিএনজিচালক মো. আমির হামজা জানান, সকাল ১০টায় লাইনে দাঁড়িয়েও ৩টা পর্যন্ত গ্যাসের দেখা পাননি। মিরপুর সিরামিকস সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনের স্টাফ নাজমুল জানান, গ্যাসের চাপ কম থাকায় মাত্র একটি কমপ্রেশার দিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে স্টেশন চালাতে হচ্ছে।
গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে আবাসিক এলাকাগুলোতেও। তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের নিয়মিত সরবরাহ না থাকায় ভোররাত বা গভীর রাতে সামান্য গ্যাস এলেও তা দিয়ে স্বাভাবিক রান্না করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে হোটেল থেকে খাবার কিনছেন অথবা বৈদ্যুতিক চুলা ব্যবহার করছেন। লালবাগ শেখ সাহেব বাজার মন্দির গলির বাসিন্দা আরিফুর রহমান রনি জানিয়েছেন, তিন-চার দশকে এমন ভয়াবহ সংকট তিনি দেখেননি।
পুরান ঢাকা, ওয়ারী, বংশাল ও ইসলামপুর এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সকালে সন্তানদের টিফিন বা অফিসগামী সদস্যদের খাবার প্রস্তুত করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। যাত্রাবাড়ী ও গোড়ান এলাকার অনেক বাসিন্দা লাকড়ি বা মাটির চুলায় রান্না করতে বাধ্য হচ্ছেন। সূত্রাপুর এলাকার বাসিন্দা আয়েশা আক্তার অনি জানান, এক সপ্তাহ ধরে গ্যাস না থাকায় তাকে হিটারে রান্না করতে হচ্ছে, যার ফলে বিদ্যুৎ বিলও বাড়ছে। গোড়ান এলাকার বাসিন্দা ও সিএনজিচালক মো. জয়নাল আবেদিন জানান, গ্যাস না থাকায় রোববার রান্নাই হয়নি এবং সকালে চিড়া খেয়ে কাজে বের হতে হয়েছে। সিএনজি ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার আরিয়ান সাজ্জাদ জানান, তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ পর্যাপ্ত সরবরাহ দিচ্ছে না বলেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
লোহিত সাগরে হুতি বিদ্রোহীদের অব্যাহত হামলা এবং আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের স্বাধীনতায় হুমকির তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন…
১৯তম বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে কমিশন। এর মাধ্যমে জুডিসিয়াল সার্ভিসের প্রবেশ…
লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে (এলপিএল) ক্যান্ডি রয়্যালসকে ৯৩ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে জাফনা কিংস। জাফনার এই…
এক বছরের বেশি সময় বন্ধ থাকার পর পুনরায় চালু হয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ঢাকা-নারিতা সরাসরি…
দাজ্জালের ভয়াবহ ফিতনা থেকে নিরাপদ থাকতে সুরা কাহাফের শেষ দশ আয়াত মুখস্থ করার বিশেষ ফজিলত…
একটি গানের টিকটক রিলকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার মুখে পড়েছেন সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার শ্রেষ্ঠ…
This website uses cookies.