দীর্ঘ আট মাস বন্ধ থাকার পর অবশেষে ইউরিয়া উৎপাদনে ফিরেছে যমুনা সার কারখানা। কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক আফাজ উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মঙ্গলবার রাত ৩টা ১০ মিনিটে কারখানাটিতে পুরোদমে দানাদার ইউরিয়া সার উৎপাদন শুরু হয়।
কারখানা সূত্র জানায়, যমুনা সার কারখানায় সার উৎপাদনের খরচ তুলনামূলক কম। প্রতি টন ইউরিয়া উৎপাদনে ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা খরচ হলেও বিদেশ থেকে আমদানি করতে টন প্রতি প্রায় ১ লাখ টাকা ব্যয় হয়। বর্তমানে কারখানাটির দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন, যার বাজার মূল্য ৬ থেকে ৭ কোটি টাকা। নিয়মিত উৎপাদন সচল থাকলে গ্যাস বিলসহ আনুষঙ্গিক খরচ মিটিয়ে সরকারের দৈনিক ২ কোটি টাকা এবং মাসিক ৬০ কোটি টাকা লাভ থাকে। তবে কারখানা বন্ধ থাকলেও ব্রয়লার ও পাওয়ার প্লান্ট সচল রাখতে প্রতিমাসে ৬ কোটি টাকার বেশি গ্যাস বিল দিতে হয়, যা লোকসান হিসেবে গণ্য হয়।
উৎপাদনের ক্ষেত্রে গ্যাসের চাপের স্বল্পতা বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদনের জন্য দৈনিক ৪২ থেকে ৪৩ পিএসআই গ্যাসের চাপ প্রয়োজন। গত কয়েক বছর ধরে গ্যাসের স্বল্প চাপের কারণে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয় এবং উৎপাদন ১২শ মেট্রিক টনে নেমে আসে। ২০২৪ সালের ১৫ জানুয়ারি তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি গ্যাসের চাপ কমিয়ে দেয়। ২০২৫ সালে কিছু সময় উৎপাদন চললেও ১৬ ফেব্রুয়ারি পুনরায় সরবরাহ বন্ধ করা হয়। ১৯ সেপ্টেম্বর গ্যাস সরবরাহ পুনরায় চালু করা হলেও পর্যাপ্ত চাপের অভাবে উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হয়নি। অবশেষে চলতি সপ্তাহে পর্যাপ্ত চাপ নিশ্চিত হওয়ায় মঙ্গলবার রাত থেকে উৎপাদন শুরু হয়েছে।
কারখানার বিভাগীয় প্রধান (অ্যামোনিয়া ও ইউটিলিটি) মো. ফজলুল হক জানান, যান্ত্রিক ত্রুটি ও গ্যাস সংকটের কারণে দীর্ঘদিন উৎপাদন বন্ধ ছিল। সোমবার তিতাস পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ করায় অবশেষে উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হয়েছে।
১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কারখানাটি ১৯৯১ সাল থেকে দেশের কৃষি খাতে অবদান রেখে আসছে। এটি দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সার কারখানা, যার পূর্ণ সক্ষমতা দৈনিক ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন। জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল ও রাজবাড়ীসহ উত্তরাঞ্চলের ২১টি জেলায় সার সরবরাহে এই কারখানাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ব্যবস্থাপনা পরিচালক আফাজ উদ্দিন কারখানাটি সচল করার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বিসিআইসির চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। আশা করা হচ্ছে, এই কারখানায় উৎপাদন শুরু হওয়ায় উত্তরাঞ্চলে ইউরিয়া সারের সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকবে।
তবে যান্ত্রিক সীমাবদ্ধতার কারণে বর্তমানে প্রতিদিন ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে।
তবে বর্তমানে যান্ত্রিক সীমাবদ্ধতার কারণে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া উৎপাদন করা সম্ভব হয়।যমুনা কারখানাটিতে উৎপাদন পুনরায় শুরু হওয়ায় উত্তরাঞ্চলে ইউরিয়া সারের সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্যাথলজি বিভাগে অর্থ লেনদেন ও রোগীসেবায় ভোগান্তির অভিযোগ উঠেছে। এ…
ভোলার দৌলতখান উপজেলায় গ্রামীণ সড়ক মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন, কোর রোড নেটওয়ার্ক ও তথ্য যাচাই বিষয়ক এক…
চট্টগ্রামের আনোয়ারায় শ্বশুরবাড়ি থেকে অস্ত্র হাতে ভাইরাল হওয়া এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার মামলার আসামি…
সিলেটের গোয়াইনঘাটের জাফলংয়ে স্ত্রীকে ৪ লাখ টাকার বিনিময়ে ভারতে পাচারের চেষ্টার অভিযোগে স্বামীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার…
বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।…
রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোহা. জাওয়াদুল হক এবং সেকশন অফিসার নাজমুল হোসাইনকে জোরপূর্বক…
This website uses cookies.