জুলাই সনদ বাস্তবায়নে টালবাহানা চলবে না, মাওলানা আবদুল হালিম
- আপডেট সময় : ১২:২৭:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬ ৪৬ বার পড়া হয়েছে

মোঃ ইসমাইল হোসেন,
স্টাফ রিপোর্টার:
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম বলেছেন, জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে দেশের মানুষ একটি নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছে। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে প্রণীত জুলাই জাতীয় সনদ কার্যকর করার প্রশ্নে কোনো ধরনের টালবাহানা বরদাস্ত করা হবে না।
বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) সকালে নারায়ণগঞ্জ শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নারায়ণগঞ্জ জেলা আয়োজিত রুকন (সদস্য) সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ জেলা আমীর মুহাম্মদ মমিনুল হক সরকার এবং সঞ্চালনা করেন জেলা সেক্রেটারি মুহাম্মদ হাফিজুর রহমান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাইফুল আলম খান মিলন এমপি, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আবদুল জব্বার, মাওলানা মাঈনুদ্দিন আহমদ, মহানগরী নায়েবে আমীর মাওলানা আবদুল কাইউম, মহানগর সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার মনোয়ার হোসাইন এবং জেলা সহকারী সেক্রেটারি আবু সাঈদ মুন্না প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা আবদুল হালিম বলেন, দেশের জনগণ আর কোনো ফ্যাসিবাদী বা কর্তৃত্ববাদী শাসন ব্যবস্থায় ফিরে যেতে চায় না। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে যে নতুন রাষ্ট্র কাঠামোর প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে ঐকমত্য কমিশন গঠন করা হয়। তিনি জানান, কমিশনের প্রধান সুপারিশ ছিল—দুর্বৃত্তায়িত রাষ্ট্র কাঠামো পরিবর্তন করে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে রাষ্ট্র পুনর্গঠন করা।
তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদী কাঠামো বিলোপে সংবিধান সংস্কার অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু বিএনপি ক্ষমতায় এসে জনগণের প্রত্যাশা উপেক্ষা করে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গড়িমসি করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। গুম-খুন বন্ধের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও তাদের অনীহা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
মাওলানা হালিম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, জনগণের মতামত উপেক্ষা করে যদি পুরোনো ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়, তাহলে রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমে সেই দাবি আদায় করা হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সাইফুল আলম খান মিলন এমপি বলেন, বিএনপি বর্তমানে জনআকাঙ্ক্ষার বিপরীতে অবস্থান করছে। তিনি অভিযোগ করেন, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় নির্বাচনের পরিবর্তে দলীয় লোকদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক কাঠামোকে দুর্বল করছে এবং জনগণের অধিকার ক্ষুণ্ন করছে।
সভাপতির বক্তব্যে মুহাম্মদ মমিনুল হক সরকার বলেন, জামায়াতে ইসলামী একটি পূর্ণাঙ্গ ইসলামী আন্দোলন। তিনি সংগঠনের সদস্যদের কুরআন-সুন্নাহর আলোকে নিজেদের গড়ে তোলার আহ্বান জানান এবং নিয়মিত কুরআন, হাদিস ও ইসলামী সাহিত্য অধ্যয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।



























