মতিঝিল হত্যার পর ওবায়দুল্লাহকে ৭ টুকরা করে তার রুমমেট শাহীন
- আপডেট সময় : ১১:২৮:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬ ৭৫ বার পড়া হয়েছে

ফখরুল আলম সাজু
রাজধানী ঢাকা মতিঝিল সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষের কাটা হাত, পা, মাথা সহ দেহের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করেছে পুলিশ, ২ হাতের আঙুলের ছাপ নিয়ে ওই ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা হয়, হত্যা কাণ্ডের শিকার ব্যক্তির নাম ওবায়দুল্লাহ, এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে নিহতের রুমমেট শাহীনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ বলছে, মূলত অনৈতিক প্রস্তাব ও ঝগড়া-বিবাদের জেরে ওবায়দুল্লাহকে হত্যার পর সাত টুকরা করেন রুমমেট শাহীন।
১ মার্চ রবিবার মিন্টু রোডে অবস্থিত ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত রাজধানীতে খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনার রহস্য উদঘাটন ঘাতক গ্রেফতার সংক্রান্ত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব জানান মতিঝিল বিভাগের ডিসি হারুন-অর-রশীদ।
হারুন-অর-রশীদ বলেন, নিহত ওবায়দুল্লাহর দেহের একটি অংশ এখনো পাওয়া যায়নি, আমিন বাজারের ব্রিজ থেকে সেই অংশটি ফেলে দেওয়া হয়েছিল, সেটি উদ্ধারে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে, ওবায়দুল্লাহ একটি হোমিওপ্যাথি প্রতিষ্ঠানে মার্কেটিং বিভাগে চাকরি করতেন এবং শাহীন মতিঝিল হোটেল হিরাঝিলে চাকরি করতেন।
তিনি বলেন, জিজ্ঞাসা বাদে আমরা জানতে পারি, শাহীন ২৭ ফেব্রুয়ারি রাত ৮টার দিকে ওবায়দুল্লাহকে হত্যা করেন, পরে রাত ৯টার পর বিভিন্ন জায়গায় লাশের খণ্ডিত দেহবিশেষ ফেলে দেওয়া হয়, ওবায়দুল্লাহ রাতে তাকে সিগারেট নিয়ে আসতে বলেন।
কিন্তু শাহীন জানান, তার কাছে পর্যাপ্ত টাকা নেই, আনতে পারবে না, তারা জসীম উদ্দিন রোডে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন, শাহীন রাতে বাসায় ফিরলে আবার তাকে সিগারেট আনার জন্য পাঠানো হয়, সিগারেট নিয়ে আসার পর আবার তাকে নানরুটি ও কাবাব আনতে পাঠানো হয়, কাবাব ও নানরুটি নিয়ে এলেও দেখা যায়, ওবায়দুল্লাহ একাই তা খান।
রাতে ঘুমানোর সময় ওবায়দুল্লাহ জোরে জোরে কথা বলছিলেন, যেহেতু শাহীন ক্লান্ত ছিলেন, তাই তিনি বিরক্ত হচ্ছিলেন, এক পর্যায়ে ঘুমানোর চেষ্টা করার সময় ফোনে ধীরে কথা বলার জন্য অনুরোধ করলে তাদের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়, এক পর্যায়ে ওবায়দুল্লাহ শাহীনকে অকথ্য ভাষায় গালি গালাজ করেন, ওই রাতে ওবায়দুল্লাহ গোসল খানায় কাপড় ধোয়া শুরু করলে শাহীন তার ঘাড় ও গলায় চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে, পরে নিজে বাঁচার জন্য মরদেহ খণ্ড খণ্ড করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেয়।
হারুন-অর-রশীদ বলেন, নয়াপল্টনে আনন্দ কমিউনিটি সেন্টারের বিপরীতে ২টি হাত, বায়তুল মোকাররমের একটি গেটের পাশে ১টি পা এবং কমলাপুর রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকায় মাথা ফেলা দেওয়া হয়, মতিঝিলে কমলাপুর এলাকায় ময়লা বোঝাই কনটেইনারে ড্রাম ভর্তি দেহাংশ ফেলা হয়।
জিজ্ঞাসা বাদে সে জানায়, বাকি অংশ গুলো আমিন বাজার সালিপুর ব্রিজ থেকে ফেলে দিয়েছে, সেখানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে, একটি অংশ এরই মধ্যে পাওয়া গেছে, আরেকটি অংশের সন্ধানে অভিযান চলছে।
শাহীন হত্যা করেছে, এটি কীভাবে নিশ্চিত হলেন, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শাহীন সাইকেলে করে খণ্ডিত অংশ ফেলার সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া গেছে, এছাড়া সে নিজেও ঘটনার সম্পৃক্ততা স্বীকার করেছে, তার কাছ থেকে চাপাতি উদ্ধার করা হয়েছে।
শুধু ঝগড়া-বিবাদের কারণেই হত্যা করা হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, শাহীন জানিয়েছে, মাঝে মাঝে ওবায়দুল্লাহ তাকে অনৈতিক প্রস্তাব দিত, এ বিষয়টি সে নিতে পারতো না, অনেক সময় রাতে শাহীনের রুমে ওবায়দুল্লাহ চলে যেত, তখন শাহীন তাকে রুম থেকে বের করে দিয়ে দরজা আটকিয়ে দিত।
হত্যায় ব্যবহৃত চাপাতি হত্যাকাণ্ডের পর শাহীনের আচরণ সম্পর্কে জানতে চাইলে ডিসি বলেন, হত্যার পরও শাহীন স্বাভাবিক ভাবে চাকরি করত এবং সবার সঙ্গে স্বাভাবিক আচরণ করত, তাকে হিরাঝিল হোটেল থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান।
এর আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি শনিবার রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষের কাটা হাত-পা ও মাথা উদ্ধার করা হয়।
২৭ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার রাত ২টার দিকে কাকরাইলের স্কাউট ভবনের সামনে কালো পলিথিনে মোড়ানো মানুষের ১টি পা পাওয়া যায়, এরপর শনিবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে জাতীয় স্টেডিয়ামের ১ ও ৪ নম্বর গেটের মাঝামাঝি মার্কেটের সামনের সড়কে কালো পলিথিনে মোড়ানো আরও ২টি হাত পাওয়া যায়, দুপুরে কমলাপুর রেলস্টেশন এলাকায় আরেকটি পা পাওয়া যায়।
নিহত ওবায়দুল্লাহ নরসিংদীর শিবপুরের তাতার গ্রামের আব্দুল হামিদ মিয়ার ছেলে, তিনি মতিঝিলের কবি জসীম উদ্দিন রোডের একটি ফ্ল্যাটে হিরাঝিল হোটেলের কর্মচারী শাহীন আলমের সঙ্গে থাকতেন বলে জানানো হয়েছিল।






















