ঢাকা ০৩:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ছাগলনাইয়াতে বন্দুক সহ আওয়ামী লীগ নেতা আটক যশোরে ৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ ঢাকা-ফেনী রুটে ১ মাসে ২ দফায় ভাড়া বৃদ্ধি রূপগঞ্জে হামলার শিকার মৎস্য খামারির মৃত্যু, এলাকায় উত্তেজনা জেলা গ্রাম আদালতের কার্যক্রমে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করছে, ফুলবাড়ী উপজেলার ৭ নং শিবনগর ইউনিয়ন প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬ অনুষ্ঠিত কুশিয়ারা এলাকায় নেশাগ্রস্ত ছেলের আগুন, ফায়ার সার্ভিস ও এলাকাবাসীর চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে বজ্রাঘাতে প্রাণ গেল বাবার, কোল থেকে ছিটকে প্রাণে বাঁচল শিশু সন্তান সকালে থেকে রাজধানী ঢাকাতে মুষলধারে বৃষ্টি নিউ মার্কেটে শীর্ষ সন্ত্রাসী টিটন গুলিতে নিহত

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনের এক অবিস্মরণীয় দিন শহীদ নূর হোসেন দিবস আজ

স্টাফ রিপোর্টার রংপুর:
  • আপডেট সময় : ০৭:৫৭:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ নভেম্বর ২০২৫ ৭৯ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

স্টাফ রিপোর্টার রংপুর:

আজ ১০ নভেম্বর, শহীদ নূর হোসেন দিবস। ১৯৮৭ সালের এই দিনে তৎকালীন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বিরুদ্ধে ঢাকার রাজপথে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মিছিলে শহীদ হন নূর হোসেন। তার আত্মত্যাগ তৎকালীন সামরিক শাসকের পতনকে ত্বরান্বিত করে।

স্বাধীন বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনের এক অবিস্মরণীয় দিন ১০ নভেম্বর। বুকে স্বৈরাচার নিপাত যাক এবং পিঠে গণতন্ত্র মুক্তি পাক লিখে নূর হোসেন মিছিলের অগ্রভাগে অবস্থান করেন। রাজধানীর জিরো পয়েন্ট এলাকায় নূর হোসেনকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী গুলি করে হত্যা করলে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন আরো বেগবান হয়। ধারাবাহিক লড়াইয়ের পর ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর তৎকালীন এরশাদ সরকারের পতন হয় এবং দেশে গণতন্ত্র ফিরে আসে। দিবসটি উপলক্ষে প্রতি বছর বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন কর্মসূচি পালন করে।

নূর হোসেন ১৯৮৭ সালে তৎকালীন আন্দোলনের নায়ক। তিনি জীবন্ত পোস্টারের মতো বুকে-পিঠে স্লোগান ধারণ করে গণতন্ত্রকামী মানুষের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছিলেন। তাঁর আত্মদানের তিন বছরের মধ্যে, ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর এরশাদের স্বৈরশাসনের অবসান ঘটে।

নূর হোসেন শহীদ হওয়ার মাস না পেরোতেই ৬ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ ভেঙে দেন এরশাদ। ১৯৮৮ সালের মার্চে নির্বাচন হলেও বড় দলগুলো অংশ না নেওয়ায় তা বৈধতা পায়নি। ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর এরশাদ পদত্যাগ করেন। ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বিএনপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করে।

উল্লেখ্য, যে জায়গায় নূর হোসেন গুলিবিদ্ধ হন, সেই জিরো পয়েন্ট এখন শহীদ নূর হোসেন চত্বর নামে পরিচিত।

ঢাকার নারিন্দায় এক অটোরিকশাচালকের ঘরে জন্ম নেওয়া নূর হোসেন অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া শেষে গাড়ি চালানোর প্রশিক্ষণ নেন। ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর আওয়ামী লীগের মিছিল পল্টন এলাকার জিরো পয়েন্ট অতিক্রম করার সময় পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও গুলি ছুড়ে মিছিলকে ছত্রভঙ্গ করে। তখন নূর হোসেন ও যুবলীগ নেতা বাবুল গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন। তাঁর বুকে-পিঠের স্লোগান আন্দোলনের প্রতীক হয়ে ওঠে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

 

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনের এক অবিস্মরণীয় দিন শহীদ নূর হোসেন দিবস আজ

আপডেট সময় : ০৭:৫৭:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ নভেম্বর ২০২৫
print news

স্টাফ রিপোর্টার রংপুর:

আজ ১০ নভেম্বর, শহীদ নূর হোসেন দিবস। ১৯৮৭ সালের এই দিনে তৎকালীন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বিরুদ্ধে ঢাকার রাজপথে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মিছিলে শহীদ হন নূর হোসেন। তার আত্মত্যাগ তৎকালীন সামরিক শাসকের পতনকে ত্বরান্বিত করে।

স্বাধীন বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনের এক অবিস্মরণীয় দিন ১০ নভেম্বর। বুকে স্বৈরাচার নিপাত যাক এবং পিঠে গণতন্ত্র মুক্তি পাক লিখে নূর হোসেন মিছিলের অগ্রভাগে অবস্থান করেন। রাজধানীর জিরো পয়েন্ট এলাকায় নূর হোসেনকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী গুলি করে হত্যা করলে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন আরো বেগবান হয়। ধারাবাহিক লড়াইয়ের পর ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর তৎকালীন এরশাদ সরকারের পতন হয় এবং দেশে গণতন্ত্র ফিরে আসে। দিবসটি উপলক্ষে প্রতি বছর বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন কর্মসূচি পালন করে।

নূর হোসেন ১৯৮৭ সালে তৎকালীন আন্দোলনের নায়ক। তিনি জীবন্ত পোস্টারের মতো বুকে-পিঠে স্লোগান ধারণ করে গণতন্ত্রকামী মানুষের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছিলেন। তাঁর আত্মদানের তিন বছরের মধ্যে, ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর এরশাদের স্বৈরশাসনের অবসান ঘটে।

নূর হোসেন শহীদ হওয়ার মাস না পেরোতেই ৬ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ ভেঙে দেন এরশাদ। ১৯৮৮ সালের মার্চে নির্বাচন হলেও বড় দলগুলো অংশ না নেওয়ায় তা বৈধতা পায়নি। ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর এরশাদ পদত্যাগ করেন। ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বিএনপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করে।

উল্লেখ্য, যে জায়গায় নূর হোসেন গুলিবিদ্ধ হন, সেই জিরো পয়েন্ট এখন শহীদ নূর হোসেন চত্বর নামে পরিচিত।

ঢাকার নারিন্দায় এক অটোরিকশাচালকের ঘরে জন্ম নেওয়া নূর হোসেন অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া শেষে গাড়ি চালানোর প্রশিক্ষণ নেন। ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর আওয়ামী লীগের মিছিল পল্টন এলাকার জিরো পয়েন্ট অতিক্রম করার সময় পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও গুলি ছুড়ে মিছিলকে ছত্রভঙ্গ করে। তখন নূর হোসেন ও যুবলীগ নেতা বাবুল গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন। তাঁর বুকে-পিঠের স্লোগান আন্দোলনের প্রতীক হয়ে ওঠে।