ঢাকা ১২:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মুকসুদপুরে বাসের ধাক্কায় পথচারী নিহত সরকারি দরপত্রে ২০ বছরের ‘সুযোগবঞ্চিত’দের জন্য নতুন সুযোগ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আয়োজিত নৈশভোজে সস্ত্রীক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান টাওয়ার হ্যামলেটসে স্কুল পোশাকের অনুদান বৃদ্ধি, সুবিধা পাবে আরও বেশি পরিবার লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে চার দিন ধরে দুই শিক্ষার্থী নিখোঁজ সরবরাহ বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে কমলো তেলের দাম বিশ্বমঞ্চে দেশের মর্যাদা ও জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার প্রধানমন্ত্রীর রাজধানীতে ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় ৪৬৫ জন গ্রেপ্তার চলন্ত মেট্রো রেলের দরজা খুলে যাওয়ায় ২৬ মিনিট বন্ধ চলাচল ৩০ নভেম্বরের মধ্যে সারা দেশে পৌঁছাবে নতুন শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবই

প্রতিষ্ঠার ৪১ বছরেও চালু হয়নি স্নাতক (অনার্স) ও স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) কোর্স

স্টাফ রিপোর্টার রংপুরঃ
  • আপডেট সময় : ০৬:৩৬:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ২৯২ বার পড়া হয়েছে

প্রতিষ্ঠার ৪১ বছরেও চালু হয়নি স্নাতক (অনার্স) ও স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) কোর্স

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি




স্টাফ রিপোর্টার রংপুরঃ

দিনাজপুরের সীমান্তবর্তী হাকিমপুর উপজেলায় অবস্থিত হাকিমপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজ প্রতিষ্ঠার ৪১ বছর পার করলেও এখনো চালু হয়নি স্নাতক (অনার্স)স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) কোর্স। অন্যদিকে, জাতীয়করণের পর দীর্ঘ সাত বছরেও কাটেনি শিক্ষক ও অবকাঠামোর সংকট। কলেজটিতে বর্তমানে ২০টি শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে, যার মধ্যে ৫টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কোনো শিক্ষকই নেই। ফলে প্রায় ১ হাজার ২০০ শিক্ষার্থীর শিক্ষা কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

১৯৮৪ সালে স্থাপিত এই কলেজ ২০১৮ সালের ৮ আগস্ট সরকারি স্বীকৃতি পেলেও উচ্চ শিক্ষার ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষক না থাকায় হতাশায় ভুগছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।

হাকিমপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজের তথ্যমতে, কলেজটি জাতীয়করণ হওয়ার পর থেকে চাইলেও কলেজ কর্তৃপক্ষ শিক্ষক নিয়োগ দিতে পারছেন না। ১ হাজার ১৭১ জন শিক্ষার্থীর কলেজটিতে একজন উপাধ্যক্ষসহ ২০ জন শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে ইংরেজি, অর্থনীতি, প্রাণিবিজ্ঞান, উদ্ভিদবিজ্ঞান, ইতিহাস—এই ৫ বিষয়ে ১০ জন শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও ১ জন শিক্ষকও নেই এসব বিষয়ে। এ ছাড়া ২ জনের জায়গায় ১ জন করে শিক্ষক রয়েছেন রাষ্ট্রবিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান, হিসাববিজ্ঞান, ইসলামের ইতিহাস, ভূগোল, মনোবিজ্ঞান, মার্কেটিং, গণিত ও রসায়ন বিভাগে। এসব বিভাগে প্রায় ৯টি পদে শিক্ষকের সংকট রয়েছে।

হাকিমপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণিতে পড়ুয়া মিরাজ আলম বলেন, ‘আমাদের বেশির ভাগ বিষয়ের শিক্ষক নেই। কোনো দিন ক্লাস হয় আবার কোনো দিন হয় না। আমাদের বাইরে প্রাইভেট ও কোচিংয়ের ওপর ভর করে চলতে হচ্ছে। আমরা চাই আমাদের কলেজ দ্রুত শিক্ষকের সংকট কাটিয়ে উঠুক। এতে আমাদের পড়াশোনার মান বাড়বে।

ডিগ্রি প্রথম বর্ষে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী কানিজ ফাতেমা মৌরি বলেন, আমি এইচএসসি পাস করার পর খুব ইচ্ছে ছিল অনার্সে পড়াশোনা করব, কিন্তু বাবা-মায়ের অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ, যার কারণে বাইরে থেকে পড়াতে পারবে না বলে এখানেই ডিগ্রিতে ভর্তি হয়েছি। এখানে যদি অনার্স ও মাস্টার্স চালু থাকত, তাহলে আমাদের মতো শিক্ষার্থীদের উপকার হতো। আমরা অল্প খরচে এলাকায় থেকেই পড়তে পারতাম।

স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী লুৎফর রহমান জানান, হিলিতে তেমন কলকারখানা না থাকায় সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষ নিম্ন আয়ের। অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপের কারণে সন্তানদের উচ্চ শিক্ষার জন্য বাইরে পাঠাতে পারে না। তাই সরকার যদি হাকিমপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজে স্নাতকস্নাতকোত্তর চালু করে, তাহলে অল্প খরচে এসব পরিবারের সন্তানেরা পড়তে পাড়বে। সরকারের উচিত কলেজটির অবকাঠামো উন্নয়নসহ দ্রুত এসব সমস্যার সমাধানে নজর দেওয়া।

হাকিমপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এনামুল হক জানান, আমি কিছুদিন হলো এই কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেছি। দীর্ঘদিন ধরেই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে কলেজের পক্ষ থেকে শিক্ষকের চাহিদা পাঠানো হচ্ছে, কিন্তু এখনো শিক্ষক না পাওয়ায় খণ্ডকালীন কিছু শিক্ষক দিয়ে পাঠদান চালানো হচ্ছে। যেহেতু শিক্ষক নেই, সে কারণে স্নাতকস্নাতকোত্তর চালু করার সুযোগ নেই। যখন সরকার পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ দেবে, তখন এসব চালু করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

 

প্রতিষ্ঠার ৪১ বছরেও চালু হয়নি স্নাতক (অনার্স) ও স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) কোর্স

আপডেট সময় : ০৬:৩৬:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫

স্টাফ রিপোর্টার রংপুরঃ

দিনাজপুরের সীমান্তবর্তী হাকিমপুর উপজেলায় অবস্থিত হাকিমপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজ প্রতিষ্ঠার ৪১ বছর পার করলেও এখনো চালু হয়নি স্নাতক (অনার্স)স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) কোর্স। অন্যদিকে, জাতীয়করণের পর দীর্ঘ সাত বছরেও কাটেনি শিক্ষক ও অবকাঠামোর সংকট। কলেজটিতে বর্তমানে ২০টি শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে, যার মধ্যে ৫টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কোনো শিক্ষকই নেই। ফলে প্রায় ১ হাজার ২০০ শিক্ষার্থীর শিক্ষা কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

১৯৮৪ সালে স্থাপিত এই কলেজ ২০১৮ সালের ৮ আগস্ট সরকারি স্বীকৃতি পেলেও উচ্চ শিক্ষার ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষক না থাকায় হতাশায় ভুগছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।

হাকিমপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজের তথ্যমতে, কলেজটি জাতীয়করণ হওয়ার পর থেকে চাইলেও কলেজ কর্তৃপক্ষ শিক্ষক নিয়োগ দিতে পারছেন না। ১ হাজার ১৭১ জন শিক্ষার্থীর কলেজটিতে একজন উপাধ্যক্ষসহ ২০ জন শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে ইংরেজি, অর্থনীতি, প্রাণিবিজ্ঞান, উদ্ভিদবিজ্ঞান, ইতিহাস—এই ৫ বিষয়ে ১০ জন শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও ১ জন শিক্ষকও নেই এসব বিষয়ে। এ ছাড়া ২ জনের জায়গায় ১ জন করে শিক্ষক রয়েছেন রাষ্ট্রবিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান, হিসাববিজ্ঞান, ইসলামের ইতিহাস, ভূগোল, মনোবিজ্ঞান, মার্কেটিং, গণিত ও রসায়ন বিভাগে। এসব বিভাগে প্রায় ৯টি পদে শিক্ষকের সংকট রয়েছে।

হাকিমপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণিতে পড়ুয়া মিরাজ আলম বলেন, ‘আমাদের বেশির ভাগ বিষয়ের শিক্ষক নেই। কোনো দিন ক্লাস হয় আবার কোনো দিন হয় না। আমাদের বাইরে প্রাইভেট ও কোচিংয়ের ওপর ভর করে চলতে হচ্ছে। আমরা চাই আমাদের কলেজ দ্রুত শিক্ষকের সংকট কাটিয়ে উঠুক। এতে আমাদের পড়াশোনার মান বাড়বে।

ডিগ্রি প্রথম বর্ষে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী কানিজ ফাতেমা মৌরি বলেন, আমি এইচএসসি পাস করার পর খুব ইচ্ছে ছিল অনার্সে পড়াশোনা করব, কিন্তু বাবা-মায়ের অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ, যার কারণে বাইরে থেকে পড়াতে পারবে না বলে এখানেই ডিগ্রিতে ভর্তি হয়েছি। এখানে যদি অনার্স ও মাস্টার্স চালু থাকত, তাহলে আমাদের মতো শিক্ষার্থীদের উপকার হতো। আমরা অল্প খরচে এলাকায় থেকেই পড়তে পারতাম।

স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী লুৎফর রহমান জানান, হিলিতে তেমন কলকারখানা না থাকায় সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষ নিম্ন আয়ের। অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপের কারণে সন্তানদের উচ্চ শিক্ষার জন্য বাইরে পাঠাতে পারে না। তাই সরকার যদি হাকিমপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজে স্নাতকস্নাতকোত্তর চালু করে, তাহলে অল্প খরচে এসব পরিবারের সন্তানেরা পড়তে পাড়বে। সরকারের উচিত কলেজটির অবকাঠামো উন্নয়নসহ দ্রুত এসব সমস্যার সমাধানে নজর দেওয়া।

হাকিমপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এনামুল হক জানান, আমি কিছুদিন হলো এই কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেছি। দীর্ঘদিন ধরেই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে কলেজের পক্ষ থেকে শিক্ষকের চাহিদা পাঠানো হচ্ছে, কিন্তু এখনো শিক্ষক না পাওয়ায় খণ্ডকালীন কিছু শিক্ষক দিয়ে পাঠদান চালানো হচ্ছে। যেহেতু শিক্ষক নেই, সে কারণে স্নাতকস্নাতকোত্তর চালু করার সুযোগ নেই। যখন সরকার পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ দেবে, তখন এসব চালু করা হবে।