ঢাকা ০৭:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ২০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যৌতুকের জন্য গৃহবধূকে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগে গ্রেফতার স্বামী, ননদ ও ননদের স্বামী

স্টাফ রিপোর্টার রংপুর।
  • আপডেট সময় : ০৫:২৭:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ জুন ২০২৫ ১২৬ বার পড়া হয়েছে

যৌতুকের জন্য গৃহবধূকে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগে গ্রেফতার স্বামী, ননদ ও ননদের স্বামী

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

স্টাফ রিপোর্টার রংপুর।

যৌতুকের টাকা না পেয়ে রংপুরে এক গৃহবধূকে শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়ি, ননদননদের স্বামীসহ পাঁচজনকে আসামি করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আজ (১৪ জুন) শনিবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুর মেট্রোপলিটন মাহিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল কুদ্দুস।

গৃহবধূ রেজোয়ানা দিল আফরোজ (২২) শুক্রবার রাতে ঢাকা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে রেজোয়ানা দিল আফরোজের বিয়ে হয় রংপুর মেট্রোপলিটন মাহিগঞ্জ থানার সরেয়ারতল এলাকার দেলোয়ার হোসেনের ছেলে রেজাউল করিমের সঙ্গে।

বিয়ের সময় বরপক্ষকে ৫ লাখ টাকার উপহার দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার।

বিয়ের পর থেকেই রেজোয়ানা যৌতুকের জন্য নিয়মিত নির্যাতনের শিকার হন। সেই ধারাবাহিকতায় গত ৫ জুন যৌতুকের জন্য স্বামীসহ পরিবারের সদস্যরা মারধর ও নির্যাতন করেন রেজোয়ানাকে। সেই নির্যাতনের রেশ কাটতে না কাটতেই ৮ জুন বিকেল ৩টার দিকে আসামিরা মিলিত হয়ে তার শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। তীব্র দগ্ধ অবস্থায় প্রথমে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় রেজোয়ানাকে, পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার (১৩ জুন) সন্ধ্যায় তার মৃত্যু হয়। নিহত রেজোয়ানার দেড় বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।

নিহতের বাবার অভিযোগ, তার মেয়েকে যৌতুকের টাকা না দেওয়ায় জামাই পুড়িয়ে হত্যা করেছে। শ্বশুর-শাশুড়িরা আগুন নেভাতে না গিয়ে দরজা বন্ধ করে দিয়ে জানিয়ে দেয় মেয়ে আত্মহত্যা করেছে। তিনি মেয়ে হত্যাকারীদের কঠোর শাস্তি চান।

এ বিষয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন মাহিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল কুদ্দুস জানান, এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। এছাড়াও ঘটনার পর স্বামী, ননদননদের স্বামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত চলছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

 

যৌতুকের জন্য গৃহবধূকে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগে গ্রেফতার স্বামী, ননদ ও ননদের স্বামী

আপডেট সময় : ০৫:২৭:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ জুন ২০২৫
print news

স্টাফ রিপোর্টার রংপুর।

যৌতুকের টাকা না পেয়ে রংপুরে এক গৃহবধূকে শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়ি, ননদননদের স্বামীসহ পাঁচজনকে আসামি করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আজ (১৪ জুন) শনিবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুর মেট্রোপলিটন মাহিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল কুদ্দুস।

গৃহবধূ রেজোয়ানা দিল আফরোজ (২২) শুক্রবার রাতে ঢাকা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে রেজোয়ানা দিল আফরোজের বিয়ে হয় রংপুর মেট্রোপলিটন মাহিগঞ্জ থানার সরেয়ারতল এলাকার দেলোয়ার হোসেনের ছেলে রেজাউল করিমের সঙ্গে।

বিয়ের সময় বরপক্ষকে ৫ লাখ টাকার উপহার দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার।

বিয়ের পর থেকেই রেজোয়ানা যৌতুকের জন্য নিয়মিত নির্যাতনের শিকার হন। সেই ধারাবাহিকতায় গত ৫ জুন যৌতুকের জন্য স্বামীসহ পরিবারের সদস্যরা মারধর ও নির্যাতন করেন রেজোয়ানাকে। সেই নির্যাতনের রেশ কাটতে না কাটতেই ৮ জুন বিকেল ৩টার দিকে আসামিরা মিলিত হয়ে তার শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। তীব্র দগ্ধ অবস্থায় প্রথমে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় রেজোয়ানাকে, পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার (১৩ জুন) সন্ধ্যায় তার মৃত্যু হয়। নিহত রেজোয়ানার দেড় বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।

নিহতের বাবার অভিযোগ, তার মেয়েকে যৌতুকের টাকা না দেওয়ায় জামাই পুড়িয়ে হত্যা করেছে। শ্বশুর-শাশুড়িরা আগুন নেভাতে না গিয়ে দরজা বন্ধ করে দিয়ে জানিয়ে দেয় মেয়ে আত্মহত্যা করেছে। তিনি মেয়ে হত্যাকারীদের কঠোর শাস্তি চান।

এ বিষয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন মাহিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল কুদ্দুস জানান, এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। এছাড়াও ঘটনার পর স্বামী, ননদননদের স্বামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত চলছে।