ঢাকা ০৭:৫৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রক্ত দিয়ে ফেরার পথে সড়কে প্রাণ গেলো রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি রবিউলের কিশোরগঞ্জে নকল ঔষধ কারখানায় অভিযান ও জরিমানা ‎জলঢাকায় বুড়িতিস্তা নদী খনন প্রকল্পের কার্যক্রম দ্রুত চালুর ও মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ নোয়াখালী বেগমগঞ্জ উপজেলার আলাইয়ারপুরে কবরস্থান থেকে বিদেশি অস্ত্র উদ্ধার নির্বাচনে নাশকতার সন্দেহ মনোহরদীতে বেগম খালেদা জিয়ার আশু রোগমুক্তি কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত রাজবাড়ীতে ননদের কামড়ে ছিড়ে গেছে ভাবীর ঠোঁট নিজ বাড়ি থেকে মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁর স্ত্রীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার মনোহরদীতে মোটরসাইকেল চাপায় মাদ্রাসা সুপার নিহত দেশের সবকিছুর ভিত্তি আইনশৃঙ্খলা শুরুতে সমস্যা থাকলেও এখন ভালো অবস্থা পররাষ্ট্র উপদেষ্টা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় “শান্তিতে থাকবো” অপরকে শান্তিতে রাখবো সামাজিক সংগঠন এর উদ্যোগ শীতবস্ত্র বিতরণ

এক মাসের ব্যবধানে বাবা-চাচা দু’জনকে হারিয়েও হাফেজ হলো শাহজালাল

মোঃ ইসমাইল হোসেন,স্টাফ রিপোর্টার,
  • আপডেট সময় : ০৯:২৭:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ মে ২০২৫ ১১০ বার পড়া হয়েছে

এক মাসের ব্যবধানে বাবা-চাচা দু’জনকে হারিয়েও হাফেজ হলো শাহজালাল

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মোঃ ইসমাইল হোসেন,স্টাফ রিপোর্টার,

দারুল মাজিদ মাহমুদিয়া মাদ্রাসা ইস্ট টাউন, মদনপুর, বন্দর, নারায়ণগঞ্জ—একটি স্বনামধন্য, নিবেদিতপ্রাণ প্রাইভেট কওমি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এখানে শিক্ষার্থীদের শুধু পড়ানো হয় না, প্রতিটি শিশুকে স্বর্ণের অলংকারের মতো গড়ে তোলার নিরন্তর চেষ্টা চলে। এই মাদ্রাসার আদর্শ নূরানী বিভাগ, মানসম্পন্ন আধুনিক নাজেরা বিভাগ, হিফজুল কোরআন রিভিশন বিভাগ এবং মাদানী নিসাবের মতো বিভাগগুলো শিক্ষার্থীদের জন্য সুবিন্যস্ত, পূর্ণতা-মুখী এক দ্বীনি পথচলা নিশ্চিত করে।

শাহজালাল, এই মাদ্রাসারই একজন মেধাবী শিক্ষার্থী। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে তার পিতা ও জ্যাঠা—পরিবারের দুই অভিভাবক পরপর দুনিয়া থেকে চলে যান। বাবা ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে মৃত্যুবরণ করেন। সেই চিকিৎসায় পরিবার ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ে। জমিজমা, একটি অটো গাড়ি—সবই বিক্রি করে শেষপর্যন্ত মায়ের কাঁধে পড়ে সন্তানের হেফজ জীবনের ভার।

মা লিমা আক্তার, রূপগঞ্জের একটি কারখানায় মাত্র দশ হাজার টাকা বেতনে কাজ করেন। এই অল্প আয়ে বাসা ভাড়া, খাওয়া, চিকিৎসা, সন্তানকে মাদ্রাসায় রেখে পড়ানো—সবকিছুই যেন এক অসহ্য চাপ।

তবু শাহজালালের মন থেমে থাকেনি। শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে, ভাঙা হৃদয়ের ওপর দাঁড়িয়েই সে ৩০ পারা হেফজ সম্পন্ন করেছে। এই পথচলায় তার সবচেয়ে বড় ভরসা ছিল তার মাদ্রাসা।

এই সফলতা একক নয়—এটি দারুল মাজিদ মাহমুদিয়া মাদ্রাসার প্রথম সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ অর্জন। প্রতিষ্ঠানের হাফেজ মাহমুদুল হাসান সাহেব দীর্ঘদিন ধরে সীমিত সামর্থ্য নিয়েও দরিদ্র, এতিম, অসহায় ছাত্রদের মুখে আলোর প্রদীপ জ্বালাতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

প্রায় ৫০ জন ছাত্রের এই প্রতিষ্ঠানে অন্তত ১০ জন শিক্ষার্থী আছেন, যাদের পরিবার মাসে দেড়-তিন হাজার টাকার বেশি দিতে পারেন না। ফলে পরিচালনার ভার দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে। সাধারণ মানুষ অনেক সময় মনে করেন প্রাইভেট মাদ্রাসায় হয়তো দানের প্রয়োজন নেই। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন।

একজন হাফেজে কোরআন তৈরির এই রক্তমিশ্রিত শ্রমের পেছনে আমাদের সকলের অংশীদার হওয়া উচিত। আমাদের সামান্য দান, মাসিক একটি সহযোগিতা, হয়তো একটি ত্যাগ—এটাই শাহজালালের মতো আরও অনেক শিশুদের ভবিষ্যৎ গড়ে দিতে পারে।

আপনি কি সেই একজন হতে চান, যার হৃদয় ,একটি শিশু কুরআনের আলো নিয়ে এগিয়ে চললে আনন্দিত হয়।
আপনার সহযোগিতা, আপনার দান—একজন নতুন ‘নায়েবে রাসুল’-এর হাত ধরেই হতে পারে আপনার নাজাতের কারণ।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

এক মাসের ব্যবধানে বাবা-চাচা দু’জনকে হারিয়েও হাফেজ হলো শাহজালাল

আপডেট সময় : ০৯:২৭:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ মে ২০২৫

মোঃ ইসমাইল হোসেন,স্টাফ রিপোর্টার,

দারুল মাজিদ মাহমুদিয়া মাদ্রাসা ইস্ট টাউন, মদনপুর, বন্দর, নারায়ণগঞ্জ—একটি স্বনামধন্য, নিবেদিতপ্রাণ প্রাইভেট কওমি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এখানে শিক্ষার্থীদের শুধু পড়ানো হয় না, প্রতিটি শিশুকে স্বর্ণের অলংকারের মতো গড়ে তোলার নিরন্তর চেষ্টা চলে। এই মাদ্রাসার আদর্শ নূরানী বিভাগ, মানসম্পন্ন আধুনিক নাজেরা বিভাগ, হিফজুল কোরআন রিভিশন বিভাগ এবং মাদানী নিসাবের মতো বিভাগগুলো শিক্ষার্থীদের জন্য সুবিন্যস্ত, পূর্ণতা-মুখী এক দ্বীনি পথচলা নিশ্চিত করে।

শাহজালাল, এই মাদ্রাসারই একজন মেধাবী শিক্ষার্থী। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে তার পিতা ও জ্যাঠা—পরিবারের দুই অভিভাবক পরপর দুনিয়া থেকে চলে যান। বাবা ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে মৃত্যুবরণ করেন। সেই চিকিৎসায় পরিবার ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ে। জমিজমা, একটি অটো গাড়ি—সবই বিক্রি করে শেষপর্যন্ত মায়ের কাঁধে পড়ে সন্তানের হেফজ জীবনের ভার।

মা লিমা আক্তার, রূপগঞ্জের একটি কারখানায় মাত্র দশ হাজার টাকা বেতনে কাজ করেন। এই অল্প আয়ে বাসা ভাড়া, খাওয়া, চিকিৎসা, সন্তানকে মাদ্রাসায় রেখে পড়ানো—সবকিছুই যেন এক অসহ্য চাপ।

তবু শাহজালালের মন থেমে থাকেনি। শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে, ভাঙা হৃদয়ের ওপর দাঁড়িয়েই সে ৩০ পারা হেফজ সম্পন্ন করেছে। এই পথচলায় তার সবচেয়ে বড় ভরসা ছিল তার মাদ্রাসা।

এই সফলতা একক নয়—এটি দারুল মাজিদ মাহমুদিয়া মাদ্রাসার প্রথম সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ অর্জন। প্রতিষ্ঠানের হাফেজ মাহমুদুল হাসান সাহেব দীর্ঘদিন ধরে সীমিত সামর্থ্য নিয়েও দরিদ্র, এতিম, অসহায় ছাত্রদের মুখে আলোর প্রদীপ জ্বালাতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

প্রায় ৫০ জন ছাত্রের এই প্রতিষ্ঠানে অন্তত ১০ জন শিক্ষার্থী আছেন, যাদের পরিবার মাসে দেড়-তিন হাজার টাকার বেশি দিতে পারেন না। ফলে পরিচালনার ভার দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে। সাধারণ মানুষ অনেক সময় মনে করেন প্রাইভেট মাদ্রাসায় হয়তো দানের প্রয়োজন নেই। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন।

একজন হাফেজে কোরআন তৈরির এই রক্তমিশ্রিত শ্রমের পেছনে আমাদের সকলের অংশীদার হওয়া উচিত। আমাদের সামান্য দান, মাসিক একটি সহযোগিতা, হয়তো একটি ত্যাগ—এটাই শাহজালালের মতো আরও অনেক শিশুদের ভবিষ্যৎ গড়ে দিতে পারে।

আপনি কি সেই একজন হতে চান, যার হৃদয় ,একটি শিশু কুরআনের আলো নিয়ে এগিয়ে চললে আনন্দিত হয়।
আপনার সহযোগিতা, আপনার দান—একজন নতুন ‘নায়েবে রাসুল’-এর হাত ধরেই হতে পারে আপনার নাজাতের কারণ।