ঢাকা ০৫:৩৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০১ জুন ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের কোনো অভয়ারণ্য থাকবে না, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নোয়াখালীতে শেখ হাসিনা কে গালির প্রতিক্রিয়ায় এনসিপি নেতাকে জনতার গণধোলাই ঠাকুরগাঁওয়ে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, স্বামী নিখোঁজ বেগমগঞ্জে যুবককে পিটিয়ে হত্যার প্রতিবাদে হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ দুধিয়াবাড়ি এলাকায় রেললাইনের পাশে যুবকের মাথাকাটা মরদেহ, পকেটে মিললো চিরকুট দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে পিতা ও পুত্র আহত নেত্রকোণায় জেলা ছাত্রদলের উদ্যোগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উদযাপন খিলগাঁওয়ে দুস্থ মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী ভোলায় গৃহবধূকে ধর্ষণ করতে গিয়ে বিশেষ অঙ্গ হারাতে বসেছেন যুবক মুক্তিযোদ্ধাদের আয়োজনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী পালিত

এক মাসের ব্যবধানে বাবা-চাচা দু’জনকে হারিয়েও হাফেজ হলো শাহজালাল

মোঃ ইসমাইল হোসেন,স্টাফ রিপোর্টার,
  • আপডেট সময় : ০৯:২৭:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ মে ২০২৫ ২০৫ বার পড়া হয়েছে

এক মাসের ব্যবধানে বাবা-চাচা দু’জনকে হারিয়েও হাফেজ হলো শাহজালাল

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

মোঃ ইসমাইল হোসেন,স্টাফ রিপোর্টার,

দারুল মাজিদ মাহমুদিয়া মাদ্রাসা ইস্ট টাউন, মদনপুর, বন্দর, নারায়ণগঞ্জ—একটি স্বনামধন্য, নিবেদিতপ্রাণ প্রাইভেট কওমি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এখানে শিক্ষার্থীদের শুধু পড়ানো হয় না, প্রতিটি শিশুকে স্বর্ণের অলংকারের মতো গড়ে তোলার নিরন্তর চেষ্টা চলে। এই মাদ্রাসার আদর্শ নূরানী বিভাগ, মানসম্পন্ন আধুনিক নাজেরা বিভাগ, হিফজুল কোরআন রিভিশন বিভাগ এবং মাদানী নিসাবের মতো বিভাগগুলো শিক্ষার্থীদের জন্য সুবিন্যস্ত, পূর্ণতা-মুখী এক দ্বীনি পথচলা নিশ্চিত করে।

শাহজালাল, এই মাদ্রাসারই একজন মেধাবী শিক্ষার্থী। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে তার পিতা ও জ্যাঠা—পরিবারের দুই অভিভাবক পরপর দুনিয়া থেকে চলে যান। বাবা ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে মৃত্যুবরণ করেন। সেই চিকিৎসায় পরিবার ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ে। জমিজমা, একটি অটো গাড়ি—সবই বিক্রি করে শেষপর্যন্ত মায়ের কাঁধে পড়ে সন্তানের হেফজ জীবনের ভার।

মা লিমা আক্তার, রূপগঞ্জের একটি কারখানায় মাত্র দশ হাজার টাকা বেতনে কাজ করেন। এই অল্প আয়ে বাসা ভাড়া, খাওয়া, চিকিৎসা, সন্তানকে মাদ্রাসায় রেখে পড়ানো—সবকিছুই যেন এক অসহ্য চাপ।

তবু শাহজালালের মন থেমে থাকেনি। শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে, ভাঙা হৃদয়ের ওপর দাঁড়িয়েই সে ৩০ পারা হেফজ সম্পন্ন করেছে। এই পথচলায় তার সবচেয়ে বড় ভরসা ছিল তার মাদ্রাসা।

এই সফলতা একক নয়—এটি দারুল মাজিদ মাহমুদিয়া মাদ্রাসার প্রথম সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ অর্জন। প্রতিষ্ঠানের হাফেজ মাহমুদুল হাসান সাহেব দীর্ঘদিন ধরে সীমিত সামর্থ্য নিয়েও দরিদ্র, এতিম, অসহায় ছাত্রদের মুখে আলোর প্রদীপ জ্বালাতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

প্রায় ৫০ জন ছাত্রের এই প্রতিষ্ঠানে অন্তত ১০ জন শিক্ষার্থী আছেন, যাদের পরিবার মাসে দেড়-তিন হাজার টাকার বেশি দিতে পারেন না। ফলে পরিচালনার ভার দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে। সাধারণ মানুষ অনেক সময় মনে করেন প্রাইভেট মাদ্রাসায় হয়তো দানের প্রয়োজন নেই। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন।

একজন হাফেজে কোরআন তৈরির এই রক্তমিশ্রিত শ্রমের পেছনে আমাদের সকলের অংশীদার হওয়া উচিত। আমাদের সামান্য দান, মাসিক একটি সহযোগিতা, হয়তো একটি ত্যাগ—এটাই শাহজালালের মতো আরও অনেক শিশুদের ভবিষ্যৎ গড়ে দিতে পারে।

আপনি কি সেই একজন হতে চান, যার হৃদয় ,একটি শিশু কুরআনের আলো নিয়ে এগিয়ে চললে আনন্দিত হয়।
আপনার সহযোগিতা, আপনার দান—একজন নতুন ‘নায়েবে রাসুল’-এর হাত ধরেই হতে পারে আপনার নাজাতের কারণ।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

 

এক মাসের ব্যবধানে বাবা-চাচা দু’জনকে হারিয়েও হাফেজ হলো শাহজালাল

আপডেট সময় : ০৯:২৭:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ মে ২০২৫
print news

মোঃ ইসমাইল হোসেন,স্টাফ রিপোর্টার,

দারুল মাজিদ মাহমুদিয়া মাদ্রাসা ইস্ট টাউন, মদনপুর, বন্দর, নারায়ণগঞ্জ—একটি স্বনামধন্য, নিবেদিতপ্রাণ প্রাইভেট কওমি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এখানে শিক্ষার্থীদের শুধু পড়ানো হয় না, প্রতিটি শিশুকে স্বর্ণের অলংকারের মতো গড়ে তোলার নিরন্তর চেষ্টা চলে। এই মাদ্রাসার আদর্শ নূরানী বিভাগ, মানসম্পন্ন আধুনিক নাজেরা বিভাগ, হিফজুল কোরআন রিভিশন বিভাগ এবং মাদানী নিসাবের মতো বিভাগগুলো শিক্ষার্থীদের জন্য সুবিন্যস্ত, পূর্ণতা-মুখী এক দ্বীনি পথচলা নিশ্চিত করে।

শাহজালাল, এই মাদ্রাসারই একজন মেধাবী শিক্ষার্থী। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে তার পিতা ও জ্যাঠা—পরিবারের দুই অভিভাবক পরপর দুনিয়া থেকে চলে যান। বাবা ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে মৃত্যুবরণ করেন। সেই চিকিৎসায় পরিবার ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ে। জমিজমা, একটি অটো গাড়ি—সবই বিক্রি করে শেষপর্যন্ত মায়ের কাঁধে পড়ে সন্তানের হেফজ জীবনের ভার।

মা লিমা আক্তার, রূপগঞ্জের একটি কারখানায় মাত্র দশ হাজার টাকা বেতনে কাজ করেন। এই অল্প আয়ে বাসা ভাড়া, খাওয়া, চিকিৎসা, সন্তানকে মাদ্রাসায় রেখে পড়ানো—সবকিছুই যেন এক অসহ্য চাপ।

তবু শাহজালালের মন থেমে থাকেনি। শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে, ভাঙা হৃদয়ের ওপর দাঁড়িয়েই সে ৩০ পারা হেফজ সম্পন্ন করেছে। এই পথচলায় তার সবচেয়ে বড় ভরসা ছিল তার মাদ্রাসা।

এই সফলতা একক নয়—এটি দারুল মাজিদ মাহমুদিয়া মাদ্রাসার প্রথম সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ অর্জন। প্রতিষ্ঠানের হাফেজ মাহমুদুল হাসান সাহেব দীর্ঘদিন ধরে সীমিত সামর্থ্য নিয়েও দরিদ্র, এতিম, অসহায় ছাত্রদের মুখে আলোর প্রদীপ জ্বালাতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

প্রায় ৫০ জন ছাত্রের এই প্রতিষ্ঠানে অন্তত ১০ জন শিক্ষার্থী আছেন, যাদের পরিবার মাসে দেড়-তিন হাজার টাকার বেশি দিতে পারেন না। ফলে পরিচালনার ভার দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে। সাধারণ মানুষ অনেক সময় মনে করেন প্রাইভেট মাদ্রাসায় হয়তো দানের প্রয়োজন নেই। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন।

একজন হাফেজে কোরআন তৈরির এই রক্তমিশ্রিত শ্রমের পেছনে আমাদের সকলের অংশীদার হওয়া উচিত। আমাদের সামান্য দান, মাসিক একটি সহযোগিতা, হয়তো একটি ত্যাগ—এটাই শাহজালালের মতো আরও অনেক শিশুদের ভবিষ্যৎ গড়ে দিতে পারে।

আপনি কি সেই একজন হতে চান, যার হৃদয় ,একটি শিশু কুরআনের আলো নিয়ে এগিয়ে চললে আনন্দিত হয়।
আপনার সহযোগিতা, আপনার দান—একজন নতুন ‘নায়েবে রাসুল’-এর হাত ধরেই হতে পারে আপনার নাজাতের কারণ।