ঢাকা ১০:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬, ২৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ডিএমপির উদ্যোগে গুলশানে হেলমেট ভাঙ্গার ব্যতিক্রমী কর্মসূচি রূপগঞ্জে পুলিশের অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার হযরত শাহজালাল বিমান বন্দরে কোটি টাকার সোনা ও বিদেশী মুদ্রা সহ হজ্ব কাফেলার মোয়াল্লেম আটক জীবননগরে চিকিৎসক সংকট, সেবা থেকে বঞ্চিত মানুষ রংপুর অঞ্চলে কৃষিতে সুবাতাস লেগেছে যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন, শৈলকুপায় অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর বিষপানে মৃত্যু বিসিবি বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ড, হাসনাত আবদুল্লাহ কাঁচপুর থেকে মেঘনা টোল প্লাজা পর্যন্ত ২০ কিমি যানজট গাজীপুরে ডাকাতির নাটক সাজিয়ে শাশুড়িকে খুন, পুত্রবধূ সহ গ্রেফতার-৩ রূপগঞ্জে অবৈধ ভোজ্য তেল উৎপাদন, দুই প্রতিষ্ঠানে দেড় লাখ টাকা জরিমানা

সাংবাদিক সমাজে বিভাজন: কে কার পক্ষে, কে কার বিরুদ্ধে?

আরিফুর রহমান তীব্র,ডবলমুড়িং থানা প্রতিনিধি চট্টগ্রাম
  • আপডেট সময় : ০২:৫৬:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ মে ২০২৫ ১৩৩ বার পড়া হয়েছে

সাংবাদিক সমাজে বিভাজন: কে কার পক্ষে, কে কার বিরুদ্ধে?

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

আরিফুর রহমান তীব্র,ডবলমুড়িং থানা প্রতিনিধি চট্টগ্রাম

অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার চরম মূল্য দিচ্ছেন প্রকৃত সাংবাদিকরা

বর্তমান সময়ে সাংবাদিকরা পদে পদে লাঞ্ছিত হচ্ছেন। সমাজে সত্যের পক্ষে কলম ধরার অপরাধে অনেককে হতে হচ্ছে অপমানিত, নিগৃহীত, এমনকি পেশাগতভাবে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টাও চলছে। এই পরিস্থিতি কেবল সাধারণ মানুষের দিক থেকে নয়—অনেক সময় সাংবাদিকদেরই কিছু অংশ, নিজেদের স্বার্থে বা কোনো ক্ষমতাধর ব্যক্তির ছত্রছায়ায় আশ্রয় নিয়ে, সত্যবাদী সহকর্মীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছেন।

বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায়, যখন কোনো সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন, তখন কিছু সাংবাদিক সেই দুর্নীতির তথ্য উন্মোচনের জন্য অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরি করেন। উদ্দেশ্য থাকে জনগণের কাছে সত্য পৌঁছে দেওয়া। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, সেই কর্মকর্তারা নিজেদের রক্ষা করতে পরোক্ষভাবে সাংবাদিকদেরকেই অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেন। তারা কিছু সুবিধাভোগী সাংবাদিককে ডেকে বলেন: “ওই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে যদি আপনারা লেখেন, তাহলে আপনাদের সব সুবিধা দেওয়া হবে।”

আর তখনই শুরু হয় নোংরা খেলা। কিছু সাংবাদিক সহজেই ফাঁদে পা দেন। তারা ভুলে যান পেশার নৈতিকতা, ভুলে যান সাংবাদিকতা মানে জনগণের কথা বলা। বরং ভাবতে শুরু করেন, “এই সুযোগ তো হাতছাড়া করা যাবে না!” আর এই চিন্তা থেকেই তারা সেই প্রকৃত সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ফেক আইডি খুলে, নাম-বেনামে অপপ্রচার শুরু করেন।

প্রশ্ন উঠেছে—কেন? আমরা সবাই তো সাংবাদিক, আমরা তো একই পরিবার। আমরা যদি নিজেরাই একে অপরের বিরুদ্ধে লড়াই করি, তাহলে প্রশাসনের উচ্চপদস্থ দুর্নীতিবাজদের কি লাভ হয় না? তারা তো খুশি হয়, কারসাংবাদিক সমাজে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। আর এটাই তাদের কৌশল। সত্য প্রচারকারীদের মুখ বন্ধ করতে, বিভক্ত করো—শাসন করো।

তাই এখনই সময়, আমাদের ভাবার। আমরা কেন একজন দুর্নীতিবাজ আমলার জন্য নিজেদের পেশাগত ভ্রাতৃত্ব বিসর্জন দেবো? কেসাংবাদিকতার মহান দায়িত্ব ভুলে গিয়ে ব্যক্তি স্বার্থের দিকে ছুটবো? সরকারি কর্মকর্তারা আজ আছে, কাল নেই। কিন্তু সাংবাদিকতা থাকবে—মানুষের জন্য, দেশের জন্য।

প্রকৃত সাংবাদিকতা মানেই জনগণের কাছে সত্য পৌঁছে দেওয়া, অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো। আসুন, আমরা সাংবাদিকরা একসঙ্গে থাকি। বিভক্ত না হয়ে ঐক্যবদ্ধ হই। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হই—কোনো প্রলোভনের কাছে মাথা নত না করি।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

 

সাংবাদিক সমাজে বিভাজন: কে কার পক্ষে, কে কার বিরুদ্ধে?

আপডেট সময় : ০২:৫৬:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ মে ২০২৫
print news

আরিফুর রহমান তীব্র,ডবলমুড়িং থানা প্রতিনিধি চট্টগ্রাম

অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার চরম মূল্য দিচ্ছেন প্রকৃত সাংবাদিকরা

বর্তমান সময়ে সাংবাদিকরা পদে পদে লাঞ্ছিত হচ্ছেন। সমাজে সত্যের পক্ষে কলম ধরার অপরাধে অনেককে হতে হচ্ছে অপমানিত, নিগৃহীত, এমনকি পেশাগতভাবে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টাও চলছে। এই পরিস্থিতি কেবল সাধারণ মানুষের দিক থেকে নয়—অনেক সময় সাংবাদিকদেরই কিছু অংশ, নিজেদের স্বার্থে বা কোনো ক্ষমতাধর ব্যক্তির ছত্রছায়ায় আশ্রয় নিয়ে, সত্যবাদী সহকর্মীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছেন।

বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায়, যখন কোনো সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন, তখন কিছু সাংবাদিক সেই দুর্নীতির তথ্য উন্মোচনের জন্য অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরি করেন। উদ্দেশ্য থাকে জনগণের কাছে সত্য পৌঁছে দেওয়া। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, সেই কর্মকর্তারা নিজেদের রক্ষা করতে পরোক্ষভাবে সাংবাদিকদেরকেই অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেন। তারা কিছু সুবিধাভোগী সাংবাদিককে ডেকে বলেন: “ওই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে যদি আপনারা লেখেন, তাহলে আপনাদের সব সুবিধা দেওয়া হবে।”

আর তখনই শুরু হয় নোংরা খেলা। কিছু সাংবাদিক সহজেই ফাঁদে পা দেন। তারা ভুলে যান পেশার নৈতিকতা, ভুলে যান সাংবাদিকতা মানে জনগণের কথা বলা। বরং ভাবতে শুরু করেন, “এই সুযোগ তো হাতছাড়া করা যাবে না!” আর এই চিন্তা থেকেই তারা সেই প্রকৃত সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ফেক আইডি খুলে, নাম-বেনামে অপপ্রচার শুরু করেন।

প্রশ্ন উঠেছে—কেন? আমরা সবাই তো সাংবাদিক, আমরা তো একই পরিবার। আমরা যদি নিজেরাই একে অপরের বিরুদ্ধে লড়াই করি, তাহলে প্রশাসনের উচ্চপদস্থ দুর্নীতিবাজদের কি লাভ হয় না? তারা তো খুশি হয়, কারসাংবাদিক সমাজে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। আর এটাই তাদের কৌশল। সত্য প্রচারকারীদের মুখ বন্ধ করতে, বিভক্ত করো—শাসন করো।

তাই এখনই সময়, আমাদের ভাবার। আমরা কেন একজন দুর্নীতিবাজ আমলার জন্য নিজেদের পেশাগত ভ্রাতৃত্ব বিসর্জন দেবো? কেসাংবাদিকতার মহান দায়িত্ব ভুলে গিয়ে ব্যক্তি স্বার্থের দিকে ছুটবো? সরকারি কর্মকর্তারা আজ আছে, কাল নেই। কিন্তু সাংবাদিকতা থাকবে—মানুষের জন্য, দেশের জন্য।

প্রকৃত সাংবাদিকতা মানেই জনগণের কাছে সত্য পৌঁছে দেওয়া, অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো। আসুন, আমরা সাংবাদিকরা একসঙ্গে থাকি। বিভক্ত না হয়ে ঐক্যবদ্ধ হই। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হই—কোনো প্রলোভনের কাছে মাথা নত না করি।