ঢাকা ০৮:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পরশুরামে স্কুল শিক্ষার্থী বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটে মৃত্যু নওগাঁয় খাবারের প্রলোভনে শিশুকে ধর্ষণ রূপগঞ্জে ব্যবসায়ীর বাড়িতে হামলা, আহত ৪, লুট ১২ লক্ষাধিক টাকার মালামাল জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও বাড়েনি গণপরিবহনের ভাড়া সুনামগঞ্জের বিদ্যুতের মেরামত করতে গিয়ে কৃষকের মৃত্যু নেত্রকোনায় স্ত্রীর হাত-পায়ের রগ কেটে দেয়ার অভিযোগে স্বামী আটক নগরীর আইডিয়াল মোড় সংলগ্ন মহাসড়কে বাসচাপায় ঠিকাদার নিহত খুলনায় নিজ রাইফেলের গুলিতে পুলিশ সদস্যের আত্মহত্যা বৈশাখের ঝড় ও বজ্রপাতে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতির আশংকা কৃষি জমির টপসয়েল কাটা বাধা দিলেন ইউপি সদস্য রহিম উল্লাহ আমজাদহাটে জনমনে স্বস্তি

রাঙ্গুনিয়ায় নববর্ষ বৈশাখী উৎসবে জলকেলি ও বলি খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে

মুবিন বিন সোলাইমান রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৩:৩৯:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪ ১৭১ বার পড়া হয়েছে

রাঙ্গুনিয়ায় নববর্ষ বৈশাখী উৎসবে জলকেলি ও বলি খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

মুবিন বিন সোলাইমান রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: ইতিহাস থেকে পন্ডিতেরা মনে করেন মোগল সম্রাট আকবর বাংলা সন চালু করেন ১৫৮৬ খ্রিষ্টাব্দের ৫ নভেম্বর থেকে হিজরি, চন্দ্রাসন ও ইংরেজি সৌরসনকে ভিত্তি করে বাংলা সন প্রবর্তিত হয় বলে জানা যায়। নতুন এ সনটি প্রথমে ফসলি সন নামে পরিচিত থাকলেও বঙ্গাব্দ হিসেবেই তা পরিচিতি পায়। বাংলা নববর্ষ সম্রাট আকবরের সময় থেকে পালন করা হত। ঐ সময় বাংলার কৃষকেরা চৈত্র মাসের শেষ দিন পর্যন্ত জমিদার, তালুকদার এবং অন্যান্য ভূস্বামীদের খাজনা পরিশোধ করত। মেলা ও অন্যান্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হতো এ উপলক্ষে। পরবর্তী সময়ে বৈশাখ উপলক্ষে যে মেলার আয়োজন করা হতো, সে মেলাকে ‘বৈশাখী মেলা’ নামে নামকরণ করা হয়। সে থেকে বিশ্বের দেশসহ সারাদেশে বৈশাখী মেলা উদযাপন হয় বিশেষ করে। তারই ধারাবাহিকতায় রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় বিভিন্ন ইউনিয়নে বর্ষবরণ ও বর্ষবিদায় উপলক্ষে ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী বলি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।

বৈশাখী বলি খেলা উদযাপন পরিষদের আয়োজনে বৃহস্পতিবার(১৮ এপ্রিল) উপজেলার দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নের সাকিব শাহ চত্বরে আনজুমিয়ার খেলা অনুষ্ঠিত হয়। খেলায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে রাঙ্গামাটি জেলার মো. রুবেল বলী। এছাড়া রানার্স আপ হয়েছে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার নিশ্চিন্তপুর এলাকার মো. ইকবাল। এবারের খেলায় প্রায় ৫০ জন বলি অংশ নেয়। দুপুর থেকে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজারো দর্শকের সমাগম হয় মাঠে।

বৈশাখী বলি খেলা উদযাপন পরিষদ কমিটির প্রধান উপদেষ্ঠা ও দক্ষিন রাজানগর ইউপি চেয়ারম্যান আহমদ ছৈয়দ তালুকদারের সভাপতিত্বে খেলায় প্রধান অতিথি ছিলেন এন এন কে ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান খালেদ মাহমুদ। উদ্বোধন ছিলেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক কাউছার নূর লিটন। পরে রাতে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

এইদিকে উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়নের মারমা পল্লীতে প্রথমবারের মতো বর্ষবরণ ও বর্ষবিদায় উপলক্ষে মারমা সম্প্রদায়ের দিনব্যাপি ‘সাংগ্রাই পোয়ে’ বা জলকেলি উৎসব বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়নের চিড়িং বড়খোলাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তীব্র গরম উপেক্ষা করে উৎসবের দিন রাঙ্গুনিয়াসহ পার্শ্ববর্তী পার্বত্য এলাকার বিভিন্ন স্থান থেকে আসা উপজাতি তরুণ- তরুণীরা জলকেলিতে মেতে ওঠেন। স্থানীয় শত শত বাঙালিরাও এই উৎসবে যোগ দেন। বড়খোলা পাড়া গ্রামবাসীর ব্যানারে দিনব্যাপি আয়োজিত অনুষ্ঠানে ছিল আলোচনা সভা, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, জলকেলি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। জলকেলি উৎসব উপলক্ষে মেলার আয়োজন হয়। উৎসব উদযাপন কমিটির সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক অনন্ত মারমা চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন রাঙামাটি জেলা পরিষদ সদস্য অংসুছাইন চৌধুরী। উদ্বোধক ছিলেন সরফভাটা ইউপি চেয়ারম্যান শেখ ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মুজিবুল ইসলাম সরফি, মনির আহমেদ ফাউন্ডেশনের হারুন প্রমুখ।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

 

রাঙ্গুনিয়ায় নববর্ষ বৈশাখী উৎসবে জলকেলি ও বলি খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে

আপডেট সময় : ০৩:৩৯:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪
print news

মুবিন বিন সোলাইমান রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: ইতিহাস থেকে পন্ডিতেরা মনে করেন মোগল সম্রাট আকবর বাংলা সন চালু করেন ১৫৮৬ খ্রিষ্টাব্দের ৫ নভেম্বর থেকে হিজরি, চন্দ্রাসন ও ইংরেজি সৌরসনকে ভিত্তি করে বাংলা সন প্রবর্তিত হয় বলে জানা যায়। নতুন এ সনটি প্রথমে ফসলি সন নামে পরিচিত থাকলেও বঙ্গাব্দ হিসেবেই তা পরিচিতি পায়। বাংলা নববর্ষ সম্রাট আকবরের সময় থেকে পালন করা হত। ঐ সময় বাংলার কৃষকেরা চৈত্র মাসের শেষ দিন পর্যন্ত জমিদার, তালুকদার এবং অন্যান্য ভূস্বামীদের খাজনা পরিশোধ করত। মেলা ও অন্যান্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হতো এ উপলক্ষে। পরবর্তী সময়ে বৈশাখ উপলক্ষে যে মেলার আয়োজন করা হতো, সে মেলাকে ‘বৈশাখী মেলা’ নামে নামকরণ করা হয়। সে থেকে বিশ্বের দেশসহ সারাদেশে বৈশাখী মেলা উদযাপন হয় বিশেষ করে। তারই ধারাবাহিকতায় রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় বিভিন্ন ইউনিয়নে বর্ষবরণ ও বর্ষবিদায় উপলক্ষে ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী বলি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।

বৈশাখী বলি খেলা উদযাপন পরিষদের আয়োজনে বৃহস্পতিবার(১৮ এপ্রিল) উপজেলার দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নের সাকিব শাহ চত্বরে আনজুমিয়ার খেলা অনুষ্ঠিত হয়। খেলায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে রাঙ্গামাটি জেলার মো. রুবেল বলী। এছাড়া রানার্স আপ হয়েছে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার নিশ্চিন্তপুর এলাকার মো. ইকবাল। এবারের খেলায় প্রায় ৫০ জন বলি অংশ নেয়। দুপুর থেকে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজারো দর্শকের সমাগম হয় মাঠে।

বৈশাখী বলি খেলা উদযাপন পরিষদ কমিটির প্রধান উপদেষ্ঠা ও দক্ষিন রাজানগর ইউপি চেয়ারম্যান আহমদ ছৈয়দ তালুকদারের সভাপতিত্বে খেলায় প্রধান অতিথি ছিলেন এন এন কে ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান খালেদ মাহমুদ। উদ্বোধন ছিলেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক কাউছার নূর লিটন। পরে রাতে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

এইদিকে উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়নের মারমা পল্লীতে প্রথমবারের মতো বর্ষবরণ ও বর্ষবিদায় উপলক্ষে মারমা সম্প্রদায়ের দিনব্যাপি ‘সাংগ্রাই পোয়ে’ বা জলকেলি উৎসব বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়নের চিড়িং বড়খোলাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তীব্র গরম উপেক্ষা করে উৎসবের দিন রাঙ্গুনিয়াসহ পার্শ্ববর্তী পার্বত্য এলাকার বিভিন্ন স্থান থেকে আসা উপজাতি তরুণ- তরুণীরা জলকেলিতে মেতে ওঠেন। স্থানীয় শত শত বাঙালিরাও এই উৎসবে যোগ দেন। বড়খোলা পাড়া গ্রামবাসীর ব্যানারে দিনব্যাপি আয়োজিত অনুষ্ঠানে ছিল আলোচনা সভা, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, জলকেলি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। জলকেলি উৎসব উপলক্ষে মেলার আয়োজন হয়। উৎসব উদযাপন কমিটির সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক অনন্ত মারমা চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন রাঙামাটি জেলা পরিষদ সদস্য অংসুছাইন চৌধুরী। উদ্বোধক ছিলেন সরফভাটা ইউপি চেয়ারম্যান শেখ ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মুজিবুল ইসলাম সরফি, মনির আহমেদ ফাউন্ডেশনের হারুন প্রমুখ।