ঢাকা ০৬:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পরীক্ষার আগের দিনও প্রবেশপত্র পায়নি ২৯ পরীক্ষার্থী প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ রূপগঞ্জে জমি বিরোধে বিধবার দোকানে ভাঙচুর, ৭টিতে তালা দেওয়ার অভিযোগ অনলাইন জুয়ায় টাকা হারিয়ে যুবকের আত্মহত্যা নোয়াখালী-লক্ষ্মীপুরে তেলের সংকট ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও মিলছে না জ্বালানি পরশুরামে স্কুল শিক্ষার্থী বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটে মৃত্যু নওগাঁয় খাবারের প্রলোভনে শিশুকে ধর্ষণ রূপগঞ্জে ব্যবসায়ীর বাড়িতে হামলা, আহত ৪, লুট ১২ লক্ষাধিক টাকার মালামাল জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও বাড়েনি গণপরিবহনের ভাড়া সুনামগঞ্জের বিদ্যুতের মেরামত করতে গিয়ে কৃষকের মৃত্যু নেত্রকোনায় স্ত্রীর হাত-পায়ের রগ কেটে দেয়ার অভিযোগে স্বামী আটক

নড়াইলের নবগঙ্গা নদীর ওপর কচ্ছপ গতিতে চলছে সেতুর নির্মাণের কাজ

উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে 
  • আপডেট সময় : ০২:২৮:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মার্চ ২০২৪ ২৫৫ বার পড়া হয়েছে

নড়াইলের নবগঙ্গা নদীর ওপর কচ্ছপ গতিতে চলছে সেতুর নির্মাণের কাজ

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে 

নড়াইলের নবগঙ্গা নদীর ওপর কচ্ছপ গতিতে চলছে সেতুর নির্মাণের কাজ। নড়াইলের কালিয়ায় উপজেলার বারইপাড়ায় নবগঙ্গা নদীর ওপর কচ্ছপ গতিতে চলছে কালিয়া বারইপাড়া সেতু নির্মাণের কাজ। আড়াই বছরে সেতু নির্মাণের কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বারবার মেয়াদ বাড়িয়ে ছয় বছরেও কাজ শেষ হয়নি। নির্মাণ কাজ শেষের দিকে এসে সেতুর নকশায় ত্রুটি থাকায় নির্মাণ ব্যয়ও বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। এতে ক্ষুব্ধ এ পথে চলাচলকারী মানুষ।
তবে সড়ক ও জনপথ বিভাগ বলছে, অতিদ্রুতই সেতু নির্মাণের বাকি কাজ শেষ হবে। উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে জানান, সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নড়াইল জেলা শহর থেকে কালিয়া উপজেলা শহর ও ৮টি ইউনিয়নকে পৃথক করে রেখেছে নবগঙ্গা নদী। ফলে যোগাযোগে ব্যাপক ভোগান্তি পোহাতে হয় কালিয়া উপজেলাবাসীকে। সেই ভোগান্তি কমাতে উপজেলার বারইপাড়া খেয়াঘাটে ২০১৭ সালে একটি সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। নড়াইল-কালিয়া সড়কের ২১তম কিলোমিটারে নবগঙ্গা নদীর ওপর ৬৫১.৮৩ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ১০.২৫ মিটার প্রস্থের বারইপাড়া সেতু নির্মাণের ব্যয় ধরা হয়েছিল ৬৫ কোটি টাকা। সেতু নির্মাণের কাজ পেয়েছিলেন যশোরের ঠিকাদার মো. মইনুদ্দীন বাসী ও মো. জামিল ইকবাল। কার্যাদেশ অনুযায়ী ২০১৯ সালের জুন মাসে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তখন নির্দিষ্ট সময় শেষে কাজের অগ্রগতি ছিল মাত্র ২৩ শতাংশ।
পরবর্তীতে আরও তিন বার সময় বৃদ্ধি করা হলেও কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। শেষ সময়ে অর্থাৎ ৪র্থ বার মেয়াদ বৃদ্ধির সময় বাঁধে নকশা জটিলতা। সেতুর ছাদের কিছু অংশ নির্মাণ কাজ শেষে দেখা যায় সেতুর নিচ দিয়ে নৌ-যান চলাচল করতে পারছে না। পরে নকশা পরিবর্তন করে উঁচু করে সেতু নির্মাণের জন্য নতুন নকশা অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে ব্যয় বাড়ে প্রায় ৬০ কোটি টাকা। কয়েক দফায় সময় ও অর্থ বেড়ে এখন ব্যয় একশ ৩৫ কোটি ৯২ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। সেতুটি নির্মাণ হলে নড়াইল জেলা শহরের সঙ্গে সরাসরি সড়কপথে যুক্ত হবে কালিয়া উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন। ফলে তাদের ভোগান্তি কমবে। তবে সেতু নির্মাণের ধীরগতিতে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। দ্রুত কাজ শেষ করার আহ্বান তাদের।
কালিয়া উপজেলার পার-বিষ্ণুপুর গ্রামের বাসিন্দা জ্বিলহজ খান বলেন, খেয়া পারের জন্য আমাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। অনেক সময় রাত্রে নৌকা পাওয়া যায় না। আমাদের ভোগান্তির যেনো শেষ নেই। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের একটাই আবেদন, দ্রুত সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ করার ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
উপজেলার নোয়াগ্রাম এলাকার কলেজছাত্রী বৃষ্টি ফাতেমা বলেন, বিভিন্ন অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন এ ঘাট দিয়ে পার হয়। অনেক সময় খেয়া পাওয়া যায়, অনেক সময় যায় না। ঘাটগুলো ভালো না, ব্রিজটা হতে যেয়েও হচ্ছে না। স্কুল কলেজে যেতে সমস্যা হয়। কোনো রোগী অসুস্থ হলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয় না। আগুন লাগলে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি আসতে পারে না। ফেরি পার হয়ে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি আসতে আসতে আগুনে সব পুড়ে শেষ হয়ে যায়। আমরা খুব দুরাবস্থায় আছি। ব্রিজটা যাতে দ্রুত হয় সেজন্য কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
এ বিষয়ে নড়াইল সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলাম বলেন, নকশা পরিবর্তনের কারণে আলাদা টেন্ডার করা হয়েছে। টেন্ডারটি লাইভে আছে। আমাদের কাজ চলমান রয়েছে। আশা করি, ২০২৫ সালের ৩০ জুনের মধ্যে সমস্ত কাজ সম্পন্ন করতে পারব।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

 

নড়াইলের নবগঙ্গা নদীর ওপর কচ্ছপ গতিতে চলছে সেতুর নির্মাণের কাজ

আপডেট সময় : ০২:২৮:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মার্চ ২০২৪
print news

উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে 

নড়াইলের নবগঙ্গা নদীর ওপর কচ্ছপ গতিতে চলছে সেতুর নির্মাণের কাজ। নড়াইলের কালিয়ায় উপজেলার বারইপাড়ায় নবগঙ্গা নদীর ওপর কচ্ছপ গতিতে চলছে কালিয়া বারইপাড়া সেতু নির্মাণের কাজ। আড়াই বছরে সেতু নির্মাণের কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বারবার মেয়াদ বাড়িয়ে ছয় বছরেও কাজ শেষ হয়নি। নির্মাণ কাজ শেষের দিকে এসে সেতুর নকশায় ত্রুটি থাকায় নির্মাণ ব্যয়ও বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। এতে ক্ষুব্ধ এ পথে চলাচলকারী মানুষ।
তবে সড়ক ও জনপথ বিভাগ বলছে, অতিদ্রুতই সেতু নির্মাণের বাকি কাজ শেষ হবে। উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে জানান, সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নড়াইল জেলা শহর থেকে কালিয়া উপজেলা শহর ও ৮টি ইউনিয়নকে পৃথক করে রেখেছে নবগঙ্গা নদী। ফলে যোগাযোগে ব্যাপক ভোগান্তি পোহাতে হয় কালিয়া উপজেলাবাসীকে। সেই ভোগান্তি কমাতে উপজেলার বারইপাড়া খেয়াঘাটে ২০১৭ সালে একটি সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। নড়াইল-কালিয়া সড়কের ২১তম কিলোমিটারে নবগঙ্গা নদীর ওপর ৬৫১.৮৩ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ১০.২৫ মিটার প্রস্থের বারইপাড়া সেতু নির্মাণের ব্যয় ধরা হয়েছিল ৬৫ কোটি টাকা। সেতু নির্মাণের কাজ পেয়েছিলেন যশোরের ঠিকাদার মো. মইনুদ্দীন বাসী ও মো. জামিল ইকবাল। কার্যাদেশ অনুযায়ী ২০১৯ সালের জুন মাসে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তখন নির্দিষ্ট সময় শেষে কাজের অগ্রগতি ছিল মাত্র ২৩ শতাংশ।
পরবর্তীতে আরও তিন বার সময় বৃদ্ধি করা হলেও কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। শেষ সময়ে অর্থাৎ ৪র্থ বার মেয়াদ বৃদ্ধির সময় বাঁধে নকশা জটিলতা। সেতুর ছাদের কিছু অংশ নির্মাণ কাজ শেষে দেখা যায় সেতুর নিচ দিয়ে নৌ-যান চলাচল করতে পারছে না। পরে নকশা পরিবর্তন করে উঁচু করে সেতু নির্মাণের জন্য নতুন নকশা অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে ব্যয় বাড়ে প্রায় ৬০ কোটি টাকা। কয়েক দফায় সময় ও অর্থ বেড়ে এখন ব্যয় একশ ৩৫ কোটি ৯২ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। সেতুটি নির্মাণ হলে নড়াইল জেলা শহরের সঙ্গে সরাসরি সড়কপথে যুক্ত হবে কালিয়া উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন। ফলে তাদের ভোগান্তি কমবে। তবে সেতু নির্মাণের ধীরগতিতে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। দ্রুত কাজ শেষ করার আহ্বান তাদের।
কালিয়া উপজেলার পার-বিষ্ণুপুর গ্রামের বাসিন্দা জ্বিলহজ খান বলেন, খেয়া পারের জন্য আমাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। অনেক সময় রাত্রে নৌকা পাওয়া যায় না। আমাদের ভোগান্তির যেনো শেষ নেই। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের একটাই আবেদন, দ্রুত সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ করার ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
উপজেলার নোয়াগ্রাম এলাকার কলেজছাত্রী বৃষ্টি ফাতেমা বলেন, বিভিন্ন অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন এ ঘাট দিয়ে পার হয়। অনেক সময় খেয়া পাওয়া যায়, অনেক সময় যায় না। ঘাটগুলো ভালো না, ব্রিজটা হতে যেয়েও হচ্ছে না। স্কুল কলেজে যেতে সমস্যা হয়। কোনো রোগী অসুস্থ হলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয় না। আগুন লাগলে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি আসতে পারে না। ফেরি পার হয়ে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি আসতে আসতে আগুনে সব পুড়ে শেষ হয়ে যায়। আমরা খুব দুরাবস্থায় আছি। ব্রিজটা যাতে দ্রুত হয় সেজন্য কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
এ বিষয়ে নড়াইল সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলাম বলেন, নকশা পরিবর্তনের কারণে আলাদা টেন্ডার করা হয়েছে। টেন্ডারটি লাইভে আছে। আমাদের কাজ চলমান রয়েছে। আশা করি, ২০২৫ সালের ৩০ জুনের মধ্যে সমস্ত কাজ সম্পন্ন করতে পারব।