নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করলেন সাবেক গোয়েন্দা প্রধান রোনেন বার
- আপডেট সময় : ১০:৪৪:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে তিন মিলিয়ন শেকেল বা প্রায় ১০ লাখ ডলারের মানহানির মামলা করেছেন দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেতের সাবেক প্রধান রোনেন বার। বুধবার দায়ের করা এই মামলায় বার অভিযোগ করেছেন যে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার আগে বারবার সতর্কবার্তা দেয়া সত্ত্বেও নেতানিয়াহু তা উপেক্ষা করেছেন। বর্তমানে নেতানিয়াহু সেই নিরাপত্তা ব্যর্থতার দায় নিজের কাঁধ থেকে সরিয়ে অন্যদের ওপর চাপানোর চেষ্টা করছেন বলে বারের দাবি।
হামলার প্রেক্ষাপটে নেতানিয়াহুর অভিযোগ ছিল, রোনেন বার গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা তথ্য গোপন করেছিলেন এবং সেনাদের সতর্ক করতে কিংবা নোভা সংগীত উৎসবে অংশ নেয়া ব্যক্তিদের সরিয়ে নিতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। তবে রোনেন বার এসব অভিযোগ পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তার মতে, হামলার দায় এড়াতেই প্রধানমন্ত্রী তার বিরুদ্ধে এমন ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলছেন।
মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ৬ই অক্টোবর গভীর রাত থেকে ৭ই অক্টোবর ভোর পর্যন্ত হামাসের অস্বাভাবিক তৎপরতা সম্পর্কে শিন বেতের পক্ষ থেকে সেনাবাহিনী ও নেতানিয়াহুর সামরিক সচিবালয়কে ধারাবাহিকভাবে সতর্ক করা হয়েছিল। বিশেষ করে ভোর ৩টা ৩ মিনিটে একটি সতর্কবার্তা এবং ৩টা ৫৫ মিনিটে সামরিক সচিবালয়কে পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করা হয়। রোনেন বার অবশ্য হামলার ব্যাপকতা ও সময় সম্পর্কে আগাম ধারণা দিতে ব্যর্থ হওয়ার দায় স্বীকার করেছেন, যার জেরে তাকে শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করতে হয়। তবে তিনি দাবি করেন, ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি ও জুলাই মাসে ব্যক্তিগতভাবেও তিনি সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকি এবং অভ্যন্তরীণ বিভাজনের বিপদ সম্পর্কে নেতানিয়াহুকে সতর্ক করেছিলেন।
তদন্তের বিষয়ে মামলার নথিতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে, হামাসের জ্যেষ্ঠ নেতাদের লক্ষ্যবস্তু করার প্রস্তাব নেতানিয়াহু বারবার প্রত্যাখ্যান করেছেন বা সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করেছেন। এছাড়া গাজায় কাতারের অর্থ প্রবেশের অনুমতি দেয়া এবং সেখানে শান্ত বজায় রাখার নীতির সমালোচনা করেছেন বার। নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, বার চাইলে সুরক্ষিত ফোন লাইনের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে পারতেন, তবে বারের পাল্টা অভিযোগ, তাকে কখনোই প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত নম্বর দেয়া হয়নি।
উল্লেখ্য যে, ২০২৫ সালের মার্চ মাসে নেতানিয়াহুর সরকার রোনেন বারকে পদ থেকে সরিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও ইসরাইলের সুপ্রিম কোর্ট সেই সিদ্ধান্তকে বেআইনি ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে জুন মাসে বার পদত্যাগ করেন। ৭ অক্টোবরের ওই হামলায় প্রায় ১২০০ ইসরাইলি নিহত এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়েছিল, যার প্রতিক্রিয়ায় গাজায় ইসরাইলের চলমান অভিযানে ৭৪ হাজার ৩০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।


























