পদত্যাগ করিনি, সুস্থ হয়ে চুয়েটে ফিরব: উপাচার্য ড. শেখ শরীফুল
- আপডেট সময় : ০৮:১৩:৫০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম তার পদত্যাগের গুঞ্জন নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, তিনি পদত্যাগ করেননি এবং অসুস্থতা থেকে সেরে ওঠার পর পুনরায় বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব পালন করবেন। বুধবার এক বিবৃতিতে উপাচার্য বলেন, মঙ্গলবার প্রায় ৩০ ঘণ্টা নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ থাকার পর চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের উপস্থিতিতে তাকে ক্যাম্পাসের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন গণমাধ্যমে তার পদত্যাগ এবং ভবিষ্যতে ক্যাম্পাসে না ফেরার শর্তে বেরিয়ে যাওয়ার যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, তা সঠিক নয়। তিনি এমন কোনো বক্তব্য বা বিবৃতি দেননি বলে দাবি করেন।
উপাচার্য জানান, সোমবার দুপুর ১২টা থেকে বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় অবরুদ্ধ থাকায় তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার ভাষ্যমতে, এই দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ থাকা অবস্থায় তারসহ প্রায় ১১ জনের স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটে। সোমবার রাতে দুই সাবেক শিক্ষার্থী অসুস্থ হওয়ার পর তাদের একজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে চিকিৎসক ও সিভিল সার্জনের পরামর্শে তিনিও চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হন। অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম বলেন, রাষ্ট্র তাকে যে দায়িত্ব দিয়েছে, তা পালন করতেই চট্টগ্রামে এসেছেন। কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ, বিশেষ এজেন্ডা কিংবা দলীয় উদ্দেশ্য তার নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব পালন ও প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম সচল রাখাকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন। তিনি শিক্ষার্থীদের দ্রুত শ্রেণিকক্ষে ফেরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোনো স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর প্ররোচনায় যেন তাদের মূল্যবান শিক্ষাজীবন ও একাডেমিক কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। একইসঙ্গে সংবাদ প্রকাশের আগে তথ্য যাচাই ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য নেয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অন্যদিকে, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা এক বিবৃতিতে দাবি করেন, উপাচার্যকে ক্যাম্পাস থেকে বের হতে দেয়ার আগে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে তারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন যে, তিনি আর ক্যাম্পাসে আসবেন না—এই শর্তেই তাকে বের হওয়ার সুযোগ দেয়া হবে। শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, প্রশাসনের প্রতিনিধিরা সম্মতি জানানোর পর ভেতরে যান। পরে তারা বাইরে এসে গণমাধ্যমের সামনেও তিনবার একই শর্তের কথা জানান। ওই সময় উপাচার্য বা তার সঙ্গে থাকা অন্যরা আপত্তি জানাননি বলে দাবি তাদের। এ বিষয়ে উপস্থিত গণমাধ্যমের ধারণ করা ভিডিও, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। উপাচার্য পুনরায় ক্যাম্পাসে ফেরার চেষ্টা করলে আন্দোলন আরও কঠোর হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
এদিকে চুয়েট শিক্ষক সমিতি তাদের পূর্বঘোষিত কর্মবিরতি ও সর্বাত্মক অসহযোগ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। বুধবার দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে সমিতির সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে চুয়েট শিক্ষক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক সামিউন বাসির বলেন, তালা ভেঙে উপাচার্য ভবনে প্রবেশের ঘটনায় তারা উদ্বিগ্ন। ভবনের ভেতরে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র রয়েছে। সেগুলো চুরি হয়েছে কিনা এবং কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহালের দাবিতে তারা অটল রয়েছেন। শিক্ষার্থীরাও জানিয়েছেন, অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে উপাচার্য হিসেবে তারা গ্রহণ করছেন না। অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহাল করাই তাদের এক দফা দাবি। এ দাবিতে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ও ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

























