সুন্দরবনে ২১ জেলে অপহরণ: চার দিনেও সন্ধান মেলেনি, চলছে মুক্তিপণ আলোচনা
- আপডেট সময় : ০৭:৩৮:১৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৫ বার পড়া হয়েছে

প্রকাশ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০: ২১
পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জে বনদস্যুদের হাতে অপহৃত ২১ জেলের চার দিনেও কোনো সন্ধান মেলেনি। গত ২৫ ও ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে পৃথক হামলার ঘটনায় মজনু, করিম শরীফ ও বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্যরা এসব জেলেকে ধরে নিয়ে যায় বলে বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে। অপহৃতদের উদ্ধারে কোস্ট গার্ড সুন্দরবনের বিভিন্ন অংশে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে এবং আকাশপথে ড্রোন ব্যবহার করে নজরদারি করছে।
কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের সদস্যরা নৌপথে একাধিক দল নিয়ে সম্ভাব্য এলাকাগুলোতে অভিযান পরিচালনা করছেন। একই সঙ্গে জেলেদের নিরাপত্তায় বন বিভাগের নিয়মিত টহল বাড়ানো হয়েছে।
বন বিভাগ সূত্রে আরও জানা যায়, নারকেলবাড়িয়া, আমড়ারিয়া, ভদ্রা ও ভাঙ্গা এলাকায় এসব হামলার ঘটনা ঘটে। ২১ জেলেকে অপহরণের পাশাপাশি দস্যুরা একটি মাছ ধরার ট্রলার ও পাঁচটি মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে।
অপহরণের পর থেকেই জেলেদের পরিবারের সদস্য ও সংশ্লিষ্ট মহাজনদের মধ্যে গভীর উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। দস্যুদের ভয়ে অনেকে প্রকাশ্যে কথা বলতে চাইছেন না, কারণ পরিচয় প্রকাশ পেলে পরবর্তীতে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
এর মধ্যেই নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন মহাজন জানিয়েছেন, জেলেদের ফিরিয়ে আনতে দস্যুদের সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ চলছে। নিরাপত্তার কারণে মুক্তিপণ হিসেবে কত টাকা চাওয়া হয়েছে, তা তারা প্রকাশ করেননি। মহাজনদের দাবি, জেলেদের মুক্তির বিষয়ে দস্যুদের সঙ্গে আলোচনা ও দর-কষাকষি চলছে এবং টাকা পরিশোধ করা হলে জেলেদের ছেড়ে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। দ্রুত অর্থ পরিশোধের জন্য তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলেও তারা উল্লেখ করেছেন।
এদিকে, ২১ জেলে অপহরণের ঘটনায় সুন্দরবনে মাছ ধরতে যাওয়া অন্য জেলেদের মধ্যেও নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। অনেকেই দস্যু আতঙ্কে বনে যেতে দ্বিধায় পড়েছেন। তাদের দাবি, দস্যুদের তৎপরতা বন্ধের পাশাপাশি জেলেদের নিরাপদে মাছ ধরার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম জানান, অপহৃত জেলেদের এখনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। তাদের উদ্ধারে কোস্ট গার্ডের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি সুন্দরবনে থাকা জেলেদের রাতে দলবদ্ধভাবে অবস্থান করার এবং বন অফিসের আশপাশে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। একই সঙ্গে জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বন বিভাগের স্টেশন, টহল ফাঁড়ি ও দায়িত্বে থাকা বনরক্ষীদের নিয়মিত নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চার দিন পেরিয়ে গেলেও ২১ জেলের অবস্থান নিশ্চিত না হওয়ায় তাদের স্বজনদের অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হচ্ছে।




























