বিটিভি মহাপরিচালকের ক্ষমতা কি এখন কেবলই নামমাত্র?
- আপডেট সময় : ০২:৫৮:২৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ও বাংলাদেশ বেতারের স্বায়ত্তশাসনের বিষয়টি দীর্ঘদিনের আলোচনার বিষয়। গত দুই দশকে বেসরকারি টেলিভিশন ও রেডিওর ব্যাপক প্রসারের ফলে এই আলোচনা কিছুটা স্তিমিত হলেও, সম্প্রতি বিটিভির মহাপরিচালক পদে একজন অভিজ্ঞ মিডিয়া ব্যক্তিত্বকে নিয়োগ দেওয়ায় নতুন করে আশাবাদের সৃষ্টি হয়েছিল। অনেকের ধারণা ছিল, রাষ্ট্রায়ত্ত এই টেলিভিশন চ্যানেলটির মান ও চরিত্র পরিবর্তনে বর্তমান সরকার আন্তরিক। তবে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক একটি চিঠি সেই প্রত্যাশায় বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের এক সহকারী সচিবের স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বিটিভির মহাপরিচালককে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বিটিভির সোশ্যাল মিডিয়া পেজে যেকোনো জনসচেতনতামূলক বার্তা বা কনটেন্ট প্রচারের আগে অবশ্যই মন্ত্রণালয়ের পূর্বানুমোদন নিতে হবে। এই নির্দেশের ফলে বিটিভি মহাপরিচালকের পদটি কার্যত একটি ‘ডাক বাকসো’তে পরিণত হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া তার নিজস্ব কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ নেই বললেই চলে।
চিঠিতে মহাপরিচালকের জন্য বাধ্যতামূলক পূর্বানুমোদনের তালিকায় রয়েছে জনবল ব্যবস্থাপনা, পদ সৃষ্টি, নিয়োগ, পদায়ন, বদলি, নীতিগত পরিবর্তন, বিধি সংশোধন এবং বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন। এছাড়াও বার্ষিক বাজেট তৈরি, ক্রয়-বিক্রয়, রাজস্ব ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সম্প্রচার যন্ত্রপাতি যেমন—স্টুডিও সরঞ্জাম, ট্রান্সমিটার ও ওভি ভ্যান সংগ্রহের ক্ষেত্রেও মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এমনকি প্রান্তিক অনুষ্ঠানসূচি অনুমোদনের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, অতীতে বিটিভির মহাপরিচালককে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কখনোই এমন কঠোর চিঠি দেওয়া হয়নি। এর ফলে মহাপরিচালকের পদটি এখন ক্ষমতাহীন ও কর্তৃত্বহীন হয়ে পড়েছে। এই চিঠির মাধ্যমে মহাপরিচালকের পূর্বপ্রদত্ত ক্ষমতাও খর্ব করা হয়েছে। ২০২০ সালে তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে জারিকৃত এক আদেশে মহাপরিচালককে ১৭টি সুনির্দিষ্ট বিষয়ে যে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল, নতুন এই চিঠির মাধ্যমে তার বেশিরভাগই খর্ব করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।




























