ঢাকা ০১:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শিক্ষকতা ও সুরের মেলবন্ধনে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জুয়েল তাড়াশে সরকারি গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ, এলাকাবাসীর উদ্বেগ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তৃণমূল পর্যায়ে শক্তি বাড়াতে চায় এনসিপি মিরপুরের ফুটপাতে স্বস্তি, মোহাম্মদপুর-আজিমপুরে কবে মিলবে মুক্তি নয় মাসে প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে ৪১০টি অপতথ্য ছড়ানো হয়েছে: প্রেস সচিব কক্সবাজারের ইনানীতে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড, নিহত ৫ পর্যটক পদত্যাগ করলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শিউলি খানম এডেন বিমানবন্দরে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, অল্পের জন্য রক্ষা পেল বিমান নিজের সততার মূল্যায়ন পাননি বলে আক্ষেপ চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনির জ্বালানি ও পরিবহন খরচে রাজধানীসহ সারাদেশে ফের চালের দাম চড়া

বিটিভি মহাপরিচালকের ক্ষমতা কি এখন কেবলই নামমাত্র?

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০২:৫৮:২৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ও বাংলাদেশ বেতারের স্বায়ত্তশাসনের বিষয়টি দীর্ঘদিনের আলোচনার বিষয়। গত দুই দশকে বেসরকারি টেলিভিশন ও রেডিওর ব্যাপক প্রসারের ফলে এই আলোচনা কিছুটা স্তিমিত হলেও, সম্প্রতি বিটিভির মহাপরিচালক পদে একজন অভিজ্ঞ মিডিয়া ব্যক্তিত্বকে নিয়োগ দেওয়ায় নতুন করে আশাবাদের সৃষ্টি হয়েছিল। অনেকের ধারণা ছিল, রাষ্ট্রায়ত্ত এই টেলিভিশন চ্যানেলটির মান ও চরিত্র পরিবর্তনে বর্তমান সরকার আন্তরিক। তবে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক একটি চিঠি সেই প্রত্যাশায় বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের এক সহকারী সচিবের স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বিটিভির মহাপরিচালককে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বিটিভির সোশ্যাল মিডিয়া পেজে যেকোনো জনসচেতনতামূলক বার্তা বা কনটেন্ট প্রচারের আগে অবশ্যই মন্ত্রণালয়ের পূর্বানুমোদন নিতে হবে। এই নির্দেশের ফলে বিটিভি মহাপরিচালকের পদটি কার্যত একটি ‘ডাক বাকসো’তে পরিণত হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া তার নিজস্ব কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ নেই বললেই চলে।

চিঠিতে মহাপরিচালকের জন্য বাধ্যতামূলক পূর্বানুমোদনের তালিকায় রয়েছে জনবল ব্যবস্থাপনা, পদ সৃষ্টি, নিয়োগ, পদায়ন, বদলি, নীতিগত পরিবর্তন, বিধি সংশোধন এবং বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন। এছাড়াও বার্ষিক বাজেট তৈরি, ক্রয়-বিক্রয়, রাজস্ব ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সম্প্রচার যন্ত্রপাতি যেমন—স্টুডিও সরঞ্জাম, ট্রান্সমিটার ও ওভি ভ্যান সংগ্রহের ক্ষেত্রেও মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এমনকি প্রান্তিক অনুষ্ঠানসূচি অনুমোদনের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, অতীতে বিটিভির মহাপরিচালককে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কখনোই এমন কঠোর চিঠি দেওয়া হয়নি। এর ফলে মহাপরিচালকের পদটি এখন ক্ষমতাহীন ও কর্তৃত্বহীন হয়ে পড়েছে। এই চিঠির মাধ্যমে মহাপরিচালকের পূর্বপ্রদত্ত ক্ষমতাও খর্ব করা হয়েছে। ২০২০ সালে তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে জারিকৃত এক আদেশে মহাপরিচালককে ১৭টি সুনির্দিষ্ট বিষয়ে যে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল, নতুন এই চিঠির মাধ্যমে তার বেশিরভাগই খর্ব করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

বিটিভি মহাপরিচালকের ক্ষমতা কি এখন কেবলই নামমাত্র?

আপডেট সময় : ০২:৫৮:২৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ও বাংলাদেশ বেতারের স্বায়ত্তশাসনের বিষয়টি দীর্ঘদিনের আলোচনার বিষয়। গত দুই দশকে বেসরকারি টেলিভিশন ও রেডিওর ব্যাপক প্রসারের ফলে এই আলোচনা কিছুটা স্তিমিত হলেও, সম্প্রতি বিটিভির মহাপরিচালক পদে একজন অভিজ্ঞ মিডিয়া ব্যক্তিত্বকে নিয়োগ দেওয়ায় নতুন করে আশাবাদের সৃষ্টি হয়েছিল। অনেকের ধারণা ছিল, রাষ্ট্রায়ত্ত এই টেলিভিশন চ্যানেলটির মান ও চরিত্র পরিবর্তনে বর্তমান সরকার আন্তরিক। তবে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক একটি চিঠি সেই প্রত্যাশায় বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের এক সহকারী সচিবের স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বিটিভির মহাপরিচালককে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বিটিভির সোশ্যাল মিডিয়া পেজে যেকোনো জনসচেতনতামূলক বার্তা বা কনটেন্ট প্রচারের আগে অবশ্যই মন্ত্রণালয়ের পূর্বানুমোদন নিতে হবে। এই নির্দেশের ফলে বিটিভি মহাপরিচালকের পদটি কার্যত একটি ‘ডাক বাকসো’তে পরিণত হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া তার নিজস্ব কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ নেই বললেই চলে।

চিঠিতে মহাপরিচালকের জন্য বাধ্যতামূলক পূর্বানুমোদনের তালিকায় রয়েছে জনবল ব্যবস্থাপনা, পদ সৃষ্টি, নিয়োগ, পদায়ন, বদলি, নীতিগত পরিবর্তন, বিধি সংশোধন এবং বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন। এছাড়াও বার্ষিক বাজেট তৈরি, ক্রয়-বিক্রয়, রাজস্ব ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সম্প্রচার যন্ত্রপাতি যেমন—স্টুডিও সরঞ্জাম, ট্রান্সমিটার ও ওভি ভ্যান সংগ্রহের ক্ষেত্রেও মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এমনকি প্রান্তিক অনুষ্ঠানসূচি অনুমোদনের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, অতীতে বিটিভির মহাপরিচালককে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কখনোই এমন কঠোর চিঠি দেওয়া হয়নি। এর ফলে মহাপরিচালকের পদটি এখন ক্ষমতাহীন ও কর্তৃত্বহীন হয়ে পড়েছে। এই চিঠির মাধ্যমে মহাপরিচালকের পূর্বপ্রদত্ত ক্ষমতাও খর্ব করা হয়েছে। ২০২০ সালে তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে জারিকৃত এক আদেশে মহাপরিচালককে ১৭টি সুনির্দিষ্ট বিষয়ে যে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল, নতুন এই চিঠির মাধ্যমে তার বেশিরভাগই খর্ব করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin