দেশের প্রতিটি মানুষের মাথায় ঋণ ১ লাখ ২৯ হাজার টাকা: সংসদে অর্থমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ০৬:৪০:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে

দেশের প্রতিটি নাগরিকের মাথাপিছু ঋণের বোঝা কমাতে এবং আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সরকার বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বর্তমানে দেশের জনগণের মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৯ হাজার ২৩৯ টাকা ১৯ পয়সায়। জাতীয় সংসদের অধিবেশনে এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
রোববার ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে এই হিসাব উত্থাপন করা হয়। কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদের একটি লিখিত প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী এই পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। রেজা আহাম্মেদ তাঁর প্রশ্নে দেশের বর্তমান মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ, ২০২৬ সালে এর স্থিতি এবং এই ঋণের বোঝা লাঘবে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলো সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলেন। অর্থমন্ত্রী জানান, ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত দেশের জনগণের মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ হচ্ছে ১ লাখ ২৯ হাজার ২৩৯ দশমিক ১৯ টাকা।
ঋণের প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে আনতে সরকারের নিজস্ব আয় বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। এ লক্ষ্যে রাজস্ব আহরণের পরিধি সম্প্রসারণ এবং কর ও কর-বহির্ভূত রাজস্ব (এনটিআর) বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি ব্যয়কে আরও সাশ্রয়ী ও ফলপ্রসূ করার চেষ্টা চলছে। অপ্রয়োজনীয় বা কম অগ্রাধিকারযুক্ত ব্যয় নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সরকারের সামগ্রিক অর্থায়ন চাহিদা কমিয়ে আনার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।
ঋণ ব্যবস্থাপনাকে আরও সুশৃঙ্খল করতে এবং সুদের ব্যয় ও ঝুঁকি কমাতে বাজারভিত্তিক পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এ জন্য অভ্যন্তরীণ ঋণবাজারের উন্নয়ন এবং সরকারি সিকিউরিটিজের বাজারকে আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে অতিরিক্ত ঋণ নেওয়া নিয়ন্ত্রণে রাখতে নির্দিষ্ট সীমা বা সিলিং মেনে চলা হচ্ছে। পাশাপাশি সঞ্চয়পত্রের সুদের হারকে বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা উচ্চ ব্যয়ের ঋণের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ঋণ পোর্টফোলিও তৈরি করতে সাহায্য করবে।
অতিরিক্ত ও অপরিকল্পিত ঋণ এড়াতে সরকার এখন ‘অ্যানুয়াল বরোয়িং প্ল্যান’ বা বার্ষিক ঋণ পরিকল্পনা প্রণয়ন ও তা অনুসরণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। নগদ অর্থের প্রয়োজন, রাজস্ব ও ব্যয়ের প্রবাহ এবং ঋণ পরিশোধের সময়সূচি বিবেচনা করে ‘ক্যাশ ফোরকাস্টিং’ বা নগদ পূর্বাভাসের ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। এছাড়া আর্থিক খাতে जवाबদিহি নিশ্চিত করতে ‘পাবলিক মানি অ্যান্ড বাজেট ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্ট, ২০০৯’ (পিএমবিএম অ্যাক্ট)-এর বিধান কঠোরভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে জনগণের ওপর ঋণের চাপ কমাতে সহায়ক হবে বলে অর্থমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন।





























