মেয়র পদে নিজের মেয়াদ নিয়ে জামায়াত আমিরের মন্তব্যে ‘বিস্মিত’ চসিক মেয়র
- আপডেট সময় : ১০:৫৯:১০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেছেন, মেয়র হিসেবে তাঁর মেয়াদ নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের বক্তব্যে তিনি ‘বিস্মিত’। বর্তমানে কানাডায় অবস্থানরত মেয়র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় দাবি করেন, এই মন্তব্যের মাধ্যমে জামায়াতের আমির পরোক্ষভাবে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ আমলের কার্যক্রমকে বৈধতা দিয়েছেন।
এর আগে শনিবার রাতে চট্টগ্রাম নগরের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে শফিকুর রহমান সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রসঙ্গে বলেন, ‘আগের যে সরকার, যে রাস্তা ধরে হেঁটেছে, এই সরকার একই রাস্তা ধরে হাঁটছে। চট্টগ্রাম তার আরেকটা বাস্তব উদাহরণ। এখানে একজন মেয়র আছেন। এখন শুনি যে উনি যত দিন ইচ্ছা তত দিন থাকবেন। এটা কি সুশাসন নাকি ফ্যাসিবাদ? আপনি আসেন, আবার নির্বাচিত হয়ে আসেন।’
জবাবে মেয়র শাহাদাত হোসেন ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘এই বক্তব্যের মাধ্যমে জামায়াতের আমির স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের আমলের ফ্যাসিস্ট মো. রেজাউল করিম চৌধুরীকে বৈধ মেয়র হিসেবে সম্মতি দিয়েছেন এবং এ বক্তব্যের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদকে সমর্থন করে গেছেন।’ তিনি আরও দাবি করেন, নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের ঐতিহাসিক রায়ের মাধ্যমেই তিনি মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন এবং আদালতের রায় অনুযায়ী তাঁর মেয়াদ ২০২৯ সাল পর্যন্ত।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জয়ী হয়েছিলেন। কারচুপির অভিযোগে বিএনপির প্রার্থী শাহাদাত হোসেন নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ১৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার রেজাউল করিম চৌধুরীসহ ১২ জন মেয়রকে অপসারণ করে। পরবর্তীতে ১ অক্টোবর নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের রায়ে রেজাউল করিমের নির্বাচন বাতিল করে শাহাদাত হোসেনকে মেয়র ঘোষণা করা হয় এবং ৩ নভেম্বর তিনি শপথ নেন।
শাহাদাত হোসেন জানান, জনগণের প্রত্যাশিত এই রায় পাওয়ার জন্য তাঁকে তিন বছর লড়াই করতে হয়েছে। এই সময়ে ফ্যাসিবাদী শাসনামলে তাঁর বিরুদ্ধে ১১০টি মামলা হয়েছে এবং ছয় মাস জেলে থাকতে হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘গণতান্ত্রিক নির্বাচনকে স্বাগত জানাব। এ নিয়ে ভুল–বোঝাবুঝির কিছু নেই। জনগণের বৃহত্তর স্বার্থে এবং গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জন্য নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণা করা হলে আমি পদ থেকে পদত্যাগ করব।’


























