ঢাকা ১২:০২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইরান সফরে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ল্যাভরভ, গুরুত্ব পাচ্ছে আঞ্চলিক নিরাপত্তা দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিশ্চিতে নিরলস কাজ করছে পুলিশ: আইজিপি কক্সবাজারে সড়কে মুখোশধারী ডাকাতদের কবলে ৫০-৬০টি যানবাহন রাষ্ট্রায়ত্ত তিন ব্যাংকের এমডিদের চুক্তি বাতিল করলো সরকার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মূল স্তম্ভ গণমাধ্যম: প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল আলবেনিয়ায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভে পুলিশ স্টেশনে আগুন ও সহিংসতা কিউবার বিপ্লব কি শেষের পথে? বিশ্বরাজনীতিতে এর প্রভাব ও গুরুত্ব এ মাস থেকেই বাড়তি বেতন পাবেন সরকারি চাকরিজীবীরা মাদক নির্মূলে গিয়েছিলাম, জমি দখল বা চাঁদাবাজি নয়: ইশরাক রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাইলেন ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী

ছুটির দিনে কমেছে লোডশেডিং, সিএনজি পাম্পে গ্যাসের চাপ ভালো

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০২:১১:৫৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬ ২১ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

শুক্রবার ছুটির দিনে সারাদেশে বিদ্যুতের লোডশেডিং কিছুটা কমেছে। এদিন চাহিদা কম থাকায় ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় এক থেকে দুই ঘণ্টা এবং ঢাকার বাইরে ছয় থেকে আট ঘণ্টা লোডশেডিং রেকর্ড করা হয়েছে। একইসাথে বাসাবাড়ির চুলা ও সিএনজি পাম্পগুলোতে গ্যাসের চাপ তুলনামূলক ভালো ছিল। তবে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সামগ্রিক পরিস্থিতির তেমন পরিবর্তন না হওয়ায় গ্যাস-বিদ্যুতের চাহিদা, সরবরাহ ও ঘাটতির ক্ষেত্রে বড় ধরনের উন্নতির সম্ভাবনা নেই।

পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার বিকাল তিনটায় দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৯৪৬ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ ছিল ১৩ হাজার ২৮২ মেগাওয়াট এবং ঘাটতি ছিল ৩ হাজার ৬৬৪ মেগাওয়াট। গতকাল শুক্রবার একই সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা কমে ১৪ হাজার ৬৮৪ মেগাওয়াটে নেমে আসে। ফলে সরবরাহ ১৩ হাজার ২০১ মেগাওয়াটে নেমে এলেও সামগ্রিক ঘাটতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে ১ হাজার ৪৮৩ মেগাওয়াটে দাঁড়ায়। অর্থাৎ, আগের দিনের তুলনায় চাহিদা ২ হাজার ২৬২ মেগাওয়াট কম ছিল। সরবরাহ ৮১ মেগাওয়াট কম হওয়া সত্ত্বেও, গতকাল সামগ্রিক ঘাটতি ২ হাজার ১৮১ মেগাওয়াট কমেছে।

এদিকে, পেট্রোবাংলা সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গতকাল শুক্রবার দেশে গ্যাসের মোট চাহিদা ছিল প্রায় ৪ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট। এর বিপরীতে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ও দেশীয় খনিগুলো থেকে মোট ২ হাজার ৩৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে। দেশজুড়ে মোট ঘাটতি ছিল ১ হাজার ৪৫০ থেকে ১ হাজার ৬৫০ মিলিয়ন ঘনফুট। গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি সংকটের কারণে দেশের ৬২টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে সাভার, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের টেক্সটাইল মিল এবং পোশাক কারখানাগুলোর উৎপাদন ৩০ শতাংশে নেমে এসেছে। লাইনে গ্যাসের চাপ কম থাকায় কারখানা মালিকরা বিকল্প হিসেবে ডিজেল জেনারেটরের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। একইভাবে, আবাসিক গ্রাহকরাও বৈদ্যুতিক চুলার ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছেন।

দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস সংকটে ভোগা সিএনজি অটোরিকশার চালকরা জানান, শুক্রবার তারা পাম্পে গ্যাসের তুলনামূলক ভালো চাপ পেয়েছেন। গত এক মাস ধরে যেখানে একটি সিএনজি অটোরিকশায় সর্বোচ্চ ৪০ থেকে ৬০ টাকার গ্যাস ঢুকতো, সেখানে গতকাল তারা ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত গ্যাস নিতে পেরেছেন। প্রাইভেটকারের চালকরাও ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত গ্যাস নিতে সক্ষম হয়েছেন। তবে, গ্যাসের জন্য গাড়ির দীর্ঘ লাইন গতকালও অব্যাহত ছিল।

চালক ও সিএনজি পাম্পের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, স্বাভাবিক সময়ে আকারভেদে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ৬০০ টাকা এবং প্রাইভেটকারে এক হাজার টাকা পর্যন্ত গ্যাস নেওয়া যায়। গত প্রায় এক মাস ধরে রাজধানীতে গ্যাসের তীব্র সংকট চলছে। লাইনে গ্যাসের অভাবে অনেক পাম্প গ্যাস দেওয়া বন্ধও করে দিয়েছে। আর যেসব পাম্পে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছিল, সেগুলোতেও চাপ ছিল খুবই কম, অর্থাৎ একটি সিএনজিতে ৪০ থেকে ৬০ টাকার বেশি গ্যাস ঢুকতো না। এই সীমিত গ্যাস নিতেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে গ্রাহকদের।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

ছুটির দিনে কমেছে লোডশেডিং, সিএনজি পাম্পে গ্যাসের চাপ ভালো

আপডেট সময় : ০২:১১:৫৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

শুক্রবার ছুটির দিনে সারাদেশে বিদ্যুতের লোডশেডিং কিছুটা কমেছে। এদিন চাহিদা কম থাকায় ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় এক থেকে দুই ঘণ্টা এবং ঢাকার বাইরে ছয় থেকে আট ঘণ্টা লোডশেডিং রেকর্ড করা হয়েছে। একইসাথে বাসাবাড়ির চুলা ও সিএনজি পাম্পগুলোতে গ্যাসের চাপ তুলনামূলক ভালো ছিল। তবে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সামগ্রিক পরিস্থিতির তেমন পরিবর্তন না হওয়ায় গ্যাস-বিদ্যুতের চাহিদা, সরবরাহ ও ঘাটতির ক্ষেত্রে বড় ধরনের উন্নতির সম্ভাবনা নেই।

পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার বিকাল তিনটায় দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৯৪৬ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ ছিল ১৩ হাজার ২৮২ মেগাওয়াট এবং ঘাটতি ছিল ৩ হাজার ৬৬৪ মেগাওয়াট। গতকাল শুক্রবার একই সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা কমে ১৪ হাজার ৬৮৪ মেগাওয়াটে নেমে আসে। ফলে সরবরাহ ১৩ হাজার ২০১ মেগাওয়াটে নেমে এলেও সামগ্রিক ঘাটতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে ১ হাজার ৪৮৩ মেগাওয়াটে দাঁড়ায়। অর্থাৎ, আগের দিনের তুলনায় চাহিদা ২ হাজার ২৬২ মেগাওয়াট কম ছিল। সরবরাহ ৮১ মেগাওয়াট কম হওয়া সত্ত্বেও, গতকাল সামগ্রিক ঘাটতি ২ হাজার ১৮১ মেগাওয়াট কমেছে।

এদিকে, পেট্রোবাংলা সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গতকাল শুক্রবার দেশে গ্যাসের মোট চাহিদা ছিল প্রায় ৪ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট। এর বিপরীতে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ও দেশীয় খনিগুলো থেকে মোট ২ হাজার ৩৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে। দেশজুড়ে মোট ঘাটতি ছিল ১ হাজার ৪৫০ থেকে ১ হাজার ৬৫০ মিলিয়ন ঘনফুট। গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি সংকটের কারণে দেশের ৬২টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে সাভার, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের টেক্সটাইল মিল এবং পোশাক কারখানাগুলোর উৎপাদন ৩০ শতাংশে নেমে এসেছে। লাইনে গ্যাসের চাপ কম থাকায় কারখানা মালিকরা বিকল্প হিসেবে ডিজেল জেনারেটরের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। একইভাবে, আবাসিক গ্রাহকরাও বৈদ্যুতিক চুলার ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছেন।

দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস সংকটে ভোগা সিএনজি অটোরিকশার চালকরা জানান, শুক্রবার তারা পাম্পে গ্যাসের তুলনামূলক ভালো চাপ পেয়েছেন। গত এক মাস ধরে যেখানে একটি সিএনজি অটোরিকশায় সর্বোচ্চ ৪০ থেকে ৬০ টাকার গ্যাস ঢুকতো, সেখানে গতকাল তারা ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত গ্যাস নিতে পেরেছেন। প্রাইভেটকারের চালকরাও ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত গ্যাস নিতে সক্ষম হয়েছেন। তবে, গ্যাসের জন্য গাড়ির দীর্ঘ লাইন গতকালও অব্যাহত ছিল।

চালক ও সিএনজি পাম্পের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, স্বাভাবিক সময়ে আকারভেদে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ৬০০ টাকা এবং প্রাইভেটকারে এক হাজার টাকা পর্যন্ত গ্যাস নেওয়া যায়। গত প্রায় এক মাস ধরে রাজধানীতে গ্যাসের তীব্র সংকট চলছে। লাইনে গ্যাসের অভাবে অনেক পাম্প গ্যাস দেওয়া বন্ধও করে দিয়েছে। আর যেসব পাম্পে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছিল, সেগুলোতেও চাপ ছিল খুবই কম, অর্থাৎ একটি সিএনজিতে ৪০ থেকে ৬০ টাকার বেশি গ্যাস ঢুকতো না। এই সীমিত গ্যাস নিতেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে গ্রাহকদের।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh