ঢাকা ০৯:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সৌদি আরবে হামলায় নিহত শাহেদের মরদেহ শুক্রবার ঢাকায় আসছে আসামে মুসলিম উচ্ছেদ ও মসজিদ ভাঙার ঘটনায় নেজামে ইসলাম পার্টির উদ্বেগ কুষ্টিয়ায় প্রতিমা বিসর্জনের ঘাট বাড়ল ইউপি নির্বাচনে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে কাজ করলে ক্ষমা নেই: আইনমন্ত্রী আবারও তেহরান সফরে যাচ্ছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির কানাইঘাটে অটোরিকশার সিরিয়াল নিয়ে বিরোধে চালককে কুপিয়ে হত্যা দেশে হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১২৫৯ ফেডারেশন কাপে পয়েন্ট হারালো মোহামেডান, জয় পেল কিংস ভাটারা এলাকায় অতিরিক্ত ডিআইজির বাড়িতে ডিবি অভিযান, আটক ৮৫ ইউরোপে গুগল ক্লাউড বিভ্রাটে ব্যাহত ব্যাংকিং ও ডিজিটাল সেবা

২০২৪-এর আন্দোলন ফাইনাল নয়, মহড়া মাত্র: ডা. শফিকুর রহমান

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০২:৩১:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

২০২৪ সালের আন্দোলনকে চূড়ান্ত যুদ্ধ মনে করার সুযোগ নেই। এটি ছিল চূড়ান্ত যুদ্ধের প্রস্তুতি বা মহড়া বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (আইডিইবি) মিলনায়তনে সিরাতুন্নবী (সা.) সেমিনার ও রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ’২৪ সালের আন্দোলনে জেগে ওঠা মানুষ এখনো সজাগ রয়েছেন যেকোনো ফ্যাসিবাদ মোকাবিলায়।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ’২৪-এ যে মানুষগুলো জেগে উঠেছিল, তারা সবাই মারা যায়নি, তারা ঘুমিয়ে পড়েনি। তারা সজাগ দৃষ্টিতে সবকিছু প্রত্যক্ষ করছে। মূল যুদ্ধের আগে বাহিনী তৈরি হয়, তাদের কসরত করতে হয়, মহড়া দিতে হয়। এরা যেন ’২৪-কে ফাইনাল যুদ্ধ মনে না করে। এটি ছিল ফাইনাল যুদ্ধের রিহার্সাল। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের পর আশা করেছিলাম দীর্ঘদিন ধরে তৈরি হওয়া ফ্যাসিবাদের পঙ্কিলতা, ময়লা ও আবর্জনা পরিষ্কার হবে। কিন্তু তা হয়নি; বরং আবর্জনার পরিমাণ আরও বেড়েছে।

ফ্যাসিবাদকে একটি সংক্রামক ব্যাধি হিসেবে আখ্যা দিয়ে জামায়াত আমীর বলেন, ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী সরকার যে রাস্তায় হেঁটেছে, বর্তমান সরকারও সেই রাস্তা ধরেই হাঁটছে। তিনি বলেন, এই রাস্তা পরিবর্তন করতে হবে। এটি ফ্যাসিবাদীদের রাস্তা, আয়নাঘরের রাস্তা এবং অসংখ্য মানুষকে বিনা বিচারে খুন করার রাস্তা। বাংলাদেশের মানুষ কাউকে ওই পথে চলতে দেবে না।

জুলাই জাদুঘর থেকে ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সরিয়ে ফেলার সমালোচনা করে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জাতির দুঃখের ঘটনাগুলো এখানে তুলে ধরা হয়েছিল। কিন্তু বিশেষ একটি দেশ ও রাষ্ট্রকে খুশি করার জন্য এর অনেক উপাদান গায়েব করে দেয়া হয়েছে। ১৯৪৬ বা ১৯৪৭ সাল থেকে শুরু করে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের পুরোধা ব্যক্তিত্বদেরও এখান থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, একটি নির্দিষ্ট দলের লোকদের স্মৃতি রেখে বাকিগুলো গায়েব করে ফেলা হয়েছে। এর মধ্যে ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি দেলাওয়ার হোসেন, যাকে ২০০ দিন রিমান্ডে নেয়া হয়েছিল, তার স্মৃতিচিহ্ন, বেগম খালেদা জিয়ার আক্ষেপের স্মৃতি এবং সীমান্তে নিহত ফেলানীর অমানবিক হত্যার স্মৃতিও গায়েব করে ফেলা হয়েছে।

দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ও পাসপোর্টের শক্তির বিষয়ে তিনি বলেন, স্বাধীনতার পাঁচ দশক পেরিয়ে গেলেও বাংলাদেশ প্রত্যাশিতভাবে এগোতে পারেনি। বিশ্বের কাছে দেশের মানুষের সম্মানের মানদণ্ড পাসপোর্টের শক্তি, অথচ বাংলাদেশের পাসপোর্টের অবস্থান হতাশাজনক।

অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, ঐক্যবদ্ধ না থাকলে শত্রুরা ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে পারে। আলেমরা একে অপরের বিরুদ্ধে গালমন্দ করছেন, যার পেছনে তৃতীয় কোনো শক্তির হাত থাকতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন। মদিনার আদলে রাষ্ট্রব্যবস্থা তৈরির জন্য সবাইকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান তিনি। বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আ ন ম রফিকুর রহমান মাদানীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় হুইপ মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল ও ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদসহ অন্য নেতৃবৃন্দ।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

২০২৪-এর আন্দোলন ফাইনাল নয়, মহড়া মাত্র: ডা. শফিকুর রহমান

আপডেট সময় : ০২:৩১:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

২০২৪ সালের আন্দোলনকে চূড়ান্ত যুদ্ধ মনে করার সুযোগ নেই। এটি ছিল চূড়ান্ত যুদ্ধের প্রস্তুতি বা মহড়া বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (আইডিইবি) মিলনায়তনে সিরাতুন্নবী (সা.) সেমিনার ও রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ’২৪ সালের আন্দোলনে জেগে ওঠা মানুষ এখনো সজাগ রয়েছেন যেকোনো ফ্যাসিবাদ মোকাবিলায়।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ’২৪-এ যে মানুষগুলো জেগে উঠেছিল, তারা সবাই মারা যায়নি, তারা ঘুমিয়ে পড়েনি। তারা সজাগ দৃষ্টিতে সবকিছু প্রত্যক্ষ করছে। মূল যুদ্ধের আগে বাহিনী তৈরি হয়, তাদের কসরত করতে হয়, মহড়া দিতে হয়। এরা যেন ’২৪-কে ফাইনাল যুদ্ধ মনে না করে। এটি ছিল ফাইনাল যুদ্ধের রিহার্সাল। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের পর আশা করেছিলাম দীর্ঘদিন ধরে তৈরি হওয়া ফ্যাসিবাদের পঙ্কিলতা, ময়লা ও আবর্জনা পরিষ্কার হবে। কিন্তু তা হয়নি; বরং আবর্জনার পরিমাণ আরও বেড়েছে।

ফ্যাসিবাদকে একটি সংক্রামক ব্যাধি হিসেবে আখ্যা দিয়ে জামায়াত আমীর বলেন, ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী সরকার যে রাস্তায় হেঁটেছে, বর্তমান সরকারও সেই রাস্তা ধরেই হাঁটছে। তিনি বলেন, এই রাস্তা পরিবর্তন করতে হবে। এটি ফ্যাসিবাদীদের রাস্তা, আয়নাঘরের রাস্তা এবং অসংখ্য মানুষকে বিনা বিচারে খুন করার রাস্তা। বাংলাদেশের মানুষ কাউকে ওই পথে চলতে দেবে না।

জুলাই জাদুঘর থেকে ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সরিয়ে ফেলার সমালোচনা করে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জাতির দুঃখের ঘটনাগুলো এখানে তুলে ধরা হয়েছিল। কিন্তু বিশেষ একটি দেশ ও রাষ্ট্রকে খুশি করার জন্য এর অনেক উপাদান গায়েব করে দেয়া হয়েছে। ১৯৪৬ বা ১৯৪৭ সাল থেকে শুরু করে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের পুরোধা ব্যক্তিত্বদেরও এখান থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, একটি নির্দিষ্ট দলের লোকদের স্মৃতি রেখে বাকিগুলো গায়েব করে ফেলা হয়েছে। এর মধ্যে ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি দেলাওয়ার হোসেন, যাকে ২০০ দিন রিমান্ডে নেয়া হয়েছিল, তার স্মৃতিচিহ্ন, বেগম খালেদা জিয়ার আক্ষেপের স্মৃতি এবং সীমান্তে নিহত ফেলানীর অমানবিক হত্যার স্মৃতিও গায়েব করে ফেলা হয়েছে।

দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ও পাসপোর্টের শক্তির বিষয়ে তিনি বলেন, স্বাধীনতার পাঁচ দশক পেরিয়ে গেলেও বাংলাদেশ প্রত্যাশিতভাবে এগোতে পারেনি। বিশ্বের কাছে দেশের মানুষের সম্মানের মানদণ্ড পাসপোর্টের শক্তি, অথচ বাংলাদেশের পাসপোর্টের অবস্থান হতাশাজনক।

অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, ঐক্যবদ্ধ না থাকলে শত্রুরা ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে পারে। আলেমরা একে অপরের বিরুদ্ধে গালমন্দ করছেন, যার পেছনে তৃতীয় কোনো শক্তির হাত থাকতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন। মদিনার আদলে রাষ্ট্রব্যবস্থা তৈরির জন্য সবাইকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান তিনি। বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আ ন ম রফিকুর রহমান মাদানীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় হুইপ মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল ও ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদসহ অন্য নেতৃবৃন্দ।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin