ঢাকা ১১:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইরান সফরে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ল্যাভরভ, গুরুত্ব পাচ্ছে আঞ্চলিক নিরাপত্তা দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিশ্চিতে নিরলস কাজ করছে পুলিশ: আইজিপি কক্সবাজারে সড়কে মুখোশধারী ডাকাতদের কবলে ৫০-৬০টি যানবাহন রাষ্ট্রায়ত্ত তিন ব্যাংকের এমডিদের চুক্তি বাতিল করলো সরকার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মূল স্তম্ভ গণমাধ্যম: প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল আলবেনিয়ায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভে পুলিশ স্টেশনে আগুন ও সহিংসতা কিউবার বিপ্লব কি শেষের পথে? বিশ্বরাজনীতিতে এর প্রভাব ও গুরুত্ব এ মাস থেকেই বাড়তি বেতন পাবেন সরকারি চাকরিজীবীরা মাদক নির্মূলে গিয়েছিলাম, জমি দখল বা চাঁদাবাজি নয়: ইশরাক রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাইলেন ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী

ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার ঘোষণা দিলেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০২:২২:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬ ২৫ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বাংলাদেশে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার পরও ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফেরার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। বুধবার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে দিল্লির জনাকীর্ণ প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক ভার্চ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলনে অডিও বার্তার মাধ্যমে তিনি বলেন, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে তিনি দেশে ফিরতে চান। তবে কবে বা কীভাবে ফিরবেন, সে বিষয়ে তিনি এখনো কোনো নির্দিষ্ট তারিখ বা পরিকল্পনা ঘোষণা করেননি। ক্ষমতা হারানোর পর গণমাধ্যমের সঙ্গে এটিই ছিল তার প্রথম সরাসরি যোগাযোগ।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার তীব্র গণঅভ্যুত্থানের মুখে ৭৮ বছর বয়সী হাসিনা ঢাকা ছেড়ে ভারতে চলে যান। তার অনুপস্থিতিতে বাংলাদেশে তার বিরুদ্ধে বিচার কার্যক্রম চলে এবং আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। হাসিনা শুরু থেকেই তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন এবং এগুলোকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ফল বলে দাবি করেছেন। তবে জাতিসংঘের তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, হাসিনা ও তার সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য পরিকল্পিতভাবে প্রাণঘাতী সহিংসতার আশ্রয় নিয়েছিল। বিবিসি আইয়ের যাচাই করা একটি ফোনালাপের অডিওতে তাকে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী দমন-পীড়নের অনুমোদন দিতে শোনা যায়, যা প্রসিকিউটরদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে রূপ নেওয়া ওই গণঅভ্যুত্থানে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলি ও সংঘর্ষে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৪০০ জন নিহত হয়েছেন।

হাসিনা তার বক্তব্যে অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনকে কয়েকটি সংগঠন সহিংস আন্দোলনে পরিণত করেছিল, যদিও তিনি এর পক্ষে কোনো প্রমাণ দেননি। দেশে ফেরার বিষয়ে তিনি বলেন, দেশে ফিরলে তার সঙ্গে যেকোনো কিছু ঘটতে পারে, তবুও তিনি নিজের দেশে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসবেন না।

হাসিনার এই বক্তব্যের পর বাংলাদেশ সরকার ভারতের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ জানিয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, গণমাধ্যমের সঙ্গে প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ায় বাংলাদেশ সরকার ভারতের প্রতি ক্ষুব্ধ। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের জনগণ দৃঢ়ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে দেশ আর কখনো ফ্যাসিবাদের অন্ধকার সময়ে ফিরে যাবে না এবং বাংলাদেশ কখনো কোনো করদ রাষ্ট্র হবে না। এর আগে নতুন সরকার স্থানীয় গণমাধ্যমকে হাসিনার বক্তব্য প্রকাশ বা সম্প্রচার না করার বিষয়ে সতর্ক করেছিল।

ঢাকাভিত্তিক বিশ্লেষক ডেভিড বার্গম্যানের মতে, শেখ হাসিনা যদি বাংলাদেশে ফেরেন, তবে তাকে সঙ্গে সঙ্গেই গ্রেপ্তার করা হতে পারে। তিনি মনে করেন, ব্যক্তিগতভাবে এটি হাসিনার জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত। দেশে ফিরলে বিএনপি সমর্থক, ছাত্রদের রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল সিটিজেন্স পার্টি (এনসিপি), ইসলামপন্থি বিভিন্ন গোষ্ঠী এবং অন্য রাজনৈতিক পক্ষগুলো তার সাজা কার্যকরের দাবিতে কর্মসূচি দিতে পারে। হাসিনা দেশে না ফিরলেও আওয়ামী লীগের জন্য ঝুঁকি কম নয়। তার দেশ ছাড়ার পর দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয় এবং চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি। বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ক্ষমতায় রয়েছে এবং দলটির নেতা তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

প্রকাশ : ০৬ আগস্ট ২০২৬, ১৩: ৫৮আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০২৬, ১৪: ১৬

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার ঘোষণা দিলেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা

আপডেট সময় : ০২:২২:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বাংলাদেশে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার পরও ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফেরার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। বুধবার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে দিল্লির জনাকীর্ণ প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক ভার্চ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলনে অডিও বার্তার মাধ্যমে তিনি বলেন, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে তিনি দেশে ফিরতে চান। তবে কবে বা কীভাবে ফিরবেন, সে বিষয়ে তিনি এখনো কোনো নির্দিষ্ট তারিখ বা পরিকল্পনা ঘোষণা করেননি। ক্ষমতা হারানোর পর গণমাধ্যমের সঙ্গে এটিই ছিল তার প্রথম সরাসরি যোগাযোগ।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার তীব্র গণঅভ্যুত্থানের মুখে ৭৮ বছর বয়সী হাসিনা ঢাকা ছেড়ে ভারতে চলে যান। তার অনুপস্থিতিতে বাংলাদেশে তার বিরুদ্ধে বিচার কার্যক্রম চলে এবং আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। হাসিনা শুরু থেকেই তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন এবং এগুলোকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ফল বলে দাবি করেছেন। তবে জাতিসংঘের তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, হাসিনা ও তার সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য পরিকল্পিতভাবে প্রাণঘাতী সহিংসতার আশ্রয় নিয়েছিল। বিবিসি আইয়ের যাচাই করা একটি ফোনালাপের অডিওতে তাকে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী দমন-পীড়নের অনুমোদন দিতে শোনা যায়, যা প্রসিকিউটরদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে রূপ নেওয়া ওই গণঅভ্যুত্থানে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলি ও সংঘর্ষে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৪০০ জন নিহত হয়েছেন।

হাসিনা তার বক্তব্যে অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনকে কয়েকটি সংগঠন সহিংস আন্দোলনে পরিণত করেছিল, যদিও তিনি এর পক্ষে কোনো প্রমাণ দেননি। দেশে ফেরার বিষয়ে তিনি বলেন, দেশে ফিরলে তার সঙ্গে যেকোনো কিছু ঘটতে পারে, তবুও তিনি নিজের দেশে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসবেন না।

হাসিনার এই বক্তব্যের পর বাংলাদেশ সরকার ভারতের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ জানিয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, গণমাধ্যমের সঙ্গে প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ায় বাংলাদেশ সরকার ভারতের প্রতি ক্ষুব্ধ। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের জনগণ দৃঢ়ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে দেশ আর কখনো ফ্যাসিবাদের অন্ধকার সময়ে ফিরে যাবে না এবং বাংলাদেশ কখনো কোনো করদ রাষ্ট্র হবে না। এর আগে নতুন সরকার স্থানীয় গণমাধ্যমকে হাসিনার বক্তব্য প্রকাশ বা সম্প্রচার না করার বিষয়ে সতর্ক করেছিল।

ঢাকাভিত্তিক বিশ্লেষক ডেভিড বার্গম্যানের মতে, শেখ হাসিনা যদি বাংলাদেশে ফেরেন, তবে তাকে সঙ্গে সঙ্গেই গ্রেপ্তার করা হতে পারে। তিনি মনে করেন, ব্যক্তিগতভাবে এটি হাসিনার জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত। দেশে ফিরলে বিএনপি সমর্থক, ছাত্রদের রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল সিটিজেন্স পার্টি (এনসিপি), ইসলামপন্থি বিভিন্ন গোষ্ঠী এবং অন্য রাজনৈতিক পক্ষগুলো তার সাজা কার্যকরের দাবিতে কর্মসূচি দিতে পারে। হাসিনা দেশে না ফিরলেও আওয়ামী লীগের জন্য ঝুঁকি কম নয়। তার দেশ ছাড়ার পর দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয় এবং চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি। বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ক্ষমতায় রয়েছে এবং দলটির নেতা তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

প্রকাশ : ০৬ আগস্ট ২০২৬, ১৩: ৫৮আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০২৬, ১৪: ১৬

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh