ঢাকা ০২:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইবির আইন অনুষদের ১৯ শিক্ষার্থী সিভিল জজ পদে মনোনীত নিষেধাজ্ঞার মুখে ইরান কখনো মাথা নত করবে না: পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত নিরসনে নতুন আশাবাদ, নিউইয়র্কে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক নিউইয়র্কে মানবিক সহায়তা সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর প্রাতরাশ বৈঠক ডেঙ্গু ও হাম প্রতিরোধে ব্যর্থতার সুযোগ নেই: রুহুল আমিন হাওলাদার রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে পাঁচ দফা প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর নাটোর সদর উপজেলায় বক্তব্য দেওয়ার সময় মারা গেলেন মাদ্রাসা শিক্ষক রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে পাঁচ দফা প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘের মঞ্চে ট্রাম্পের উদ্দেশে কঠোর বার্তা দিলেন ইরানি প্রেসিডেন্ট

রংপুরে ৫ ঘণ্টায় ১৬৬ মিলিমিটার বৃষ্টি, ৪০ মহল্লা প্লাবিত, পানিবন্দি ১৫ হাজার পরিবার

স্টাফ রিপোর্টার রংপুর:
  • আপডেট সময় : ১১:০০:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬ ১৫৮ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি




স্টাফ রিপোর্টার
রংপুর:

রংপুর আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, (২২ মে) শুক্রবার ভোর ৪টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত মাত্র ৫ ঘণ্টায় ১৬৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে সকাল ৬টা পর্যন্ত ১৩০ মিলিমিটার এবং পরবর্তী ৩ ঘণ্টায় আরও ৩৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়। সকালের পর বৃষ্টির বেগ কমলেও জমাটবদ্ধ পানি নামার কোনো পথ না থাকায় দুর্ভোগ স্থায়ী রূপ নিয়েছে।

জ্যৈষ্ঠের শুরুতেই লণ্ডভণ্ড রংপুর নগরী। আজ শুক্রবার ভোররাত থেকে শুরু হওয়া রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে নগরীর অন্তত ৪০টি পাড়া-মহল্লা। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন প্রায় ১৫ হাজার পরিবারের কয়েক লাখ মানুষ। প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে মানুষের শোবার ঘর—সবই এখন পানির নিচে। পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাব আর অযত্নে পড়ে থাকা নালাগুলোই এই ভয়াবহ জলাবদ্ধতার মূল কারণ বলে মনে করছেন ক্ষুব্ধ নগরবাসী।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরীর মাস্টারপাড়া, কামারপাড়া, বাবু খাঁ, লালবাগ, গনেশপুর, বালাপাড়া, বিনোদপুর, পাঠান পাড়া, কুকরুল, ইসলামপুর, নিউ জুম্মাপাড়া ও মুন্সিপাড়া, বোতলসহ ৪০টি মহল্লা হাঁটু থেকে কোমর সমান পানিতে ডুবে আছে। শুধু বসতবাড়ি নয়, রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ক্যাম্পাস এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রধান সড়কগুলোও দেড় থেকে দুই ফুট পানির নিচে। সড়কের বড় বড় গর্ত পানিতে ঢেকে যাওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে চলছে অটোরিকশা ও জরুরি যানবাহন।

মাস্টারপাড়া এলাকার ১জন বৃদ্ধ আক্ষেপ করে বলেন, “জ্যৈষ্ঠ মাসের শুরুতে এমন বৃষ্টি আর আগে দেখিনি। ড্রেনগুলো পরিষ্কার না থাকায় পানি নামছে না। এভাবে চললে আমাদের ঘরবাড়ি সব ছেড়ে রাস্তায় গিয়ে থাকতে হবে।”

এলাকার এক দোকান ব্যবসায়ী জানান, দোকানের ভেতরে পানি ঢুকে তার হাজার হাজার টাকার মালামাল নষ্ট হয়ে গেছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থার ত্রুটি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে অবসরপ্রাপ্ত বন কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, “ড্রেনগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি নিষ্কাশন বন্ধ। শ্যামা সুন্দরী খালে পানি যাওয়ার কোনো পথ রাখা হয়নি। সিটি করপোরেশনের অপরিকল্পিত কাজের ফল আজ আমাদের ভোগ করতে হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

 

রংপুরে ৫ ঘণ্টায় ১৬৬ মিলিমিটার বৃষ্টি, ৪০ মহল্লা প্লাবিত, পানিবন্দি ১৫ হাজার পরিবার

আপডেট সময় : ১১:০০:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার
রংপুর:

রংপুর আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, (২২ মে) শুক্রবার ভোর ৪টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত মাত্র ৫ ঘণ্টায় ১৬৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে সকাল ৬টা পর্যন্ত ১৩০ মিলিমিটার এবং পরবর্তী ৩ ঘণ্টায় আরও ৩৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়। সকালের পর বৃষ্টির বেগ কমলেও জমাটবদ্ধ পানি নামার কোনো পথ না থাকায় দুর্ভোগ স্থায়ী রূপ নিয়েছে।

জ্যৈষ্ঠের শুরুতেই লণ্ডভণ্ড রংপুর নগরী। আজ শুক্রবার ভোররাত থেকে শুরু হওয়া রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে নগরীর অন্তত ৪০টি পাড়া-মহল্লা। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন প্রায় ১৫ হাজার পরিবারের কয়েক লাখ মানুষ। প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে মানুষের শোবার ঘর—সবই এখন পানির নিচে। পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাব আর অযত্নে পড়ে থাকা নালাগুলোই এই ভয়াবহ জলাবদ্ধতার মূল কারণ বলে মনে করছেন ক্ষুব্ধ নগরবাসী।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরীর মাস্টারপাড়া, কামারপাড়া, বাবু খাঁ, লালবাগ, গনেশপুর, বালাপাড়া, বিনোদপুর, পাঠান পাড়া, কুকরুল, ইসলামপুর, নিউ জুম্মাপাড়া ও মুন্সিপাড়া, বোতলসহ ৪০টি মহল্লা হাঁটু থেকে কোমর সমান পানিতে ডুবে আছে। শুধু বসতবাড়ি নয়, রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ক্যাম্পাস এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রধান সড়কগুলোও দেড় থেকে দুই ফুট পানির নিচে। সড়কের বড় বড় গর্ত পানিতে ঢেকে যাওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে চলছে অটোরিকশা ও জরুরি যানবাহন।

মাস্টারপাড়া এলাকার ১জন বৃদ্ধ আক্ষেপ করে বলেন, “জ্যৈষ্ঠ মাসের শুরুতে এমন বৃষ্টি আর আগে দেখিনি। ড্রেনগুলো পরিষ্কার না থাকায় পানি নামছে না। এভাবে চললে আমাদের ঘরবাড়ি সব ছেড়ে রাস্তায় গিয়ে থাকতে হবে।”

এলাকার এক দোকান ব্যবসায়ী জানান, দোকানের ভেতরে পানি ঢুকে তার হাজার হাজার টাকার মালামাল নষ্ট হয়ে গেছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থার ত্রুটি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে অবসরপ্রাপ্ত বন কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, “ড্রেনগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি নিষ্কাশন বন্ধ। শ্যামা সুন্দরী খালে পানি যাওয়ার কোনো পথ রাখা হয়নি। সিটি করপোরেশনের অপরিকল্পিত কাজের ফল আজ আমাদের ভোগ করতে হচ্ছে।