রংপুর জেলা মটর শ্রমিক ইউনিয়নের উদ্যোগে কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত
- আপডেট সময় : ১১:১৪:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬ ১৭ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার
রংপুর:
আজ (৩ মে) রবিবার দুপুরে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে রংপুর জেলা মটর শ্রমিক ইউনিয়নের অনিয়ম, চাঁদাবাজি ও দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচন না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন সাধারণ শ্রমিকরা।
উক্ত কর্মসূচিতে নিয়ে শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, গত দুই বছর ধরে ইউনিয়নের একটি প্রভাবশালী মহল সন্ত্রাসী কায়দায় চাঁদাবাজি করে আসছে এবং সাধারণ শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার হরণ করছে। তারা অবিলম্বে সাধারণ সভার মাধ্যমে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানান।
শ্রমিকদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন রংপুর মটর শ্রমিক ইউনিয়নের যুগ্ম আহ্বায়ক আসাদুজ্জামান বাবু মিয়া। তিনি বলেন, “শ্রমিকদের দাবি যৌক্তিক। দ্রুত সাধারণ সভা ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। অন্যথায় পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
উক্ত কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সিনিয়র ড্রাইভার মুকুল মিয়া। তিনি বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে আমরা বঞ্চিত। শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে কেউ কথা বলছে না। দ্রুত নির্বাচন না হলে আমরা আরও কঠোর আন্দোলনে যাব।
শ্রমিক নেতা নুর হোসেন বলেন, “ইউনিয়নকে ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে। শ্রমিকদের কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে। আমরা ন্যায্য ভোটাধিকার চাই।”
মতলুবুর রহমান মতলুব অভিযোগ করে বলেন, “দুই বছর ধরে নির্বাচন হচ্ছে না। একটি গোষ্ঠী জোর করে সংগঠন নিয়ন্ত্রণ করছে।”
এ সময় শ্রমিকরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত নির্বাচন না হলে আরও কঠোর ও বৃহত্তর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। পরে দাবি আদায়ে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়, যা নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
এদিকে শ্রমিক ইউনিয়নের দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও অচলাবস্থার প্রেক্ষিতে প্রশাসন হস্তক্ষেপ করেছে। বিভাগীয় শ্রম দপ্তর, রাজশাহী থেকে পাঠানো এক সরকারি চিঠিতে দ্রুত সাধারণ সভা আয়োজন ও নির্বাচন সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়, সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সাধারণ সভা ও নির্বাচন না হওয়ায় কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে এবং শ্রমিকদের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই উভয় পক্ষকে সমঝোতার মাধ্যমে দ্রুত সভা আয়োজন এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।
এতে আরও সতর্ক করে বলা হয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সভা ও নির্বাচন সম্পন্ন না হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে এবং প্রয়োজনে প্রশাসন সরাসরি হস্তক্ষেপ করবে।



























