ঢাকা ০৩:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পরশুরামে স্কুল শিক্ষার্থী বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটে মৃত্যু নওগাঁয় খাবারের প্রলোভনে শিশুকে ধর্ষণ রূপগঞ্জে ব্যবসায়ীর বাড়িতে হামলা, আহত ৪, লুট ১২ লক্ষাধিক টাকার মালামাল জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও বাড়েনি গণপরিবহনের ভাড়া সুনামগঞ্জের বিদ্যুতের মেরামত করতে গিয়ে কৃষকের মৃত্যু নেত্রকোনায় স্ত্রীর হাত-পায়ের রগ কেটে দেয়ার অভিযোগে স্বামী আটক নগরীর আইডিয়াল মোড় সংলগ্ন মহাসড়কে বাসচাপায় ঠিকাদার নিহত খুলনায় নিজ রাইফেলের গুলিতে পুলিশ সদস্যের আত্মহত্যা বৈশাখের ঝড় ও বজ্রপাতে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতির আশংকা কৃষি জমির টপসয়েল কাটা বাধা দিলেন ইউপি সদস্য রহিম উল্লাহ আমজাদহাটে জনমনে স্বস্তি

কিশোরগঞ্জে ইউপি গুলোতে থাই লটারির নামে চলছে প্রবাসী ঠকানোর প্রতিযোগিতা

হীমেল কুমার মিত্র, স্টাফ রিপোর্টারঃ
  • আপডেট সময় : ০৮:৪৯:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৩ ৩৮১ বার পড়া হয়েছে

কিশোরগঞ্জে ইউপি গুলোতে থাই লটারির নামে চলছে প্রবাসী ঠকানোর প্রতিযোগিতা

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

 

হীমেল কুমার মিত্র, স্টাফ রিপোর্টারঃ

প্রবাসীদের নিঃস্ব করতে প্রতিযোগিতায় নেমেছে নীলফামারী জেলা সদরসহ কিশোরগঞ্জ ও সৈয়দপুর উপজেলার ২নং কাশিরাম বেলপুকুর ইউপি, ৩নং নিতাই ইউপি, ৪নং বাহাগিলী ইউপি, ৫নং খাতামধুপুর ইউপি‘র অনেক দুষ্কৃতিকারীরা। মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে প্রচলিত অনলাইন ভিত্তিক লটারী প্রতিযোগীতায় বিজয়ী নম্বর প্রদানের নামে সুকৌশলে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতানোর পর প্রবাসীদের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে অর্থ আত্মসাধের হাজারো অভিযোগ উঠছে । প্রতারকদের চলাফেরার পরিবর্তন দীর্ঘদিন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, তারা প্রতারিত অর্থ দিয়ে সপ্তাহে সপ্তাহে মোটরবাইক ক্রয় ও পরিবর্তনের মাধ্যমে দামী দামী মোটরসাইকেল ব্যবহার, উন্নত বিল্ডিং বাড়ি নির্মাণ, নেশা দ্রব্য সেবন, অশ্লীল নারীদের নিয়ে আনন্দ ফুর্তি করে বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে হরহামেষাই ।

ফেসবুক ও ইউটিউবসহ সোস্যাল মাধ্যমে বিভিন্ন আকর্ষিত বিজ্ঞাপন বুষ্টিং এর মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অনলাইন লটারির বিজয়ী নম্বর নিশ্চিতের নামে প্রতিশ্রুতিমুলক বক্তব্য দিয়ে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে বাংলাদেশী প্রবাসীদের কাছ থেকে। আন্তর্জাতিক এসব জুয়ায় জেতার নির্ভুল ও সঠিক নাম্বার দিতে চেয়ে অগ্রিম অর্থ হাতিয়ে নিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় এই ডিজিটাল প্রতারকরা। প্রতারণার মাধ্যম হিসেবে চক্রটি বিভিন্ন ইমো, হোয়াটস অ্যাপ, মেসেঞ্জার ব্যবহার করে থাকে যার প্রমাণও মিলেছে। টাকা গ্রহণে তারা ভিন্ন নামীয় বিকাশ, নগদ বা ব্যাংক একাউন্ট নম্বর ব্যবহার করে থাকে।

কিশোরগঞ্জ উপজেলার নিতাই ইউনিয়নে ছলিমুদ্দির বাজারের অনলাইন ভিত্তিক লটারী- থাই ও টোট খেলে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার কথা স্বীকার করে মজনু ইসলাম। এমন নিকৃষ্ট কাজে পিছিয়ে নেই কিশোর কিশোরীরাও। অভাবের সংসারে যেন আলাদিনের চেরাগ জ্বলছে। অবৈধ পথে এভাবে অর্থ আসাতে, পরিবার গুলোর পিতা-মাতারাও সমানতালে উৎসাহ দিচ্ছে।

অনুসন্ধানে দেখা যায় , মজনু নামের এই ব্যক্তি বিকাশের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় শতাধিক ব্যক্তিকে প্রতারিত করছে এবং বিকাশের মাধ্যমে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বুষ্টিং দিয়ে আকর্ষিত বিজ্ঞাপন ছাড়ছে আর ফাঁদে ফেলেছে বাংলাদেশ ছেড়ে প্রবাসে থাকা, মাথার ঘাম পায়ে ফেলে উপার্জনকারী হাজারও প্রবাসীদের ।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মজনু আরও জানান, প্রবাসীরা নাকি তাকে খুশি হয়ে টাকা দেয়। অন্যরা সবাই বুষ্টিং করে, তাই সেও করে। তাদের অনেকেই এখন এই অবৈধ পেশায় যুক্ত হয়ে উপার্জন করে ভাগ্যের উন্নয়ন ঘটাচ্ছে। তার বোন এখন আর শ্বশুর বাড়িতে থেকে না, থাকে তাদের বাড়িতেই এবং প্রতারণার খেলায় তাকে সাহায্য করে। তার বাবা টাকা পেলে মহা খুশি হয়, এজন্য আর পড়াশোনাও করতে হচ্ছে না তাকে।

মজনু আরও জানায়, আমাদের এলাকায় কেউ প্রশাসনকে ভয় করে না। সবাই সিস্টেম করে চলে। মামলা হওয়ার আগে আমাদের আগাম জামিন হয় হাইকোর্টে। কেউ আমাদের আটকিয়ে রাখতে পারে না। সে জোড় গলায় বলে, তারাগঞ্জ থানায় এজাহারভুক্ত আসামি থাইয়ের রাজা মতিয়ার ভাই, এলাকায় দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছে। গত পরশুদিনও মতিয়ারের দেখা হয়েছিল মজনুর সাথে।

তারাগঞ্জ থানায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তারাগঞ্জ থানায় গত ২৯শে ডিসেম্বর ২০২২ইং তারিখে থাইল্যান্ডের মুদ্রা (বাথ) জাল করে, সেই নোট দিয়ে প্রতারণায় জড়িতদের নামে একটি মামলা হয়। মূলত এসব জাল নোট দিয়ে চমকপ্রদ ও লোভনীয় ভিডিও তৈরি করত। তৈরিকৃত ভিডিও বিভিন্ন সোস্যাল মিডিয়ায় বুস্টিং করে বোকা বানিয়ে নিঃস্ব করে দেয় প্রবাসীদের। প্রতারকদের ধরতে অভিযানও চলছে নিয়মিত ।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

 

কিশোরগঞ্জে ইউপি গুলোতে থাই লটারির নামে চলছে প্রবাসী ঠকানোর প্রতিযোগিতা

আপডেট সময় : ০৮:৪৯:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৩
print news

 

হীমেল কুমার মিত্র, স্টাফ রিপোর্টারঃ

প্রবাসীদের নিঃস্ব করতে প্রতিযোগিতায় নেমেছে নীলফামারী জেলা সদরসহ কিশোরগঞ্জ ও সৈয়দপুর উপজেলার ২নং কাশিরাম বেলপুকুর ইউপি, ৩নং নিতাই ইউপি, ৪নং বাহাগিলী ইউপি, ৫নং খাতামধুপুর ইউপি‘র অনেক দুষ্কৃতিকারীরা। মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে প্রচলিত অনলাইন ভিত্তিক লটারী প্রতিযোগীতায় বিজয়ী নম্বর প্রদানের নামে সুকৌশলে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতানোর পর প্রবাসীদের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে অর্থ আত্মসাধের হাজারো অভিযোগ উঠছে । প্রতারকদের চলাফেরার পরিবর্তন দীর্ঘদিন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, তারা প্রতারিত অর্থ দিয়ে সপ্তাহে সপ্তাহে মোটরবাইক ক্রয় ও পরিবর্তনের মাধ্যমে দামী দামী মোটরসাইকেল ব্যবহার, উন্নত বিল্ডিং বাড়ি নির্মাণ, নেশা দ্রব্য সেবন, অশ্লীল নারীদের নিয়ে আনন্দ ফুর্তি করে বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে হরহামেষাই ।

ফেসবুক ও ইউটিউবসহ সোস্যাল মাধ্যমে বিভিন্ন আকর্ষিত বিজ্ঞাপন বুষ্টিং এর মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অনলাইন লটারির বিজয়ী নম্বর নিশ্চিতের নামে প্রতিশ্রুতিমুলক বক্তব্য দিয়ে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে বাংলাদেশী প্রবাসীদের কাছ থেকে। আন্তর্জাতিক এসব জুয়ায় জেতার নির্ভুল ও সঠিক নাম্বার দিতে চেয়ে অগ্রিম অর্থ হাতিয়ে নিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় এই ডিজিটাল প্রতারকরা। প্রতারণার মাধ্যম হিসেবে চক্রটি বিভিন্ন ইমো, হোয়াটস অ্যাপ, মেসেঞ্জার ব্যবহার করে থাকে যার প্রমাণও মিলেছে। টাকা গ্রহণে তারা ভিন্ন নামীয় বিকাশ, নগদ বা ব্যাংক একাউন্ট নম্বর ব্যবহার করে থাকে।

কিশোরগঞ্জ উপজেলার নিতাই ইউনিয়নে ছলিমুদ্দির বাজারের অনলাইন ভিত্তিক লটারী- থাই ও টোট খেলে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার কথা স্বীকার করে মজনু ইসলাম। এমন নিকৃষ্ট কাজে পিছিয়ে নেই কিশোর কিশোরীরাও। অভাবের সংসারে যেন আলাদিনের চেরাগ জ্বলছে। অবৈধ পথে এভাবে অর্থ আসাতে, পরিবার গুলোর পিতা-মাতারাও সমানতালে উৎসাহ দিচ্ছে।

অনুসন্ধানে দেখা যায় , মজনু নামের এই ব্যক্তি বিকাশের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় শতাধিক ব্যক্তিকে প্রতারিত করছে এবং বিকাশের মাধ্যমে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বুষ্টিং দিয়ে আকর্ষিত বিজ্ঞাপন ছাড়ছে আর ফাঁদে ফেলেছে বাংলাদেশ ছেড়ে প্রবাসে থাকা, মাথার ঘাম পায়ে ফেলে উপার্জনকারী হাজারও প্রবাসীদের ।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মজনু আরও জানান, প্রবাসীরা নাকি তাকে খুশি হয়ে টাকা দেয়। অন্যরা সবাই বুষ্টিং করে, তাই সেও করে। তাদের অনেকেই এখন এই অবৈধ পেশায় যুক্ত হয়ে উপার্জন করে ভাগ্যের উন্নয়ন ঘটাচ্ছে। তার বোন এখন আর শ্বশুর বাড়িতে থেকে না, থাকে তাদের বাড়িতেই এবং প্রতারণার খেলায় তাকে সাহায্য করে। তার বাবা টাকা পেলে মহা খুশি হয়, এজন্য আর পড়াশোনাও করতে হচ্ছে না তাকে।

মজনু আরও জানায়, আমাদের এলাকায় কেউ প্রশাসনকে ভয় করে না। সবাই সিস্টেম করে চলে। মামলা হওয়ার আগে আমাদের আগাম জামিন হয় হাইকোর্টে। কেউ আমাদের আটকিয়ে রাখতে পারে না। সে জোড় গলায় বলে, তারাগঞ্জ থানায় এজাহারভুক্ত আসামি থাইয়ের রাজা মতিয়ার ভাই, এলাকায় দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছে। গত পরশুদিনও মতিয়ারের দেখা হয়েছিল মজনুর সাথে।

তারাগঞ্জ থানায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তারাগঞ্জ থানায় গত ২৯শে ডিসেম্বর ২০২২ইং তারিখে থাইল্যান্ডের মুদ্রা (বাথ) জাল করে, সেই নোট দিয়ে প্রতারণায় জড়িতদের নামে একটি মামলা হয়। মূলত এসব জাল নোট দিয়ে চমকপ্রদ ও লোভনীয় ভিডিও তৈরি করত। তৈরিকৃত ভিডিও বিভিন্ন সোস্যাল মিডিয়ায় বুস্টিং করে বোকা বানিয়ে নিঃস্ব করে দেয় প্রবাসীদের। প্রতারকদের ধরতে অভিযানও চলছে নিয়মিত ।