ঢাকা ১০:৫৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ব্রাহ্মণপাড়ায় পুলিশের অভিযানে ১১৬ পিস ইয়াবা সহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার ২৪ দিনেও গ্রেফতার হয়নি সাংবাদিক রফিকের পিতা হত্যা মামলার আসামিরা, পরিবারের ক্ষোভ নাজিরহাট এলাকায় যৌথ অভিযানে বালুমহলে জরিমানা আদায় রূপগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের ইউনিট সভাপতি সম্মেলন অনুষ্ঠিত “বৈষম্যহীন মানবিক কল্যাণ রাষ্ট্র গঠনে ইসলামি আদর্শের বিকল্প নেই” মিরসরাইয়ে বেপরোয়া গতির বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে ১ নারী নিহত ফেনীতে কিস্তির টাকার জন্য প্রবাসীর স্ত্রীকে হত্যায় রাজমিস্ত্রী গ্রেফতার কুমিল্লায় বড় ভাইয়ের হাতে ছোট ভাই খুন বেরোবির নতুন উপাচার্য নিয়োগ টঙ্গীতে নিজস্ব নির্মাণাধীন ভবন থেকে যুবকের ঝুলান্ত মরদেহ উদ্ধার কুষ্টিয়ায় গৃহবধূকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে যুবক গ্রেফতার

কয়লার আগুন নিভে গেছে তবু অমলিন স্টিম ইঞ্জিনের স্মৃতি

মোঃ মকবুলার রহমান নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৮:৫৮:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫ ১৪৬ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

মোঃ মকবুলার রহমান
নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি:

রেলপথে ধোঁয়া উড়িয়ে ছুটে চলা কয়লার ইঞ্জিন আজ কেবল ইতিহাসের স্মৃতি। শিল্পবিপ্লবের সূচনা থেকে উপমহাদেশের রেল পরিবহন সবখানে স্টিম ইঞ্জিনের গর্জন ছিল অগ্রগতির প্রতীক। প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে সেই যুগের ইতি ঘটলেও এর স্মৃতি এখনো বয়ে চলেছে রেলপ্রেমীদের হৃদয়ে।

১৮০৪ সালে ব্রিটিশ প্রকৌশলী রিচার্ড ট্রেভিথিক প্রথম সফল স্টিম লোকোমোটিভ চালান। পরে ১৮২৫ সালে স্টিভেনসনের লোকোমোশন বাণিজ্যিক রেলযাত্রার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে।

১৮৫৩ সালে উপমহাদেশে প্রথম স্টিম ট্রেন চালু হয়, আর উনিশ শতকের শেষভাগে বর্তমান বাংলাদেশের রেলপথেও প্রবেশ করে এই ইঞ্জিন।

বাংলাদেশে ১৮৮০-এর দশক থেকে কয়েক দশক ধরে যাত্রীবাহী ও মালবাহী উভয় ট্রেনই চলত কয়লা-চালিত স্টিম ইঞ্জিনে। বড় স্টেশনগুলোতে ছিল কয়লা-ইয়ার্ড, পানি ভরার ট্যাঙ্ক, ওয়ার্কশপ ও রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র। বয়লার গরম করা, পানি ভরা এবং শাবল দিয়ে কয়লা তোলার দৃশ্য ছিল তখনকার সময়ের দৈনন্দিন রেলের প্রাণচাঞ্চল্যের অংশ।

স্টিম ইঞ্জিন পরিচালনায় শ্রম ও সতর্কতার প্রয়োজন ছিল ব্যাপক—
বয়লারের চাপ নিয়ন্ত্রণ, পানি সরবরাহ, কয়লা তোলা, পাইপ পরীক্ষা—এসব নিয়ে চলত টানা ব্যস্ততা। তবুও রেলকর্মীরা গর্বের সাথে এ ইঞ্জিনের দায়িত্ব পালন করতেন।

ধোঁয়া ও বাষ্পে আকাশ ঢেকে যাওয়া, দূর থেকে ভেসে আসা হুইসেলের শব্দ—এসবই ছিল রেলযাত্রার বিশেষ আবেগ।

সময় পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে স্টিম ইঞ্জিন পিছিয়ে পড়ে। প্রচুর কয়লার প্রয়োজন, উচ্চ ব্যয়, কম কার্যকারিতা, পরিবেশ দূষণ সব মিলিয়ে নীতিগতভাবে এটি অকার্যকর হয়ে পড়ে। ফলে ডিজেল প্রযুক্তির উত্থান স্টিম ইঞ্জিনের জায়গা দখল করে নেয়।

অবশেষে ১৯৯৮ সালে বাংলাদেশ রেলওয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে স্টিম ইঞ্জিনের অবসান ঘোষণা করে।

এর মধ্য দিয়েই শেষ হয় এক দীর্ঘ শতাব্দীর যাত্রা—যে যাত্রা দেশের রেল যোগাযোগকে তৈরি করেছিল একটি শক্তিশালী ভিত্তির ওপর।

রেল ইতিহাসবিদদের মতে, স্টিম ইঞ্জিন শুধু প্রযুক্তি নয়, ছিল এক যুগের সংস্কৃতি।
যে শব্দ, যে ধোঁয়া, যে উচ্ছ্বাস আজও অনেক মানুষ গভীর আবেগ নিয়ে স্মরণ করেন সেই সময়কে। এককথায়, স্টিম ইঞ্জিনের শেষ হুইসেল থেমে গেলেও তার স্মৃতি কখনো থামে না।

প্রযুক্তি বদলায়, ইঞ্জিন বদলায় কিন্তু কয়লার ইঞ্জিনের ধোঁয়া-ভরা সোনালি অধ্যায় রেল ইতিহাসে চিরদিন অমর হয়ে থাকবে।

দৈনিক যখন সময় এর পাঠকের জন্য তথ্যগুলো গুগল থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

 

কয়লার আগুন নিভে গেছে তবু অমলিন স্টিম ইঞ্জিনের স্মৃতি

আপডেট সময় : ০৮:৫৮:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫
print news

মোঃ মকবুলার রহমান
নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি:

রেলপথে ধোঁয়া উড়িয়ে ছুটে চলা কয়লার ইঞ্জিন আজ কেবল ইতিহাসের স্মৃতি। শিল্পবিপ্লবের সূচনা থেকে উপমহাদেশের রেল পরিবহন সবখানে স্টিম ইঞ্জিনের গর্জন ছিল অগ্রগতির প্রতীক। প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে সেই যুগের ইতি ঘটলেও এর স্মৃতি এখনো বয়ে চলেছে রেলপ্রেমীদের হৃদয়ে।

১৮০৪ সালে ব্রিটিশ প্রকৌশলী রিচার্ড ট্রেভিথিক প্রথম সফল স্টিম লোকোমোটিভ চালান। পরে ১৮২৫ সালে স্টিভেনসনের লোকোমোশন বাণিজ্যিক রেলযাত্রার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে।

১৮৫৩ সালে উপমহাদেশে প্রথম স্টিম ট্রেন চালু হয়, আর উনিশ শতকের শেষভাগে বর্তমান বাংলাদেশের রেলপথেও প্রবেশ করে এই ইঞ্জিন।

বাংলাদেশে ১৮৮০-এর দশক থেকে কয়েক দশক ধরে যাত্রীবাহী ও মালবাহী উভয় ট্রেনই চলত কয়লা-চালিত স্টিম ইঞ্জিনে। বড় স্টেশনগুলোতে ছিল কয়লা-ইয়ার্ড, পানি ভরার ট্যাঙ্ক, ওয়ার্কশপ ও রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র। বয়লার গরম করা, পানি ভরা এবং শাবল দিয়ে কয়লা তোলার দৃশ্য ছিল তখনকার সময়ের দৈনন্দিন রেলের প্রাণচাঞ্চল্যের অংশ।

স্টিম ইঞ্জিন পরিচালনায় শ্রম ও সতর্কতার প্রয়োজন ছিল ব্যাপক—
বয়লারের চাপ নিয়ন্ত্রণ, পানি সরবরাহ, কয়লা তোলা, পাইপ পরীক্ষা—এসব নিয়ে চলত টানা ব্যস্ততা। তবুও রেলকর্মীরা গর্বের সাথে এ ইঞ্জিনের দায়িত্ব পালন করতেন।

ধোঁয়া ও বাষ্পে আকাশ ঢেকে যাওয়া, দূর থেকে ভেসে আসা হুইসেলের শব্দ—এসবই ছিল রেলযাত্রার বিশেষ আবেগ।

সময় পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে স্টিম ইঞ্জিন পিছিয়ে পড়ে। প্রচুর কয়লার প্রয়োজন, উচ্চ ব্যয়, কম কার্যকারিতা, পরিবেশ দূষণ সব মিলিয়ে নীতিগতভাবে এটি অকার্যকর হয়ে পড়ে। ফলে ডিজেল প্রযুক্তির উত্থান স্টিম ইঞ্জিনের জায়গা দখল করে নেয়।

অবশেষে ১৯৯৮ সালে বাংলাদেশ রেলওয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে স্টিম ইঞ্জিনের অবসান ঘোষণা করে।

এর মধ্য দিয়েই শেষ হয় এক দীর্ঘ শতাব্দীর যাত্রা—যে যাত্রা দেশের রেল যোগাযোগকে তৈরি করেছিল একটি শক্তিশালী ভিত্তির ওপর।

রেল ইতিহাসবিদদের মতে, স্টিম ইঞ্জিন শুধু প্রযুক্তি নয়, ছিল এক যুগের সংস্কৃতি।
যে শব্দ, যে ধোঁয়া, যে উচ্ছ্বাস আজও অনেক মানুষ গভীর আবেগ নিয়ে স্মরণ করেন সেই সময়কে। এককথায়, স্টিম ইঞ্জিনের শেষ হুইসেল থেমে গেলেও তার স্মৃতি কখনো থামে না।

প্রযুক্তি বদলায়, ইঞ্জিন বদলায় কিন্তু কয়লার ইঞ্জিনের ধোঁয়া-ভরা সোনালি অধ্যায় রেল ইতিহাসে চিরদিন অমর হয়ে থাকবে।

দৈনিক যখন সময় এর পাঠকের জন্য তথ্যগুলো গুগল থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে।