ঢাকা ১০:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ২০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

মহানবী (সা.)-কে কটূক্তির অভিযোগে ১৭ বছরের এক কিশোর গ্রেফতার, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ১৫টি বাড়িঘর ভাঙচুর

স্টাফ রিপোর্টার রংপুর।
  • আপডেট সময় : ০৮:১১:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ জুলাই ২০২৫ ২১৬ বার পড়া হয়েছে

মহানবী (সা.)-কে কটূক্তির অভিযোগে ১৭ বছরের এক কিশোর গ্রেফতার, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ১৫টি বাড়িঘর ভাঙচুর

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

স্টাফ রিপোর্টার রংপুর।

রংপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মহানবী (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তি করে পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে ১৭ বছরের এক কিশোরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় স্থানীয় উত্তেজিত জনতা শনিবার রাতে ও রবিবার (২৭ জুলাই) বিকালে দুই দফায় অভিযুক্ত কিশোরের বাড়িসহ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ১৫টি বাড়িঘর ভাঙচুর করেছে। ভাঙচুর ঠেকাতে গিয়ে পুলিশের এক সদস্য আহত হয়েছেন।

রংপুরের গংগাচড়া উপজেলার বেতগাড়ী ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে রবিবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এখনও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

ওই এলাকার মেম্বার পরেশ চন্দ্র বলেন, ‘রবিবার দুপুরে গ্রামের পাশে কিশোরগঞ্জের বাংলাবাজার থেকে খিলালগঞ্জে মানববন্ধনের ডাক দেওয়া হয়েছিল। পুলিশ জানিয়েছিল, তারা শুধু মানববন্ধন করবে, কারও বাড়ির দিকে আসবে না। কিন্তু বিকাল ৩টার দিকে উত্তেজিত জনতা খিলালগঞ্জ বাজারে থেকে জড়ো হয়ে ওই কিশোরের গ্রামের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বাড়ির দিকে স্লোগান দিতে দিতে আসে। এ সময় আমারসহ অন্তত ১৫টি হিন্দু বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এর মধ্যে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ধরনী কান্ত মোহন্ত, ধনঞ্জয় কুমার, অতুল চন্দ্র, কমলা কান্ত, দুলাল চন্দ্রের বাড়িঘর। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

পুলিশ জানায়, গ্রেফতার কিশোর একটি বেসরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের তৃতীয় পর্বের শিক্ষার্থী। বাড়ি গঙ্গাচড়ার বেদগাড়ী ইউনিয়নের একটি গ্রামে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুরে মহানবী (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তি করে ওই কিশোর ফেসবুকে পোস্ট দেয় বলে অভিযোগ ওঠে। সে কিশোর স্থানীয় একটি কলেজের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তার দেওয়া ফেসবুক পোস্ট নিয়ে শনিবার বিকালে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে সন্ধ্যায় পুলিশ কিশোরের বাড়িতে যায়। এরপর তাকে গ্রেফতার করে রাত ৮টার দিকে গংগাচড়া থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

তাকে থানায় নেওয়ার পর বিচারের দাবিতে এলাকাবাসী ও উত্তেজিত জনতা মিছিল বের করে। রাত ৯টার দিকে মিছিলটি কিশোরের বাড়ির সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় তার বাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়। রাত সাড়ে ১০টার দিকে দ্বিতীয় দফায় বিক্ষুব্ধ জনতা কিশোরের দাদার বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় বলে অভিযোগ করেছেন কিশোরের দাদা ও বাবা। খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

গংগাচড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল এমরান জানান, ‘ওই কিশোর ফেসবুকে মহানবী (সা.)-কে নিয়ে অবমাননাকর লেখা ও ছবি দিয়েছে এমন অভিযোগ পায় পুলিশ। পরে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে গ্রেফতার করে শনিবার রাতে থানায় আনা হয়। এরপর সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করে রবিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে সম্মিলিত শিশু পুনর্বাসনকেন্দ্রে পাঠানো হয়।’

ওসি আল এমরান বলেন, শনিবার রাত ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে ছিল। পরিস্থিতি শান্ত করার পর আমরা চলে আসি। রবিবার জোহরের নামাজের পর হাজার হাজার লোক সেদিকে যাবেন—এমন খবর পেয়ে পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং আমরা সেনাবাহিনীর সহযোগিতা চাই। দুপুর ১টা থেকে পুলিশ সেখানে অবস্থান নেয়। বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে উত্তেজিত জনতা বাড়িঘরে হামলা শুরু করলে পুলিশ তাদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় কয়েকটি বাড়িঘর ভাঙচুর হয়। এতে পুলিশ সদস্যদের অনেকে আহত হয়েছেন। এর মধ্যে পুলিশ কনস্টেবল আলী হোসেন গুরতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

রংপুর আদালতের জিআরও ফারুক আহমেদ জানিয়েছেন, রবিবার দুপুরে ওই কিশোরকে রংপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত-২-এর বিচারক অনুপম রায়ের আদালতে হাজির করা হয়। বিচারক তাকে সম্মিলিত শিশু পুনর্বাসনকেন্দ্রে পাঠানোর আদেশ দেন। একইসঙ্গে আদালত মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেছেন আগামী ২৭ আগস্ট।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

 

মহানবী (সা.)-কে কটূক্তির অভিযোগে ১৭ বছরের এক কিশোর গ্রেফতার, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ১৫টি বাড়িঘর ভাঙচুর

আপডেট সময় : ০৮:১১:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ জুলাই ২০২৫
print news

স্টাফ রিপোর্টার রংপুর।

রংপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মহানবী (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তি করে পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে ১৭ বছরের এক কিশোরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় স্থানীয় উত্তেজিত জনতা শনিবার রাতে ও রবিবার (২৭ জুলাই) বিকালে দুই দফায় অভিযুক্ত কিশোরের বাড়িসহ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ১৫টি বাড়িঘর ভাঙচুর করেছে। ভাঙচুর ঠেকাতে গিয়ে পুলিশের এক সদস্য আহত হয়েছেন।

রংপুরের গংগাচড়া উপজেলার বেতগাড়ী ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে রবিবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এখনও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

ওই এলাকার মেম্বার পরেশ চন্দ্র বলেন, ‘রবিবার দুপুরে গ্রামের পাশে কিশোরগঞ্জের বাংলাবাজার থেকে খিলালগঞ্জে মানববন্ধনের ডাক দেওয়া হয়েছিল। পুলিশ জানিয়েছিল, তারা শুধু মানববন্ধন করবে, কারও বাড়ির দিকে আসবে না। কিন্তু বিকাল ৩টার দিকে উত্তেজিত জনতা খিলালগঞ্জ বাজারে থেকে জড়ো হয়ে ওই কিশোরের গ্রামের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বাড়ির দিকে স্লোগান দিতে দিতে আসে। এ সময় আমারসহ অন্তত ১৫টি হিন্দু বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এর মধ্যে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ধরনী কান্ত মোহন্ত, ধনঞ্জয় কুমার, অতুল চন্দ্র, কমলা কান্ত, দুলাল চন্দ্রের বাড়িঘর। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

পুলিশ জানায়, গ্রেফতার কিশোর একটি বেসরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের তৃতীয় পর্বের শিক্ষার্থী। বাড়ি গঙ্গাচড়ার বেদগাড়ী ইউনিয়নের একটি গ্রামে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুরে মহানবী (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তি করে ওই কিশোর ফেসবুকে পোস্ট দেয় বলে অভিযোগ ওঠে। সে কিশোর স্থানীয় একটি কলেজের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তার দেওয়া ফেসবুক পোস্ট নিয়ে শনিবার বিকালে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে সন্ধ্যায় পুলিশ কিশোরের বাড়িতে যায়। এরপর তাকে গ্রেফতার করে রাত ৮টার দিকে গংগাচড়া থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

তাকে থানায় নেওয়ার পর বিচারের দাবিতে এলাকাবাসী ও উত্তেজিত জনতা মিছিল বের করে। রাত ৯টার দিকে মিছিলটি কিশোরের বাড়ির সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় তার বাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়। রাত সাড়ে ১০টার দিকে দ্বিতীয় দফায় বিক্ষুব্ধ জনতা কিশোরের দাদার বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় বলে অভিযোগ করেছেন কিশোরের দাদা ও বাবা। খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

গংগাচড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল এমরান জানান, ‘ওই কিশোর ফেসবুকে মহানবী (সা.)-কে নিয়ে অবমাননাকর লেখা ও ছবি দিয়েছে এমন অভিযোগ পায় পুলিশ। পরে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে গ্রেফতার করে শনিবার রাতে থানায় আনা হয়। এরপর সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করে রবিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে সম্মিলিত শিশু পুনর্বাসনকেন্দ্রে পাঠানো হয়।’

ওসি আল এমরান বলেন, শনিবার রাত ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে ছিল। পরিস্থিতি শান্ত করার পর আমরা চলে আসি। রবিবার জোহরের নামাজের পর হাজার হাজার লোক সেদিকে যাবেন—এমন খবর পেয়ে পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং আমরা সেনাবাহিনীর সহযোগিতা চাই। দুপুর ১টা থেকে পুলিশ সেখানে অবস্থান নেয়। বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে উত্তেজিত জনতা বাড়িঘরে হামলা শুরু করলে পুলিশ তাদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় কয়েকটি বাড়িঘর ভাঙচুর হয়। এতে পুলিশ সদস্যদের অনেকে আহত হয়েছেন। এর মধ্যে পুলিশ কনস্টেবল আলী হোসেন গুরতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

রংপুর আদালতের জিআরও ফারুক আহমেদ জানিয়েছেন, রবিবার দুপুরে ওই কিশোরকে রংপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত-২-এর বিচারক অনুপম রায়ের আদালতে হাজির করা হয়। বিচারক তাকে সম্মিলিত শিশু পুনর্বাসনকেন্দ্রে পাঠানোর আদেশ দেন। একইসঙ্গে আদালত মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেছেন আগামী ২৭ আগস্ট।