ঢাকা ০৩:০৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পরশুরামে স্কুল শিক্ষার্থী বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটে মৃত্যু নওগাঁয় খাবারের প্রলোভনে শিশুকে ধর্ষণ রূপগঞ্জে ব্যবসায়ীর বাড়িতে হামলা, আহত ৪, লুট ১২ লক্ষাধিক টাকার মালামাল জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও বাড়েনি গণপরিবহনের ভাড়া সুনামগঞ্জের বিদ্যুতের মেরামত করতে গিয়ে কৃষকের মৃত্যু নেত্রকোনায় স্ত্রীর হাত-পায়ের রগ কেটে দেয়ার অভিযোগে স্বামী আটক নগরীর আইডিয়াল মোড় সংলগ্ন মহাসড়কে বাসচাপায় ঠিকাদার নিহত খুলনায় নিজ রাইফেলের গুলিতে পুলিশ সদস্যের আত্মহত্যা বৈশাখের ঝড় ও বজ্রপাতে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতির আশংকা কৃষি জমির টপসয়েল কাটা বাধা দিলেন ইউপি সদস্য রহিম উল্লাহ আমজাদহাটে জনমনে স্বস্তি

ওয়েবসাইটে তথ্য সংকট, সোহরাওয়ার্দী কলেজ অধ্যক্ষের দ্রুত সংস্কারের প্রতিশ্রুতি

রুমা আক্তার ,সোহরাওয়ার্দী কলেজে প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৯:১৬:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ মার্চ ২০২৫ ১৩৫ বার পড়া হয়েছে

ওয়েবসাইটে তথ্য সংকট, সোহরাওয়ার্দী কলেজ অধ্যক্ষের দ্রুত সংস্কারের প্রতিশ্রুতি

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

রুমা আক্তার ,সোহরাওয়ার্দী কলেজে প্রতিনিধি

ঢাকার ঐতিহ্যবাহী সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ শিক্ষার গুণগত মান এবং ইতিহাসের কারণে একটি সুপরিচিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তবে কলেজটির আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি সুবিধা, বিশেষ করে অফিশিয়াল ওয়েবসাইটের অবস্থা, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য বড় এক হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের ওয়েবসাইট দীর্ঘদিন ধরেই অকার্যকর অবস্থায় রয়েছে। অনেক সময় ওয়েবসাইট লোডই হয় না, আর হলেও সেখানে থাকা তথ্য হয় পুরোনো, নয়তো অসম্পূর্ণ। একাডেমিক ক্যালেন্ডার, নোটিশ, ভর্তি সংক্রান্ত তথ্য বা পরীক্ষার রুটিন—কোনো কিছুই সময়মতো আপডেট করা হয় না। ফলে শিক্ষার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

ওয়েবসাইট থেকে নিয়মিত নোটিশ পাওয়ার কথা থাকলেও শিক্ষার্থীরা তা পাচ্ছেন না। ফলে পরীক্ষার সময়সূচি বা ভর্তি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ আপডেট জানতে বারবার কলেজে যেতে হচ্ছে। শিক্ষকদের ক্লাস রুটিন ও অনলাইন রিসোর্স সম্পর্কেও কোনো তথ্য সঠিকভাবে দেওয়া হয় না। অনেক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেছেন, ওয়েবসাইটে থাকা অনেক লিংক অকার্যকর, ফলে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট ডাউনলোড করাও সম্ভব হচ্ছে না।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও প্রশাসন এ ব্যাপারে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। ডিজিটালাইজেশনের যুগে যেখানে অন্যান্য সরকারি কলেজগুলো আধুনিক ওয়েবসাইট ব্যবস্থাপনার দিকে নজর দিচ্ছে, সেখানে সোহরাওয়ার্দী কলেজের উদাসীনতা হতাশাজনক। আইটি সাপোর্ট টিমের অভাব, প্রযুক্তিগত অগ্রগতির প্রতি অনাগ্রহ এবং দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের গাফিলতির কারণেই এই সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে চলতে রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোর ওয়েবসাইট নিয়মিত আপডেট রাখতে একটি স্বতন্ত্র আইটি বিভাগ গঠন করা প্রয়োজন। সোহরাওয়ার্দী কলেজের প্রশাসন চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহায়তায় দক্ষ প্রযুক্তিবিদ নিয়োগ দিতে পারে, যা ওয়েবসাইটের রক্ষণাবেক্ষণে সহায়ক হবে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের জন্য একটি হেল্পডেস্ক চালু করা যেতে পারে, যেখানে তারা ওয়েবসাইট সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান পাবে।

এই সম্পর্কে সোহরাওয়ার্দী কলেজ অধ্যক্ষ ড. কাকলী মুখোপাধ্যায় জানায়, ” কলেজের আগের ওয়েবসাইটটির অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। এটাকে সংস্কার করিয়ে ভালো এবং তথ্যসমৃদ্ধ একটি ওয়েবসাইট রমজান মাসের মধ্যেই আসবে। আমি ইতোমধ্যে একটি অ্যাপ প্লে স্টোরে চালু করেছি, সেখান থেকে অ্যাপটি ইন্সটল করেও কলেজ সম্পর্কে সকল তথ্য জানা যাবে।”

একটি কলেজের ওয়েবসাইট শুধু তথ্য প্রদানের মাধ্যম নয়, বরং এটি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রশাসনের যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। সোহরাওয়ার্দী কলেজের ওয়েবসাইট যদি যথাযথভাবে পরিচালিত হয়, তাহলে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমবে, প্রশাসনের কার্যক্রম হবে স্বচ্ছ, আর কলেজের ডিজিটাল ইমেজ আরও শক্তিশালী হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিৎ দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা, যাতে কলেজের হাজারো শিক্ষার্থী প্রযুক্তির এই সুবিধা সঠিকভাবে উপভোগ করতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

 

ওয়েবসাইটে তথ্য সংকট, সোহরাওয়ার্দী কলেজ অধ্যক্ষের দ্রুত সংস্কারের প্রতিশ্রুতি

আপডেট সময় : ০৯:১৬:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ মার্চ ২০২৫
print news

রুমা আক্তার ,সোহরাওয়ার্দী কলেজে প্রতিনিধি

ঢাকার ঐতিহ্যবাহী সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ শিক্ষার গুণগত মান এবং ইতিহাসের কারণে একটি সুপরিচিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তবে কলেজটির আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি সুবিধা, বিশেষ করে অফিশিয়াল ওয়েবসাইটের অবস্থা, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য বড় এক হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের ওয়েবসাইট দীর্ঘদিন ধরেই অকার্যকর অবস্থায় রয়েছে। অনেক সময় ওয়েবসাইট লোডই হয় না, আর হলেও সেখানে থাকা তথ্য হয় পুরোনো, নয়তো অসম্পূর্ণ। একাডেমিক ক্যালেন্ডার, নোটিশ, ভর্তি সংক্রান্ত তথ্য বা পরীক্ষার রুটিন—কোনো কিছুই সময়মতো আপডেট করা হয় না। ফলে শিক্ষার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

ওয়েবসাইট থেকে নিয়মিত নোটিশ পাওয়ার কথা থাকলেও শিক্ষার্থীরা তা পাচ্ছেন না। ফলে পরীক্ষার সময়সূচি বা ভর্তি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ আপডেট জানতে বারবার কলেজে যেতে হচ্ছে। শিক্ষকদের ক্লাস রুটিন ও অনলাইন রিসোর্স সম্পর্কেও কোনো তথ্য সঠিকভাবে দেওয়া হয় না। অনেক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেছেন, ওয়েবসাইটে থাকা অনেক লিংক অকার্যকর, ফলে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট ডাউনলোড করাও সম্ভব হচ্ছে না।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও প্রশাসন এ ব্যাপারে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। ডিজিটালাইজেশনের যুগে যেখানে অন্যান্য সরকারি কলেজগুলো আধুনিক ওয়েবসাইট ব্যবস্থাপনার দিকে নজর দিচ্ছে, সেখানে সোহরাওয়ার্দী কলেজের উদাসীনতা হতাশাজনক। আইটি সাপোর্ট টিমের অভাব, প্রযুক্তিগত অগ্রগতির প্রতি অনাগ্রহ এবং দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের গাফিলতির কারণেই এই সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে চলতে রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোর ওয়েবসাইট নিয়মিত আপডেট রাখতে একটি স্বতন্ত্র আইটি বিভাগ গঠন করা প্রয়োজন। সোহরাওয়ার্দী কলেজের প্রশাসন চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহায়তায় দক্ষ প্রযুক্তিবিদ নিয়োগ দিতে পারে, যা ওয়েবসাইটের রক্ষণাবেক্ষণে সহায়ক হবে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের জন্য একটি হেল্পডেস্ক চালু করা যেতে পারে, যেখানে তারা ওয়েবসাইট সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান পাবে।

এই সম্পর্কে সোহরাওয়ার্দী কলেজ অধ্যক্ষ ড. কাকলী মুখোপাধ্যায় জানায়, ” কলেজের আগের ওয়েবসাইটটির অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। এটাকে সংস্কার করিয়ে ভালো এবং তথ্যসমৃদ্ধ একটি ওয়েবসাইট রমজান মাসের মধ্যেই আসবে। আমি ইতোমধ্যে একটি অ্যাপ প্লে স্টোরে চালু করেছি, সেখান থেকে অ্যাপটি ইন্সটল করেও কলেজ সম্পর্কে সকল তথ্য জানা যাবে।”

একটি কলেজের ওয়েবসাইট শুধু তথ্য প্রদানের মাধ্যম নয়, বরং এটি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রশাসনের যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। সোহরাওয়ার্দী কলেজের ওয়েবসাইট যদি যথাযথভাবে পরিচালিত হয়, তাহলে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমবে, প্রশাসনের কার্যক্রম হবে স্বচ্ছ, আর কলেজের ডিজিটাল ইমেজ আরও শক্তিশালী হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিৎ দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা, যাতে কলেজের হাজারো শিক্ষার্থী প্রযুক্তির এই সুবিধা সঠিকভাবে উপভোগ করতে পারে।