Header Premium (728×90)

আইসিসির নতুন বলের নিয়মে ব্যাকফুটে বাংলাদেশ

ওয়ানডে ক্রিকেটে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) নতুন নিয়মকে নিজেদের পক্ষে কাজে লাগাতে পারছে না বাংলাদেশ। নতুন নিয়মে পেসারদের বল সুইং করার সুযোগ বাড়লেও সেটি দিয়ে উইকেট নেওয়া কিংবা রান আটকানো সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষ বোলারদের রিভার্স সুইং সামলাতে গিয়ে ইনিংসের শেষভাগে রান তোলার গতি হারিয়ে ফেলছেন বাংলাদেশের ব্যাটাররা। নিয়মটি অন্য কয়েকটি দলের জন্য আশীর্বাদ হলেও বাংলাদেশের জন্য রীতিমতো ধাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই সংকটের সাম্প্রতিক উদাহরণ তৈরি হয়েছে গত শনিবার আবুধাবিতে। ত্রিদেশীয় সিরিজের ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানে পরাজিত হয় বাংলাদেশ। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে জিম্বাবুয়ে ৮ উইকেটে ২৭১ রান তোলে। জবাবে বাংলাদেশ দল ৩৪ ওভারের মধ্যেই মাত্র ১৭২ রানে অলআউট হয়ে যায়। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে পেসার তাসকিন আহমেদ ব্যাটিং ব্যর্থতাকে হারের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করে জানান, বোলিং বিভাগে কিছুটা ধারাবাহিকতা দেখা গেলেও ব্যাটাররা নিয়মিত ভুল করে চলেছেন।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১০ ওভারে ৪৪ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে তাসকিন দলের সেরা বোলার ছিলেন। তবে ইনিংসে তাঁর বোলিংয়ের চিত্র ছিল দ্বিমুখী। নতুন বলে প্রথম স্পেলে ৬ ওভার বোলিং করে ২ মেডেনসহ মাত্র ১৮ রানে ৩টি উইকেট শিকার করেন তিনি। অথচ ডেথ ওভারে তাঁর করা দুই ওভারে ওঠে ১৯ রান, যার মধ্যে একটি ওভারে ১০ এবং অন্যটিতে ৯ রান আসলেও কোনো উইকেট মেলেনি। একই ম্যাচে কাটার মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমানও ডেথ ওভারের ৩ ওভারে ২৪ রান দিয়ে কোনো উইকেট পাননি, যদিও ইনিংসের এই অংশেই তাঁর সেরাটা দেওয়ার কথা ছিল।

গত বছরের জুলাই মাসে ওয়ানডেতে ব্যবহৃত সাদা বলের নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তন আনে আইসিসি। নতুন কাঠামো অনুযায়ী, ইনিংসের প্রথম ৩৪ ওভার দুই প্রান্ত থেকে দুটি আলাদা বল ব্যবহার করা হয়। এরপর অধিনায়কের পছন্দে যেকোনো একটি বল দিয়ে বাকি ১৬ ওভার খেলা চালানো হয়। অধিনায়ক সাধারণত বেশি পুরোনো ও খসখসে বলটি বেছে নেন, কারণ সেটি রিভার্স সুইংয়ের জন্য বেশি কার্যকর। পরিসংখ্যান বিশ্লেষণকারী সংস্থা ক্রিকভিজের তথ্য মতে, এই পরিবর্তনের পর পেসাররা শেষ দিকে আগের চেয়ে বেশি সুইং পাচ্ছেন, যা ব্যাটারদের রান তোলাকে কঠিন করে তুলেছে।

ক্রিকভিজের তথ্য অনুযায়ী, নতুন নিয়ম চালুর পর ডেথ ওভারে বলের সুইং সবচেয়ে বেশি বেড়েছে যেসব পেসারের, সেই তালিকায় প্রথম চারজনের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশের মোস্তাফিজুর রহমান ও তাসকিন আহমেদ। মোস্তাফিজের বোলিংয়ে সুইং বেড়েছে ৪৯.৫ শতাংশ, তবে ডেথ ওভারে তাঁর বোলিং গড় ৫.৩ এবং ইকোনমি রেট ০.৯ বেড়ে গেছে। তাসকিনের ক্ষেত্রে সুইং ৪০.৮ শতাংশ বাড়লেও বোলিং গড় ১.৯ ও ইকোনমি ১.৬ বৃদ্ধি পেয়েছে। অর্থাৎ সুইং বাড়লেও দুই পেসারই উইকেট পেতে বেশি রান খরচ করছেন।

অন্যান্য দেশের পেসারদের সঙ্গে তুলনা করলে চিত্রটি আরও স্পষ্ট হয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের আলজারি জোসেফের সুইং ৮৩.৬ শতাংশ বাড়ার পাশাপাশি বোলিং গড় কমেছে ৬.৭ এবং ইকোনমি অপরিবর্তিত রয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার লুঙ্গি এনগিডির সুইং ৬৩.৩ শতাংশ বেড়েছে, আর তাঁর বোলিং গড় ১০.৬ ও ইকোনমি ৩.৩ কমেছে। পাকিস্তানের নাসিম শাহর সুইং ৩৮ শতাংশ বাড়লেও বোলিং গড় ১৯.২ এবং ইকোনমি ১.৬ কমেছে। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার নাথান এলিসের সুইং ৩৯.৯ শতাংশ কমলেও বোলিং গড় কমেছে ৬১। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শুধু বল সুইং করানোই যথেষ্ট নয়, তা কাজে লাগিয়ে রান আটকানো ও উইকেট নেওয়ার দক্ষতায় পিছিয়ে রয়েছেন বাংলাদেশের বোলাররা।

বোলিংয়ের চেয়েও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে ব্যাটিংয়ের পারফরম্যান্স। ওয়ানডেতে ইনিংসের শেষ ১০ ওভারকে রান সংগ্রহের মূল সময় ধরা হলেও পুরোনো বলের রিভার্স সুইং ও মুভমেন্ট বাড়ায় এই সময়ে রান তোলা কঠিন হয়ে পড়েছে। নতুন নিয়ম চালুর আগে ডেথ ওভারে বাংলাদেশের রানরেট ছিল ৭.৮৪, অর্থাৎ শেষ ১০ ওভারে গড়ে প্রায় ৭৮ রান উঠত। নতুন নিয়মের পর সেই রানরেট ১.২৮ কমে দাঁড়িয়েছে ৬.৫৬-তে, ফলে শেষ ১০ ওভারে গড় সংগ্রহ নেমে এসেছে ৬৬ রানে।

ডেথ ওভারে রানরেট কমার দিক থেকে বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বে চতুর্থ স্থানে রয়েছে। বাংলাদেশের চেয়ে বেশি রানরেট কমেছে শুধু ওয়েস্ট ইন্ডিজ (১০.৩১ থেকে কমে ৭.৯২; পতন ২.৩৯), নিউজিল্যান্ড (পতন ১.৬৮) ও অস্ট্রেলিয়ার (পতন ১.৪৭)। তবে বিপরীত চিত্রও রয়েছে; ভারতের রানরেট ৬.৯৯ থেকে বেড়ে ৮.৩৩ হয়েছে (ওভারপ্রতি ১.৩৪ বেশি) এবং ইংল্যান্ডের রানরেট ৮.০৭ থেকে বেড়ে ৯.১৬ হয়েছে। পাওয়ার হিটিংয়ে আগেই পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশের জন্য শেষ ওভারগুলোর এই পতন বড় উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ায়। দক্ষিণ আফ্রিকার উইকেটে বাউন্সের পাশাপাশি ইনিংসের শেষ দিকে এমনিতেই বল বেশি সুইং করে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটিতে ডেথ ওভারে গড় রানরেট ৭.৩৫ হলেও নতুন নিয়মে রিভার্স সুইং যুক্ত হওয়ায় শেষ ১০ ওভারে বড় শট খেলা আরও দুঃসাধ্য হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ইনিংসের ২০ থেকে ৪০ ওভারের মধ্যবর্তী সময়ে রান তোলার গতি বাড়ানোর নতুন কৌশল গ্রহণ করা প্রয়োজন হয়ে পড়তে পারে। বিশ্বকাপের আগে হাতে থাকা সময়টুকুর মধ্যে তাসকিন-মোস্তাফিজদের সুইং কার্যকর করা এবং ব্যাটারদের রিভার্স সুইং সামলানোর নতুন কৌশল আয়ত্ত করার চ্যালেঞ্জ রয়েছে বাংলাদেশের সামনে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

Recent Posts

১৩০ বছর বয়সে হজ করা আলজেরিয়ার প্রবীণ নারী আর নেই

১৩০ বছর বয়সে পবিত্র হজ পালন করে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসা আলজেরিয়ার প্রবীণ নারী হাজ্জা সারহুদা…

1 minute ago

ইসলামপুর প্রেসক্লাবে সংবর্ধিত ডেইলি বাংলাদেশের সম্পাদক শাহিদুর রহমান শাহিদ

জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল ডেইলি বাংলাদেশের সম্পাদক শাহিদুর রহমান শাহিদকে ইসলামপুর প্রেসক্লাবে আনুষ্ঠানিকভাবে সংবর্ধনা জানানো…

17 minutes ago

রাশিয়ার যুদ্ধে প্রাণ হারালেন কুমিল্লার চান্দিনার যুবক সাগর

দালালের প্রলোভনে রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে চাকরি নিতে গিয়ে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছেন কুমিল্লার চান্দিনার যুবক মো.…

20 minutes ago

ইসরাইলি সেনাবাহিনীতে সামরিক দায়িত্ব এড়াতে পলাতক ১ লাখ ১০ হাজার

ইসরাইলি সেনাবাহিনীতে সামরিক দায়িত্ব থেকে পালিয়ে বেড়ানো ইহুদিদের সংখ্যা বর্তমানে ১ লাখ ১০ হাজারে পৌঁছেছে,…

1 hour ago

জীবননগরে নিখোঁজ ভ্যানচালকের মস্তকবিহীন লাশ উদ্ধার

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে এক মাস ধরে নিখোঁজ থাকার পর চান মিঞা নামে এক ভ্যানচালকের মস্তকবিহীন লাশ…

1 hour ago

এলডিসি উত্তরণ তিন বছর পেছানোর সিদ্ধান্ত অক্টোবরেই পাওয়ার আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর

স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ তিন বছর পেছানোর বিষয়ে চলতি অক্টোবরের মধ্যেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত…

1 hour ago

This website uses cookies.