ডারউইন টেস্টের তৃতীয় দিনে প্রথম ইনিংসে ২২৮ রানে পিছিয়ে পড়ে চরম সংকটে পড়েছে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া। এই বিশাল ব্যবধান পেরিয়ে ম্যাচ বাঁচানো বা জেতা অস্ট্রেলিয়ার জন্য একরকম অসম্ভব এক ইতিহাস গড়ার মতোই। ক্রিকেট গৌরবময় অনিশ্চয়তার খেলা হলেও পরিসংখ্যান ও সাবেক ক্রিকেটারদের বিশ্লেষণ বলছে, নাজমুল হোসেন শান্তর দলের বিপক্ষে এবার বড় পরীক্ষায় পড়তে যাচ্ছে ক্রিকেট বিশ্বের শীর্ষ দলটি।
ঘরের মাঠে প্রথম ইনিংসে এত বড় রানের ঘাটতি কাটিয়ে জয়ের কোনো রেকর্ড নেই অস্ট্রেলিয়ার। তাদের নিজেদের টেস্ট ইতিহাস বলছে, ২০১০ সালে সিডনিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ২০৬ রানে পিছিয়ে থেকেও ম্যাচ জিতেছিল তারা, যা ঘরের মাঠে তাদের সর্বোচ্চ ঘাটতি কাটিয়ে জয়ের রেকর্ড। তবে ঘরের বাইরে ১৯৯২ সালে কলম্বো টেস্টে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ২৯১ রানের ঘাটতি পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত ১৬ রানে জিতেছিল অ্যালান বোর্ডারের অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশের সমর্থকদের জন্য আশাব্যাঞ্জক এক অতীত স্মৃতি রয়েছে ২০০৬ সালের ফতুল্লা টেস্টে। সেবার নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৪২৭ রান তুলে অস্ট্রেলিয়াকে ২৬৯ রানে অলআউট করে ১৫৮ রানের লিড পেয়েছিল বাংলাদেশ, যদিও শেষ পর্যন্ত ৩ উইকেটে জিতেছিল অস্ট্রেলিয়াই। তবে এবার বাংলাদেশের লিড ২২৮ রানের, যা অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং।
অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যম ‘এবিসি’র ক্রিকেট বিশ্লেষক রিক ফিনলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, টেস্ট ইতিহাসে ২০০ বা তার বেশি রানের লিড নেওয়া দলগুলোর জয়ের হার ৮০.৬ শতাংশ। ১৮.৩ শতাংশ ম্যাচ ড্র হয়েছে এবং পিছিয়ে পড়া দল জিতেছে মাত্র ১.১ শতাংশ ম্যাচে। আর অস্ট্রেলিয়া নিজেরা ২০০-এর বেশি রানে পিছিয়ে পড়ে ৮২ বারের মধ্যে জিতেছে মাত্র ৩ বার, যা শতাংশের হিসাবে মাত্র ৩.৬৫।
এই কঠিন পরিস্থিতিতে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং মানসিকতা নিয়ে চ্যানেল সেভেনকে সাবেক ওপেনার ও ধারাভাষ্যকার ম্যাথু হেইডেন বলেন, দল যখন ২২০ বা ২২৮ রানে পিছিয়ে পড়ে, তখন ব্যাটিং ইউনিটের মানসিকতা পুরোপুরি বদলে যায়। তখন কেবল টিকে থাকার লড়াই চলে, জেতার চিন্তা আর মাথায় থাকে না। তিনি এটিকে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের জন্য এক বড় সংকট হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তারা কখনোই এমন পরিস্থিতিতে পড়তে পছন্দ করেন না।
অন্যদিকে, সাবেক ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার মনে করেন ডারউইন টেস্টে হার এড়াতে অস্ট্রেলিয়াকে কমপক্ষে ১২৫ থেকে ১৫০ ওভার ব্যাট করতে হবে এবং স্কোরবোর্ডে অন্তত ৫০০ থেকে ৫৫০ রান তুলতে হবে। কায়ো স্পোর্টসকে ওয়ার্নার বলেন, ড্র-ই একমাত্র পথ হতে পারে, তবে তারা ড্রয়ের জন্য খেলবে না। তিনি আরও যোগ করেন, বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি স্টিভ স্মিথ ও ট্রাভিস হেড। এই দুজনকে আউট করতে পারলে স্বাগতিকেরা কঠিন বিপদে পড়বে।
প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ১১ ওভার শেষে ২ উইকেটে ৩৮ রান তুলেছে অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশ এখনো ১৯০ রানে এগিয়ে রয়েছে। ইতিমধ্যে আউট হয়েছেন জেক ওয়েদারাল্ড ও ট্রাভিস হেড। ক্রিজে আছেন স্টিভ স্মিথ ও মারনাস লাবুশেন। এর আগে অবশ্য লাবুশেনকে বোল্ড করেছিলেন স্পিনার তাইজুল ইসলাম। নাজমুল হোসেনের দল যদি নিজেদের কাজগুলো ঠিকঠাক করতে পারে, তবে টেস্ট ক্রিকেটে অন্যতম এক চমকপ্রদ ফল উপহার দিতে পারে বাংলাদেশ।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের পরিচালনা পর্ষদের ২০২৭ সালের সভাপতি হিসেবে পাকিস্তানের নাম…
সিরাজগঞ্জের চলনবিলের বুকজুড়ে ছড়িয়ে থাকা প্রায় দেড়শ বছরের পুরোনো চৌধুরীবাড়ি জামে মসজিদ এবং পাঁচশ বছরের…
রাজধানীর গুলশান-২ এলাকায় সেভেনটি এইট রেস্টহাউজ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে ২৪৪ লিটার অবৈধ বিদেশি…
কুমিল্লার ১৮টি থানা ও গোয়েন্দা পুলিশের যৌথ অভিযানে রাতভর তল্লাশি চালিয়ে কিশোর গ্যাংয়ের ৫১৯ সদস্যকে…
মাদারীপুরের শিবচরে নামাজ শেষে বাজারে যাওয়ার পথে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় শহিদুল ইসলাম (৬০) নামে উপজেলা বিএনপির…
রাজধানীর গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং যানজট কমাতে ছয়টি রুটে একক কোম্পানির অধীনে বাস চালানোর সিদ্ধান্ত…
This website uses cookies.