Header Premium (728×90)

Categories: বিজ্ঞান

ভারত মহাসাগরের তলদেশে বিশ্বের প্রাচীনতম তিমির কবরস্থান আবিষ্কার

ভারত মহাসাগরের তলদেশে বিশ্বের সবচেয়ে বড়, গভীর এবং প্রাচীন তিমির কবরস্থানের সন্ধান পেয়েছেন চীনের বিজ্ঞানীরা। অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিমে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭ হাজার মিটার গভীরে চালানো অভিযানে প্রায় ৫০০টি তিমির কঙ্কাল শনাক্ত করা হয়েছে। গবেষকদের মতে, এসব কঙ্কালের মধ্যে কিছু ৫৩ লাখ বছরেরও বেশি পুরনো। আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী 'নেচার'-এ প্রকাশিত এই গবেষণাকে সামুদ্রিক জীববিজ্ঞানের পাশাপাশি তিমির বিবর্তন ও গভীর সমুদ্রের প্রাণবৈচিত্র্য বোঝার ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

চীনা একাডেমি অব সায়েন্সেসের বিজ্ঞানী শিয়াওতং পেংয়ের নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণায় ২০২৩ সালে 'ফেনদৌঝে' নামের গভীর সমুদ্রগামী ডুবোজাহাজ ব্যবহার করা হয়। ডুবোজাহাজটি ৩২টি অভিযানে রোবটিক বাহুর মাধ্যমে নমুনা সংগ্রহ করেছে। শিয়াওতং পেং জানান, সমুদ্রের তলদেশে একের পর এক তিমির কঙ্কাল দেখে তারা বিস্মিত হয়েছিলেন, কারণ এত বিশাল পরিসরে কবরস্থানের অস্তিত্ব তাদের কল্পনার বাইরে ছিল। ভারত মহাসাগরের প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে থাকা এসব কঙ্কালের বেশিরভাগই বিকড হোয়েল বা ঠোঁটওয়ালা তিমি। এছাড়া বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া নতুন একটি তিমির প্রজাতিও সেখানে পাওয়া গেছে।

বিজ্ঞানীরা এই এলাকাটিকে 'ডায়ামান্টিনা জোন' হিসেবে চিহ্নিত করেছেন এবং ধারণা করছেন, এখানে মোট এক কোটিরও বেশি তিমির মৃতদেহ থাকতে পারে। গবেষক পেং ঝৌয়ের মতে, সমুদ্রের হিমশীতল ও অন্ধকার পরিবেশে এমন প্রাণবন্ত বাস্তুতন্ত্র দেখা জীবনের এক বিস্ময়কর অভিজ্ঞতা। মৃত তিমিগুলো সমুদ্রের তলদেশে 'হোয়েল ফল' বা তিমির পতন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গভীর সমুদ্রের প্রাণীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদী খাদ্যের উৎস হিসেবে কাজ করছে। সেখানে জেলিফিশ, কৃমি, শামুক, চিংড়ি, ব্রিটল স্টার ও মোলাস্কসহ এমন অনেক প্রাণীর দেখা মিলেছে, যা বিজ্ঞানীদের কাছে নতুন।

গবেষকদের ধারণা, এই এলাকায় বিপুল সংখ্যক কঙ্কাল জমার পেছনে সমুদ্রের তলদেশের ভি-আকৃতির খাদ এবং তিমিদের খাদ্য সংগ্রহের প্রবণতা ভূমিকা রেখেছে। এছাড়া মৃত তিমির দেহে থাকা প্রায় ৬৭ লাখ টন কার্বন সমুদ্রের তলদেশে আটকে রয়েছে, যা জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় প্রাকৃতিকভাবে কার্বন সংরক্ষণের একটি বড় উদাহরণ। হাওয়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্রবিজ্ঞানী ক্রেইগ স্মিথ এই আবিষ্কারকে অত্যন্ত রোমাঞ্চকর বলে অভিহিত করেছেন। তবে ফ্লোরিডা স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষক অ্যামি ব্যাকো-টেলর মনে করেন, একটি নির্দিষ্ট এলাকায় কেন এত বিপুল সংখ্যক তিমি মারা গেছে, তা এখনো রহস্যময়। ভবিষ্যতে আরও অভিযানের মাধ্যমে বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তেও এমন কবরস্থানের সন্ধান পাওয়ার আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্রবিজ্ঞানী ক্রেইগ স্মিথ, যিনি ১৯৮৭ সালে বিশ্বের প্রথম ‘হোয়েল ফল’ শনাক্ত করেছিলেন, এই আবিষ্কারকে “অত্যন্ত রোমাঞ্চকর” বলে মন্তব্য করেছেন। তার মতে, এটি তিমির বিবর্তন এবং কোটি কোটি বছর ধরে তাদের বিস্তৃতি সম্পর্কে নতুন তথ্য জানার সুযোগ তৈরি করবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin

Recent Posts

টি-টোয়েন্টি র‍্যাংকিংয়ে শীর্ষে পাকিস্তানের আবরার, পেছনে ফেললেন রশিদকে

পাকিস্তানের লেগ স্পিনার আবরার আহমেদ প্রথমবারের মতো আইসিসি টি-টোয়েন্টি বোলারদের র‍্যাংকিংয়ে শীর্ষে উঠেছেন। তিনি আফগানিস্তানের…

34 minutes ago

টানা সাত দিন কমল বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম

আন্তর্জাতিক বাজারে টানা সাত দিন ধরে জ্বালানি তেলের দাম কমছে। ব্রেন্ট ক্রুড ও ডব্লিউটিআই ক্রুডের…

40 minutes ago

মহানবী (সা.)-এর ইনসাফ: মানবজাতির জন্য অনুপম আদর্শ

মানবজাতির জন্য ন্যায় ও সাম্য প্রতিষ্ঠার এক অনুপম আদর্শ হিসেবে মহানবী মুহাম্মাদ (সা.)-এর জীবনকে তুলে…

44 minutes ago

মুকসুদপুরে পৃথক স্থান থেকে নারীসহ দুইজনের মরদেহ উদ্ধার

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায় পৃথক স্থান থেকে এক নারীসহ দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার সন্ধ্যায়…

1 hour ago

ইউপি নির্বাচনে প্রার্থীদের জামানত ৫ গুণ বাড়ালো ইসি

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে চেয়ারম্যান ও সদস্য পদের প্রার্থীদের জামানত পাঁচ গুণ বাড়িয়ে চূড়ান্ত গেজেট…

2 hours ago

মেসির বিদায়ী ম্যাচের টিকিট বিক্রির নতুন সময়সূচি ঘোষণা

লিওনেল মেসির বিদায়ী ম্যাচের টিকিট বিক্রির সময়সূচি দুই দিন পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। নতুন সময় অনুযায়ী…

2 hours ago

This website uses cookies.